সাহিত্য পাঠ • সাহিত্যে খেলা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

রাকিব একজন জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক। পাঠকের হাততালি আর বইয়ের বিক্রির কথা ভেবে তিনি প্রতিটি উপন্যাসেই রগরগে প্রেম ও মারামারির দৃশ্য জুড়ে দেন। তাঁর বন্ধু সুমন কবিতা লেখে কেবল মনের আনন্দে; ছাপা হবে কি না বা কেউ পড়বে কি না, তা সে ভাবে না। তবে সুমনের কবিতা বন্ধুদের শোনালে সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়।

  1. ক)

    ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে লেখকের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    “পাঠক সমাজ যে খেলনা আজ আদর করে, কাল সেটিকে ভেঙে ফেলে।”— কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রাকিব ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত কোন ধরনের লেখকের প্রতিনিধিত্ব করে? কারণসহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সুমনের সাহিত্যচর্চা ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের সাহিত্যাদর্শের সঙ্গে কতখানি সংগতিপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে লেখকের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য তৈরি সাহিত্য মূলত সাময়িক খেলনার মতো, যার আবেদন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। লেখক ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে বলেছেন, সমাজের রুচি ও চাহিদা সবসময় বদলায়। আজ যে জিনিস পাঠককে খুশি করে, নতুনত্বের মোহ কেটে গেলে কাল তা আর আকর্ষণ করে না। তখন পাঠক সেটিকে ফেলে দেয়। তাই মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে রচিত সাহিত্য স্থায়ী মূল্য পায় না। উক্তিটিতে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রাকিব ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সেই লেখকের প্রতিনিধিত্ব করে, যিনি নিজে খেলা না করে পরের জন্য খেলনা তৈরি করতে বসেন। প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়; এ পার্থক্য ভুলে গেলেই লেখকেরা পাঠকের চাহিদা মেটানোর জন্য খেলনা গড়তে থাকেন। উদ্দীপকের রাকিব পাঠকের হাততালি ও বই বিক্রির কথা ভেবে উপন্যাসে রগরগে প্রেম ও মারামারি যোগ করেন। অর্থাৎ তাঁর লেখার চালিকাশক্তি সৃষ্টির স্ফূর্তি নয়, বরং পাঠকের মনোরঞ্জন ও বাজারের চাহিদা। প্রবন্ধে এমন লেখকের কথাই বলা হয়েছে, যাঁর হাতে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে সস্তা খেলনায় পরিণত হয়। তাই রাকিব প্রবন্ধে বর্ণিত পাঠকের জন্য খেলনা-নির্মাতা লেখকেরই প্রতিনিধি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সুমনের সাহিত্যচর্চা ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের সাহিত্যাদর্শের সঙ্গে প্রায় পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। প্রমথ চৌধুরীর মতে সাহিত্য সৃষ্টির মূল অন্তরের স্ফূর্তি আর তার ফল আনন্দ। যে লেখক কোনো কার্য-উদ্ধারের অভিপ্রায়ে কলম ধরেন, তিনি সাহিত্যের মর্ম বোঝেন না। সুমন কবিতা লেখে কেবল মনের আনন্দে; ছাপা হওয়া বা পাঠকের পছন্দ-অপছন্দের হিসাব সে করে না। এটি প্রবন্ধে বর্ণিত নিষ্কাম ও উদ্দেশ্যহীন খেলার মনোভাবের সঙ্গে মিলে যায়। আবার প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আনন্দের ধর্মই সংক্রামক হওয়া। সুমনের কবিতা শুনে বন্ধুরা মুগ্ধ হয়, যা প্রমাণ করে নিছক আনন্দের তাগিদে সৃষ্ট লেখাও অন্যের মনে আনন্দ সঞ্চারিত করে। রামায়ণের কথা বলতে গিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, শিক্ষা বা মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্য ছাড়া রচিত কাব্যেই মহর্ষিরা আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন। তবে প্রবন্ধে সাহিত্যিককে ‘সামাজিক জীব’ বলা হয়েছে, যিনি বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতান। সুমন তার লেখা বন্ধুদের শোনায়, ফলে সে-দিকটিও আংশিক রক্ষিত হয়েছে। সুতরাং সুমনের চর্চা প্রবন্ধের আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও