বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষক করিম সাহেবের গ্রামের পাশ দিয়ে একসময় একটি খরস্রোতা নদী বয়ে যেত। এখন নদীটি পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে এবং প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যবসায়ী নদীর একাংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে করিম সাহেবের জমিতে বোরো ধান চাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রামের স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সমস্যাটি সমাধানের উপায় খুঁজছে।
- ক)(1)
পানি ব্যবস্থাপনা কাকে বলে?
- খ)(2)
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
করিম সাহেবের গ্রামের নদীতে পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
করিম সাহেবের এলাকার সমস্যা সমাধানে নদী খনন ও রিজার্ভার খননের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পানির পরিকল্পিত প্রাপ্যতা ও ব্যবহারকে পানি ব্যবস্থাপনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কৃষি ও শিল্পের বিকাশে এবং মানুষসহ সব জীবের অস্তিত্বের জন্য পানি অপরিহার্য। বর্ষায় প্রচুর পানি পাওয়া গেলেও শীত ও গ্রীষ্মকালে পানির অভাব দেখা দেয়, তখন কৃষি, শিল্প ও জীবনযাপন সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। তাই সারা বছর পানির প্রাপ্তি, প্রবাহ ও বণ্টন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনা দরকার। ব্যবস্থাপনা না থাকলে পানির অপব্যবহার, দুষ্প্রাপ্যতা ও দূষণে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে করিম সাহেবের গ্রামের নদীতে পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রধান দুটি কারণ রয়েছে।
১. নাব্যতাসংকট: দেশের অনেক নদ-নদী পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। উদ্দীপকের নদীটিও পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণ ও প্রবাহের ক্ষমতা হারিয়েছে। কোনো কোনো নদী শুকিয়েও গেছে।
২. নদী দখল: অসৎ ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীরা নদী বা খালবিল অবৈধভাবে দখল করে ভরাট করে এবং স্থাপনা নির্মাণ করে। উদ্দীপকে ব্যবসায়ীরা নদীর একাংশ দখল করে স্থাপনা বানিয়েছে। এতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে নদীটি বিলীন হয়ে যায়।
এই দুই কারণে নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকছে না এবং সেচ ব্যাহত হচ্ছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে করিম সাহেবের এলাকায় নদী ভরাট ও দখলের কারণে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে নদী খনন ও রিজার্ভার খনন যুক্তিসংগত।
নদী খননের যৌক্তিকতা: নদী পলিতে ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে। খনন বা ড্রেজিং করলে নদীর গভীরতা বাড়বে, পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে। এতে কৃষি ও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাবে।
রিজার্ভার খননের যৌক্তিকতা: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রিজার্ভার খনন করলে বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনের পানির চাহিদা মেটানো যাবে। এছাড়া মাছ চাষ ও প্রজনন স্বাভাবিক থাকবে।
সীমাবদ্ধতা: শুধু খনন করলেই হবে না। দখল না ঠেকালে খননকৃত নদীও আবার দখল হবে। তাই স্থানীয় নেতৃত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজকে সক্রিয় থেকে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সুতরাং নদী ও রিজার্ভার খনন এবং দখল প্রতিরোধ একসঙ্গে করলে করিম সাহেবের এলাকায় সারা বছর সেচের পানি নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও