তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
একটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাজিরা এখনো খাতায় লেখা হয়। একজন অভিভাবক জানতে চাইলেন তাঁর সন্তান গত তিন মাসে কত দিন উপস্থিত ছিল। এজন্য শিক্ষকদের গত তিন মাসের হাজিরা খাতা বের করে ঘেঁটে দেখতে হলো এবং অনেক সময় লাগল। অন্য একটি স্কুলের শিক্ষক জাহিদ একটি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের হাজিরার ডেটা লিখে কাজ করছিলেন এবং ফাইলে সংরক্ষণ করেননি। হঠাৎ কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব ডেটা হারিয়ে গেল।
- ক)(1)
ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কী?
- খ)(2)
তথ্য সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী মেমোরি ব্যবহার করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জাহিদের ডেটা হারিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো এবং এ সমস্যা এড়ানোর উপায় লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রথম স্কুলের সমস্যা সমাধানে ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কতটা কার্যকর হবে বিশ্লেষণ করো। খাতা-কলম ও শুধু ফাইলে ডেটা রাখার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এমন এক ধরনের সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারী এবং ডেটাবেজের মধ্যে ইন্টারফেস হিসেবে কাজ করে এবং ডেটাবেজকে ঠিকমতো পরিচালনা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কম্পিউটারের প্রোগ্রাম কোনো ডেটা নিয়ে কাজ করার সময় ডেটা অস্থায়ী মেমোরি র্যামে (RAM) লোড করে। কম্পিউটার বন্ধ হয়ে গেলে র্যাম থেকে ডেটা মুছে যায়, আবার প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিলেও প্রোগ্রাম র্যামের ডেটার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তাই যে তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, তা হার্ড ডিস্কের মতো স্থায়ী মেমোরিতে ফাইল আকারে সংরক্ষণ করা হয়। এতে কম্পিউটার বন্ধ করে আবার চালু করলেও তথ্য ফিরে পাওয়া যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাহিদ প্রোগ্রামে হাজিরার ডেটা নিয়ে কাজ করছিলেন। প্রোগ্রাম ডেটা নিয়ে কাজ করার সময় সেই ডেটা অস্থায়ী মেমোরি র্যামে রাখে। র্যামের বৈশিষ্ট্য হলো কম্পিউটার বন্ধ হয়ে গেলে এর সব ডেটা মুছে যায়। জাহিদ ডেটা হার্ড ডিস্কের মতো স্থায়ী মেমোরিতে ফাইল হিসেবে সংরক্ষণ করেননি। তাই হঠাৎ কম্পিউটার বন্ধ হওয়ায় র্যামের সব ডেটা হারিয়ে গেছে।
এ সমস্যা এড়াতে হলে প্রয়োজনীয় তথ্য কাজ করার সময়ই হার্ড ডিস্কে ফাইল আকারে সেভ করে রাখতে হবে। আরও ভালো উপায় হলো ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা, যেখানে ডেটা স্থায়ীভাবে ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রথম স্কুলে হাজিরা খাতায় লেখা হয়। অভিভাবকের প্রশ্নের উত্তর দিতে শিক্ষকদের গত তিন মাসের খাতা বের করে একটি একটি করে খুঁজে দেখতে হয়েছে, যা খুবই সময়সাপেক্ষ। অভিভাবককেও স্কুলে এসে শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে হয়েছে।
খাতা-কলম পদ্ধতিতে অসংখ্য লেজার বা কাগজের উপর নির্ভর করতে হয়, ফলে তথ্য খোঁজা ও হিসাব করা ধীর এবং কষ্টসাধ্য।
শুধু ফাইলে ডেটা রাখলে প্রতিটি তথ্য পরিবর্তন বা নতুন কোনো কাজ করতে প্রতিবার আলাদা প্রোগ্রাম লিখতে হয়। এটিও ঝামেলাপূর্ণ।
ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে হাজিরার সব তথ্য ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। ডিবিএমএস ব্যবহারকারীর অনুরোধ অনুযায়ী ডেটাবেজের উপর কাজ করে প্রয়োজনীয় ডেটা দেয়। তাই কোনো শিক্ষার্থী গত তিন মাসে কত দিন উপস্থিত ছিল, তা একটি কুয়েরির মাধ্যমে প্রায় এক সেকেন্ডেই বের করা সম্ভব। ডেটা স্থায়ী মেমোরিতে সংরক্ষিত থাকায় কম্পিউটার বন্ধ হলেও হারানোর ভয় থাকে না। কম্পিউটারের তথ্য ধারণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি, ফলে বিপুল তথ্যও দ্রুত সামলানো যায়।
সুতরাং খাতা-কলম বা শুধু ফাইল পদ্ধতির চেয়ে ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অনেক বেশি কার্যকর। স্কুলটির উচিত হাজিরাসহ সব তথ্য ব্যবস্থাপনায় ডিবিএমএস চালু করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও