তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন

একটি ছোট অফিসে ৫টি কম্পিউটার চক্রাকারে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কোনো সার্ভার বা কেন্দ্রীয় ডিভাইস নেই। সম্প্রতি একটি কম্পিউটার অকেজো হয়ে যাওয়ায় বাকি কম্পিউটারগুলোর মধ্যেও ডেটা আদান-প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কম্পিউটার যুক্ত করতে গেলেও পুরো নেটওয়ার্কের কাজ ব্যাহত হয়। ব্যবস্থাপক বললেন, টপোলজি পরিবর্তন করে স্টার করলে আর কোনো সমস্যাই থাকবে না।

  1. ক)

    রিং টপোলজি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    রিং টপোলজিতে ডেটা কলিশন বা সংঘর্ষ হয় না কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে একটি কম্পিউটার অকেজো হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ব্যবস্থাপকের মন্তব্য ‘স্টার টপোলজি করলে আর কোনো সমস্যাই থাকবে না’ – এ উক্তির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে টপোলজিতে কম্পিউটার নোডগুলো চক্রাকার পথে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক গঠন করে, তাকে রিং টপোলজি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রিং টপোলজিতে সংকেত প্রবাহ একমুখী হয়। একটি নোড সংকেত পাঠালে তা পরবর্তী নোডের কাছে যায়। সংকেতটি ঐ নোডের জন্য হলে সে গ্রহণ করে, নইলে পরবর্তী নোডের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এভাবে সংকেত নির্দিষ্ট দিকে ক্রমানুসারে চলে বলে বিপরীত দিক থেকে আসা সংকেতের সাথে সংঘর্ষের সুযোগ থাকে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অফিসে ব্যবহৃত টপোলজি হলো রিং টপোলজি।

    রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার চক্রাকার একমুখী পথে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। একটি কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারকে সরাসরি ডেটা পাঠাতে পারে না, বরং সংকেতকে মাঝের প্রতিটি নোডের ভেতর দিয়ে ক্রমানুসারে যেতে হয়। যে নোড অকার্যকর হয়, সেটি সংকেতকে পরবর্তী নোডের কাছে পাঠাতে পারে না এবং বিকল্প কোনো পথও থাকে না। ফলে চক্রাকার পথটি মাঝপথে ভেঙে যায়। এ কারণেই একটি কম্পিউটার অকেজো হলে পুরো নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে পড়ে। একইভাবে নতুন নোড যুক্ত করতে গেলেও পথ ভাঙতে হয়, তাই কাজ ব্যাহত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্যবস্থাপকের উক্তিটি আংশিক সঠিক, সম্পূর্ণ সঠিক নয়।

    যেসব সমস্যা দূর হবে:
    ১. স্টার টপোলজিতে সব কম্পিউটার হাব বা সুইচের সাথে যুক্ত থাকে। কোনো একটি নোড বিচ্ছিন্ন বা অচল হলেও বাকি নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ সচল থাকে। ফলে উদ্দীপকের মূল সমস্যাটির সমাধান হবে।
    ২. সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক সচল রেখেই যেকোনো সময় নতুন নোড যুক্ত করা যায়।
    ৩. কোনো সমস্যা হলে কেন্দ্রীয় ডিভাইস থেকে তা শনাক্ত করা সহজ হয় এবং সংকেত সংঘর্ষের আশঙ্কা কমে।

    যেসব সমস্যা থেকে যাবে বা নতুন তৈরি হবে:
    ১. হাব বা সুইচ অচল হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে পড়বে।
    ২. প্রতিটি নোডের জন্য আলাদা তার লাগায় বাস্তবায়ন ব্যয় বেশি হবে।
    ৩. কম্পিউটারগুলো পরস্পরের মধ্যে সরাসরি ডেটা আদান-প্রদান করতে পারবে না, কেন্দ্রীয় ডিভাইসের মাধ্যমে করতে হবে।

    অতএব স্টার টপোলজি উদ্দীপকের সমস্যা দূর করলেও কেন্দ্রীয় ডিভাইস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি ও বাড়তি খরচ থাকে। তাই ‘কোনো সমস্যাই থাকবে না’ কথাটি যথার্থ নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও