জীববিজ্ঞান • রেচন প্রক্রিয়া
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
দশম শ্রেণির ছাত্রী রিনা জীববিজ্ঞান ল্যাবে শিমবীজের মতো দেখতে একটি অঙ্গের লম্বচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করল। সে দেখল, অঙ্গটির বাইরের অংশ তন্তুময় আবরণে ঢাকা এবং আবরণ-সংলগ্ন অংশে অসংখ্য সূক্ষ্ম নালিকা রয়েছে। ভেতরের অংশে ৮-১২টি ত্রিকোণাকার গঠনের অগ্রভাগ একটি ফানেল আকৃতির গহ্বরে উন্মুক্ত হয়েছে। গহ্বরটি থেকে একটি লম্বা নালি বের হয়ে গেছে।
- ক)(1)
হাইলাস বা হাইলাম কী?
- খ)(2)
রেনাল ক্যাপসুল বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফানেল আকৃতির গহ্বর থেকে মূত্র কীভাবে দেহের বাইরে বের হয়ে আসে, তা ক্রমানুসারে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অঙ্গটির আবরণ-সংলগ্ন অংশের সূক্ষ্ম নালিকাগুলোকে অঙ্গটির কার্যকরী একক বলা হয় কেন? গঠনের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃক্কের অবতল পার্শ্বের ভাঁজকে হাইলাস বা হাইলাম বলে। এর ভেতর দিয়ে রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে এবং রেনাল শিরা ও ইউরেটার বের হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে। এই আবরণকে রেনাল ক্যাপসুল বলে। এটি বৃক্কের ভেতরের কোমল অংশগুলোকে রক্ষা করে। ক্যাপসুল-সংলগ্ন বাইরের অংশটিই হলো কর্টেক্স।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ফানেল আকৃতির গহ্বরটি হলো রেনাল পেলভিস। নেফ্রনে উৎপন্ন মূত্র সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে রেনাল প্যাপিলা দিয়ে পেলভিসে পৌঁছায়। পেলভিস থেকে মূত্র ইউরেটারে প্রবেশ করে। দুটি বৃক্ক থেকে দুটি ইউরেটার বের হয়ে মূত্রথলিতে মূত্র বহন করে এবং সেখানে মূত্র সাময়িকভাবে জমা থাকে। মূত্রথলি একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত পূর্ণ হলে মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা জাগে। তখন মূত্রথলির নিচের ছিদ্রপথ দিয়ে মূত্রনালির মাধ্যমে মূত্র দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে। অর্থাৎ পথটি হলো: সংগ্রাহী নালিকা, পেলভিস, ইউরেটার, মূত্রথলি, মূত্রনালি, দেহের বাইরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অঙ্গটি হলো বৃক্ক এবং আবরণ-সংলগ্ন অংশের সূক্ষ্ম নালিকাগুলো হলো নেফ্রন। নেফ্রনকে বৃক্কের কার্যকরী একক বলা হয়, কারণ বৃক্কের মূল কাজ মূত্র তৈরি করা এবং তা নেফ্রনেই সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সংখ্যা: প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে। এগুলো একযোগে কাজ করে বলে বৃক্ক ক্রমাগত রক্ত পরিশোধন করতে পারে।
২. গঠন: প্রতিটি নেফ্রন রেনাল করপাসল ও রেনাল টিউবিউল নিয়ে গঠিত। করপাসলের গ্লোমেরুলাস ও বোম্যান্স ক্যাপসুল রক্ত ছেঁকে আল্ট্রাফিলট্রেট তৈরি করে।
৩. কাজ: রেনাল টিউবিউলের নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা, হেনলির লুপ ও প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকায় শোষণ ও নিঃসরণের মাধ্যমে আল্ট্রাফিলট্রেট মূত্রে পরিণত হয়।
৪. মূত্র পরিবহন: নেফ্রনে তৈরি মূত্র সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে রেনাল পেলভিসে পৌঁছায়।
এভাবে বৃক্কের ছাঁকন, শোষণ ও নিঃসরণের সব কাজই নেফ্রনে ঘটে। তাই নেফ্রনই বৃক্কের গঠন ও কাজের একক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও