সাহিত্য পাঠ • ফুল্লরার বারোমাস্যা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

শীতের সকালে কুয়াশায় ঢাকা গ্রামে রহমত মিয়া ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়িয়ে খড়ের আগুনে হাত সেঁকে। তার প্রতিবেশী ধনী কৃষক হাসেম আলী গরম কম্বল ও সোয়েটার পরে সকালে বাজারে যায়। রহমত ভাবে, একই শীত সবার ওপর দিয়ে গেলেও কারও জন্য তা সুখের, কারও জন্য কষ্টের। সে মনে মনে ভাগ্যকে দোষ দেয়।

  1. ক)

    ‘বেঙচেরে ফল’ কী?

    (1)
  2. খ)

    “হরিণী বদলে পাইনু পুরাণ খোসলা।”— ফুল্লরা এ কথা বলেছে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহমত মিয়ার শীতের অভিজ্ঞতায় ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র শীতকালীন বর্ণনার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “‘ফুল্লরার বারোমাসী’তে ফুল্লরা ভাগ্য বা বিধাতাকে দোষ দিলেও দারিদ্র্যের পেছনে অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে।”— উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বেঙচেরে ফল’ হলো বেউচ বা টেক-মিষ্টি জাতীয় বুনো ফল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পউষ মাসের প্রবল শীতে সবাই পাছড়ি (দামি বস্ত্র) প্রভৃতি দিয়ে শীত নিবারণ করে। ফুল্লরার সে সামর্থ্য নেই। সে হরিণের বিনিময়ে একটি পুরনো খোসলা পেয়েছে। কিন্তু সেটিও এত জীর্ণ যে গায়ে দিলে অঙ্গ থেকে ধুলা ঝরে। ফুল্লরার শীতবস্ত্রের এই দীনতা বোঝানোর জন্যই সে কথাটি বলেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহমত মিয়ার শীতের অভিজ্ঞতায় ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র শীতকালীন বর্ণনায় শীতবস্ত্রের অভাবজনিত কষ্ট এবং সমাজে ধনী-গরিবের পার্থক্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। কবিতায় কার্তিক মাসে হিম পড়লে সবাই শীত নিবারণের ব্যবস্থা করে, কিন্তু অভাগী ফুল্লরা পরে হরিণের ছাল। পউষে অন্যরা সুখে থাকলেও সে পুরনো খোসলা গায়ে দেয়, যাতে ধুলা ঝরে। মাঘে কুয়াশায় শিকারের হরিণ দেখা যায় না, ফলে শিকারজীবী পরিবারটির আয়ের পথও সংকুচিত হয়। উদ্দীপকে রহমত মিয়া ছেঁড়া কাঁথা ও খড়ের আগুনে শীত কাটায়, আর হাসেম আলী কম্বল-সোয়েটারে আরামে থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই শীত একই হলেও গরিবের জন্য তা কষ্টের, বিত্তবানদের জন্য নয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যুক্তিসংগত। উদ্দীপকের রহমত মিয়া একই শীতে ধনী প্রতিবেশীর সুখ ও নিজের কষ্টের পার্থক্য দেখে ভাগ্যকে দোষ দেয়। ‘ফুল্লরার বারোমাসী’তেও ফুল্লরা বিধাতার প্রতি আক্ষেপ করে। কার্তিক মাসে সে বলে, বিধাতা সবার জন্য কাপড়ের ব্যবস্থা করেছেন, অথচ সে পরে হরিণের ছাল। অগ্রহায়ণে হাটে-মাঠে সবার ধান থাকে, আর যদি দৈবক্রমে পেট ভরে অন্ন জোটেও, বিধাতা যমের মতো শীত সৃষ্টি করেছেন। এখানে তার দুঃখের কারণ হিসেবে বিধাতার ভূমিকাকেই সামনে আনা হয়েছে। তবে কবিতার বর্ণনা গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, ফুল্লরার দুঃখের মূলে রয়েছে তার অনিশ্চিত আয় ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা। আষাঢ়ের বর্ষায় বড় বড় গৃহস্থেরও সম্বল ফুরিয়ে যায়, তখন মাংসের পসরা নিয়ে ঘরে ঘরে ঘুরেও ফুল্লরা পায় সামান্য খুদ-কুড়া, যাতে পেট ভরে না। আশ্বিনে অন্যরা পূজা-উৎসবে সাজে, আর সে উদরের চিন্তায় অস্থির। সে শিকারজীবী পরিবারের মানুষ, যাদের আয় প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ও অনিশ্চিত। উদ্দীপকেও রহমত ও হাসেমের মধ্যকার পার্থক্য ভাগ্যের নয়, সম্পদের অসমতার ফল। অতএব, দুঃখকে ভাগ্যের ওপর চাপালেও প্রকৃত কারণ অর্থনৈতিক দীনতা ও বৈষম্য, মন্তব্যটি তাই যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও