জীববিজ্ঞান • দৃঢ়তা প্রদান ও চলন
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
৬২ বছর বয়সী সুফিয়া খাতুন দীর্ঘদিন ধরে ঘরের ভেতরেই থাকেন এবং তেমন কায়িক পরিশ্রম করেন না। পাঁচ বছর আগে তাঁর মেনোপজ হয়েছে। সম্প্রতি বাথরুমে সামান্য পিছলে পড়ে গিয়ে তাঁর কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এর আগে থেকেই তিনি পিঠের পেছন দিকে ব্যথা অনুভব করতেন। চিকিৎসক ঘনত্বমাপক যন্ত্রে পরীক্ষা করে বললেন, তাঁর হাড়ের খনিজ পদার্থ কমে গেছে।
- ক)(1)
অস্টিওপোরোসিস কী?
- খ)(2)
মেনোপজের পর নারীদের অস্টিওপোরোসিস হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সামান্য পড়ে গিয়েই সুফিয়া খাতুনের কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সুফিয়া খাতুনের জীবনযাত্রা তাঁর রোগের ঝুঁকি বাড়িয়েছে— বিশ্লেষণ করে রোগটির প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য তোমার পরামর্শ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেহে খনিজ লবণ, বিশেষ করে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে অস্থির ঘনত্ব কমে গিয়ে অস্থি ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার রোগকে অস্টিওপোরোসিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেনোপজ হলো মাসিক চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া। নারীদের মেনোপজ হওয়ার পর থেকে অস্থির ঘনত্ব এবং পুরুত্ব কমতে থাকে। ফলে অস্থি থেকে খনিজ লবণ, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ক্ষয় হওয়ার হার বেড়ে যায় এবং অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এ কারণে মেনোপজের পর নারীদের অস্টিওপোরোসিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুফিয়া খাতুন অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্ত। এ রোগে অস্থির ঘনত্ব কমে গিয়ে অস্থি ভঙ্গুর হয়ে যায়। উদ্দীপকে তাঁর হাড় ভাঙার কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. ক্যালসিয়ামের ঘাটতি: অস্থির দৃঢ়তার জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। দেহে খনিজ লবণ, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম কমে যাওয়ায় তাঁর অস্থি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২. মেনোপজ: পাঁচ বছর আগে মেনোপজ হওয়ার পর থেকে তাঁর অস্থির ঘনত্ব ও পুরুত্ব কমতে শুরু করেছে। ৩. অলস জীবনযাপন: তিনি ঘরের ভেতরে থাকেন এবং কায়িক পরিশ্রম কম করেন। যারা অলস জীবন যাপন করেন তাদের এ রোগের আশঙ্কা বেশি থাকে। এসব কারণে তাঁর অস্থি এতটাই ভঙ্গুর হয়ে গেছে যে সামান্য আঘাতেই কোমরের হাড় ভেঙে গেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুফিয়া খাতুন অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্ত। তাঁর জীবনযাত্রা এ রোগের ঝুঁকি বাড়িয়েছে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. তিনি দীর্ঘদিন ঘরের ভেতরে থাকেন বলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পান না। সূর্যের আলো ত্বকে অবস্থিত কোলেস্টেরলের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটিয়ে ভিটামিন D সংশ্লেষণে সাহায্য করে। ভিটামিন D-এর ঘাটতি হলে অস্থি ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে পারে না। ২. তিনি কায়িক পরিশ্রম কম করেন। অলস জীবনযাপনে অস্থির ক্ষয় বেড়ে যায় এবং এ রোগের আশঙ্কা বাড়ে। ৩. মেনোপজ-পরবর্তী বয়সে অস্থির ঘনত্ব এমনিতেই কমতে থাকে। পরামর্শ: প্রতিকারের জন্য চিকিৎসকের নির্দেশমতো দৈনিক প্রায় 1200 মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। এজন্য ননি তোলা দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য, কমলার রস, সবুজ শাকসবজি ও সয়াদ্রব্য খাওয়া উচিত। প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন যথেষ্ট সময় সূর্যালোকে থাকা, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D সমৃদ্ধ সুষম ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা প্রয়োজন। এভাবে জীবনযাত্রা পরিবর্তন করলে রোগের অবনতি রোধ করা এবং নতুন করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও