সাহিত্য পাঠ • আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
কুমার নদের পাড়ের হাশেম মিয়া ভোরে উঠে জমিতে নামেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত খাটেন। জমির পাশের ডোবায় তিনি মাছ চাষ করেন, প্রতিদিন যত্ন করে খাবার দেন। এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে, মাছ বিক্রির টাকায় ছেলেকে কলেজে ভর্তি করেছেন। তাঁর স্ত্রী ছেলের জন্য দিনরাত দোয়া করেন। হাশেম মিয়া বলেন, “মাটি আর পানি কাউকে ঠকায় না।”
- ক)(1)
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
- খ)(2)
“জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা”— বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের হাশেম মিয়ার প্রাপ্তির নেপথ্যে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার কোন দর্শন কাজ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“যে লৌহখণ্ডকে প্রজ্বলিত করে / ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে”— উদ্দীপকের আলোকে কবিতার শেষ অংশের এই বক্তব্যের মর্মার্থ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবির কাছে কবিতা ও সত্য অভিন্ন। মানুষের মুখে উচ্চারিত যে শব্দ সত্যনিষ্ঠ, যার মধ্যে প্রতারণা বা মিথ্যা নেই, সেই শব্দই কবিতা। কবিতা কেবল ছন্দোবদ্ধ পঙ্ক্তি নয়, বরং সত্য উচ্চারণ ও প্রতিবাদের শক্তি। কবি এভাবে কবিতাকে সত্যের প্রতীক হিসেবে দেখেছেন এবং বলতে চেয়েছেন, সত্য উচ্চারণই মুক্তি ও শক্তির উৎস।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাশেম মিয়ার প্রাপ্তির নেপথ্যে কবিতার শ্রম ও পরিচর্যার প্রতিদান সংক্রান্ত দর্শন কাজ করেছে। কবি বলেছেন, “যে কর্ষণ করে / শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে”, “যে মৎস্য লালন করে / প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে” এবং “যে গভীর পরিচর্যা করে / জননীর আশীর্বাদ তাকে দীর্ঘায়ু করবে”। উদ্দীপকে হাশেম মিয়া কঠোর পরিশ্রমে জমি চাষ করেছেন, যত্ন নিয়ে মাছ চাষ করেছেন, ফলে ভালো ফলন পেয়েছেন এবং ছেলেকে কলেজে পড়াতে পেরেছেন। স্ত্রীর দোয়াও কবিতার জননীর আশীর্বাদের কথা মনে করিয়ে দেয়। অর্থাৎ নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রম দিলে তার ফল পাওয়া যায়, কবিতার এই দর্শনই হাশেম মিয়ার জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবিতার শেষ অংশে কবি শ্রম ও পরিচর্যার সঙ্গে প্রাপ্তির সম্পর্কের কথা বলেছেন। প্রথম তিনটি বক্তব্যে কর্ষণ, মৎস্য লালন ও গভীর পরিচর্যার পুরস্কার হিসেবে শস্য, নদীর দান ও জননীর আশীর্বাদের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে হাশেম মিয়ার জীবনে এই তিনটি দিক স্পষ্ট। জমি চাষ করে ফসল, মাছ চাষে অর্থ এবং স্ত্রীর দোয়ায় ছেলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু চতুর্থ চরণে কবি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। যে লৌহখণ্ডকে আগুনে প্রজ্বলিত করে, ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে। অর্থাৎ কঠিন সাধনা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে মানুষ কেবল সমৃদ্ধি নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তিও অর্জন করে। এই প্রতিরোধ ও সংগ্রামের চেতনা উদ্দীপকে নেই। সেখানে শ্রমের ফল জীবনধারণ ও সমৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সুতরাং কবিতার শেষ অংশের মর্মার্থ হলো, নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রম ও সাধনা মানুষকে সমৃদ্ধি দেয় এবং মুক্তির যুদ্ধের জন্য সশস্ত্রও করে। উদ্দীপক এই বক্তব্যের কেবল প্রথম অংশটি ধারণ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও