বাংলা ১ম পত্র • একুশের গল্প

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

শাহীনের সঙ্গে বন্ধু তারেক একই মেসে থাকত। বন্যার দিন নৌকা উল্টে গেলে তারেক ডুবে মারা যায়, শাহীন সাঁতরে বেঁচে যায়। এরপর বহু বছর কেটে গেছে। শাহীন এখনও বলে, ‘আমরা পাশাপাশিই ছিলাম, অথচ ও চলে গেল আর আমি রয়ে গেলাম।’ তারেকের শূন্য বিছানার দিকে তাকালে আজও তার বুক ভারী হয়ে ওঠে। এদিকে তারেকের জায়গায় মেসে নতুন একজন এসেছে, জীবন আগের মতোই চলছে।

  1. ক)

    তপুর বাঁ পা ডান পায়ের চেয়ে কত ইঞ্চি ছোট ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ‘আমাদের জীবনটা ছিল যান্ত্রিক’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শাহীনের মনোভাবের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’-এর কোন চরিত্রের মনোভাব সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি ‘একুশের গল্প’-এর যে বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়, তা শহিদের স্মৃতির প্রতি আমাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।”—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তপুর বাঁ পা ডান পায়ের চেয়ে প্রায় দুই ইঞ্চি ছোট ছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কথক, তপু ও রাহাতের দৈনন্দিন জীবন ছিল নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা। তারা কাক-ডাকা ভোরে উঠত, চা খেয়ে পড়তে বসত, দশটার দিকে স্নানাহার সেরে ক্লাসে যেত। বিকেলে কিছুটা আমোদ-ফূর্তি করলেও দিনের বড় অংশ একই নিয়মে কাটত। এই একঘেয়ে ও রুটিনবাঁধা জীবনকেই কথক ‘যান্ত্রিক’ বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শাহীনের মনোভাবের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’-এর রাহাতের মনোভাব সাদৃশ্যপূর্ণ। গল্পে তপুর মৃত্যুর পর রাহাত কথকের কানে ফিসফিস করে বলেছিল, তপু না মরে সে মরলেই ভালো হতো। পাশাপাশি থেকেও গুলি লাগল শুধু তপুর কপালে, এই বিস্ময় ও আক্ষেপ কথকের কথায়ও ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে শাহীনও বলে, তারা পাশাপাশি ছিল, অথচ বন্ধু চলে গেল আর সে বেঁচে রইল। বন্ধুর শূন্য বিছানার দিকে তাকিয়ে তার বুক ভারী হয়ে ওঠে। দুজনের মধ্যেই বন্ধুকে হারানোর গভীর বেদনা এবং নিজে বেঁচে যাওয়ার অপরাধবোধ ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ বাক্যে বলা হয়েছে, তারেকের জায়গায় মেসে নতুন একজন এসেছে এবং জীবন আগের মতোই চলছে। এটি ‘একুশের গল্প’-এর জীবন-চলার বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। গল্পে তপু শহিদ হওয়ার পর তার মা কেঁদেছিলেন, কিন্তু চার বছরে তিনি মারা গেছেন। তপুর স্ত্রী রেণু অন্যত্র বিয়ে করেছে। তপুর সিটে একে একে নতুন ছেলেরা এসেছে এবং জীবন নিজের নিয়মে চলছে। অর্থাৎ সময়ের স্রোতে মানুষ শহিদদেরও ভুলে যেতে বসে। কিন্তু গল্পের শেষে তপুর কঙ্কাল আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, শহিদরা বিস্মৃত হয় না; বারবার ফিরে এসে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন তাঁদের আত্মত্যাগের কথা। উদ্দীপকের শাহীনও তারেককে ভুলতে পারেনি। এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন চললেও শহিদের স্মৃতি রক্ষা করা ও তাঁদের ত্যাগকে সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও