জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
শিক্ষা সফরে রনি ও তার বন্ধুরা বাংলাদেশের দুটি বনাঞ্চল দেখল। বন-ক এর বৃক্ষের মধ্যে একটি প্রজাতি প্রায় ৯৮ ভাগ জুড়ে আছে; শীতকালে এ বনের গাছের পাতা ঝরে যায়, মাটি লালচে এবং বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম। বন-খ চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত অনেক বেশি, মাটিতে হিউমাস প্রচুর, বন ঘন এবং অধিকাংশ উদ্ভিদ সারা বছর সবুজ থাকে।
- ক)(1)
সোয়াম্প ফরেস্ট কী?
- খ)(2)
শালবনকে গজারী বন বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বন-ক এর বৈশিষ্ট্য, প্রধান উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বন-ক ও বন-খ এর পরিবেশগত পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিঠাপানি বা স্বাদুপানির জলাশয় দ্বারা জলাবদ্ধ বনকে সোয়াম্প ফরেস্ট বলে। যেমন সিলেটের রাতারগুল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শালবনের মূল শালবৃক্ষগুলোর অধিকাংশ বর্তমানে কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা মূল বৃক্ষের গোড়া থেকে গজানো চারা থেকে বর্তমান বনটি সৃষ্টি হয়েছে। গোড়া থেকে চারা গজানো বা গজিয়ে ওঠার কারণে এ বনের আরেক নাম গজারী বন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বন-ক হলো পত্রঝরা বা পর্ণমোচী বন (শালবন)। বৈশিষ্ট্য: ১. বসন্তে নতুন পাতা গজায় এবং শীতে সব গাছের পাতা একসাথে ঝরে যায়। ২. বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম (১২৫-১৭৫ সেমি), তাই বাতাসের আর্দ্রতা কম। ৩. আয়রন অক্সাইড বেশি থাকায় মাটি লাল বা হলুদাভ ও অ্যাসিডিক। ৪. বন তুলনামূলক কম ঘন। ৫. উঁচু ‘চালা’ ও নিচু ‘বাইদ’ জমি আছে; চালায় বন, বাইদে ধান চাষ হয়। প্রধান উদ্ভিদ: শাল (Shorea robusta); এছাড়া চালতা, কড়ই, কুম্ভী, বহেরা, কুরচি। প্রধান প্রাণী: মায়া হরিণ, বানর, মুখপোড়া হনুমান, শেয়াল, বুনো শূকর, সজারু, খাটাস, মেছো বিড়াল ইত্যাদি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বন-ক পত্রঝরা বন এবং বন-খ চিরসবুজ ও অর্ধ-চিরসবুজ বন। এদের পরিবেশগত পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা: বন-ক এ বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১২৫-১৭৫ সেমি, তাই বাতাসের আর্দ্রতা কম। বন-খ এ বৃষ্টিপাত ২২৫-৫০০ সেমি, ফলে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে। ২. মাটি: বন-ক এর মাটি লৌহের আধিক্যে লাল বা হলুদাভ, বর্ষায় কর্দমাক্ত ও শীতে শুকনো। বন-খ এর মাটিতে হিউমাস বেশি এবং মাটি অম্লীয়। ৩. পত্রপতন: বন-ক এর গাছ শীতে একসাথে পাতা ঝরায়; বন-খ এর অধিকাংশ উদ্ভিদ চিরসবুজ। ৪. ঘনত্ব: বন-ক তুলনামূলক কম ঘন; বন-খ অপেক্ষাকৃত ঘন। ৫. অবস্থান ও ভূমিরূপ: বন-ক ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বরেন্দ্র অঞ্চলে অবস্থিত ও এতে চালা-বাইদ আছে; বন-খ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের ছোট ছোট পাহাড় ও খাদযুক্ত অঞ্চলে অবস্থিত। ৬. প্রধান উদ্ভিদ: বন-ক এ শাল প্রধান; বন-খ এ সিভিট, গর্জন, চন্দুল, নাগেশ্বর ইত্যাদি। এসব পার্থক্য মূলত বৃষ্টিপাত ও মাটির ভিন্নতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও