‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • ই-গভর্নেন্স ও সুশাসন

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

'M' দেশের সরকার জনগণকে ডিজিটাল সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট আইন বা নীতিমালা তৈরি হয়নি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল এবং সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ কম্পিউটার পরিচালনায় অদক্ষ। সম্প্রতি একটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনার পর অনেক নাগরিক অনলাইন সেবা নিতে ভয় পাচ্ছে।

  1. ক)

    সাইবার আক্রমণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ই-গভর্নেন্সকে ব্যয়বহুল ব্যবস্থা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'M' দেশে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় কোন কোন প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'M' দেশে ই-গভর্নেন্সের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য সরকারের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাহায্যে ব্যক্তিগত বা রাষ্ট্রীয় তথ্যের পরিবর্তন ঘটানো কিংবা জাতীয় অবকাঠামো পরিচালনার কম্পিউটার সিস্টেমকে নষ্ট বা বন্ধ করে দেওয়াকে সাইবার আক্রমণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার জন্য কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সার্ভার, ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এর সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যয়ও যুক্ত হয়। ফলে অনেক দরিদ্র ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পক্ষে এটি চালু করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই ই-গভর্নেন্সকে ব্যয়বহুল বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'M' দেশে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় বৈধ আইনি কাঠামোর অভাব, নিম্নমানের ইন্টারনেট কভারেজ, আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের অভাব এবং সাইবার আক্রমণের সম্ভাবনা— এই প্রতিবন্ধকতাগুলো বিদ্যমান।

    আইনি কাঠামো ছাড়া ই-গভর্নেন্সের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় না। উদ্দীপকে 'M' দেশে সুস্পষ্ট আইন বা নীতিমালা নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হওয়ায় সরকারি সেবা সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। কর্মকর্তাদের কম্পিউটার পরিচালনায় অদক্ষতা আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবকে নির্দেশ করে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে তথ্য ফাঁস হওয়া সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিরই প্রমাণ। এসব কারণে 'M' দেশে ই-গভর্নেন্স কার্যকর হতে পারছে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'M' দেশে ই-গভর্নেন্সের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারকে সুচিন্তিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বৈধ আইনি কাঠামো তৈরি: ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। কাঠামো ছাড়া ডিজিটাল সেবার পরিকল্পনা কার্যকর করা সম্ভব নয়।
    ২. উন্নতমানের ইন্টারনেট কভারেজ ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো: প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মানসম্মত ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকারি সেবা সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে।
    ৩. আইসিটি বিশেষজ্ঞ তৈরি ও প্রশিক্ষণ: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
    ৪. সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ: ওয়েবসাইট হ্যাকের মতো ঘটনা ঠেকাতে সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধের আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
    ৫. জনসচেতনতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা: নাগরিকদের আইসিটি সম্পর্কে সচেতন করা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি থাকা জরুরি।

    এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে 'M' দেশের নাগরিকদের আস্থা ফিরে আসবে এবং ই-গভর্নেন্স কার্যকর হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও