‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • ই-গভর্নেন্স ও সুশাসন

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

ঢাকার একটি সিটি করপোরেশন 'নাগরিক সেবা' নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপে নাগরিকরা রাস্তার বাতি নষ্ট, ড্রেন বন্ধ বা আবর্জনা জমে থাকার ছবি তুলে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগের অগ্রগতি অ্যাপেই দেখা যায় এবং সমাধান হলে নাগরিকের মোবাইলে বার্তা আসে। ফলে নাগরিকদের আর অফিসে ঘুরতে হয় না, আবার কর্মকর্তারাও কাজের হিসাব দিতে বাধ্য থাকেন।

  1. ক)

    SMART-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বিমুখী যোগাযোগ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্সের কোন কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাটি কি ই-গভর্নেন্সকে 'SMART' সরকারব্যবস্থায় পরিণত করার উপযোগী? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর SMART-এর পূর্ণরূপ হলো Simple, Moral, Accountable, Responsive ও Transparent।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তাকে দ্বিমুখী যোগাযোগ বলে। এ ব্যবস্থায় তথ্য কেবল এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষে যায় না, বরং উভয় পক্ষ একে অপরকে তথ্য ও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। ই-গভর্নেন্সে সরকার সেবা ও তথ্য জনগণকে জানায়, আবার জনগণও অভিযোগ ও মতামত সরকারকে জানাতে পারে। এতে একাধিক প্রান্তের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয় এবং সময়ও কম লাগে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্সের প্রযুক্তি নির্ভরতা, দ্বিমুখী যোগাযোগ এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে।
    ১. প্রযুক্তি নির্ভরতা: ই-গভর্নেন্স তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। উদ্দীপকে সিটি করপোরেশন মোবাইল অ্যাপ ও মোবাইল বার্তার মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে, যা প্রযুক্তি নির্ভরতার পরিচয়।
    ২. দ্বিমুখী যোগাযোগ: নাগরিকরা অ্যাপে অভিযোগ জানাচ্ছেন এবং করপোরেশনও সমাধানের বার্তা পাঠাচ্ছে। অর্থাৎ নাগরিক ও কর্তৃপক্ষ উভয় দিক থেকেই তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে।
    ৩. তথ্যের অবাধ প্রবাহ: অভিযোগের অগ্রগতি অ্যাপেই দেখা যায়। ফলে নাগরিকরা অফিসে না গিয়েই প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন।
    অতএব, উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্সের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ই-গভর্নেন্সকে 'SMART' সরকারব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করেছেন। এখানে S = Simple (সরল), M = Moral (নৈতিক), A = Accountable (জবাবদিহিমূলক), R = Responsive (সংবেদনশীল) এবং T = Transparent (স্বচ্ছ)। উদ্দীপকের ব্যবস্থাটি এই পাঁচটি বিষয়ের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষণ করা হলো।
    ১. সরল: নাগরিক অ্যাপে ছবি তুলে অভিযোগ জানাতে পারেন, ফলে জটিল নিয়ম ও অফিসে দৌড়ানোর ঝামেলা নেই।
    ২. নৈতিক: অভিযোগ অ্যাপে নথিবদ্ধ থাকে বলে কর্মকর্তারা পক্ষপাত বা ঘুষ-অনিয়মের সুযোগ কম পান।
    ৩. জবাবদিহিমূলক: কর্মকর্তারা কাজের হিসাব দিতে বাধ্য থাকেন, যা জবাবদিহিতার প্রমাণ।
    ৪. সংবেদনশীল: অভিযোগ সমাধান হলে নাগরিকের মোবাইলে বার্তা যায়, অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ নাগরিকের সমস্যায় সাড়া দিচ্ছে।
    ৫. স্বচ্ছ: অভিযোগের অগ্রগতি সবাই দেখতে পায় বলে কাজে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
    সুতরাং, উদ্দীপকের ব্যবস্থাটি SMART সরকারের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যই ধারণ করে। তবে সব নাগরিকের স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকলে এর সুফল সীমিত হতে পারে। তারপরও সার্বিকভাবে ব্যবস্থাটি ই-গভর্নেন্সকে SMART সরকারব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার উপযোগী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও