জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : বর্জ্য ও নিষ্কাশন
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মাথায় আঘাত পাওয়ার পর ২৫ বছর বয়সী ফারহানের হাইপোথ্যালামাসের কিছু স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে সে অতিরিক্ত পিপাসা অনুভব করে এবং প্রতি মিনিটে প্রায় 15 ml মূত্র ত্যাগ করে। অথচ আঘাতের আগে তার মূত্রত্যাগের হার স্বাভাবিক ছিল। ডাক্তার জানালেন তার একটি হরমোনের ক্ষরণ কমে গেছে।
- ক)(1)
অসমোরেগুলেশন কাকে বলে?
- খ)(2)
অসমোরিসেপ্টর বলতে কী বোঝায়? এর কাজ লেখ।
- গ)(3)
ফারহানের মূত্রের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ফারহান যদি পিপাসা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পানি পান না করে, তবে তার দেহে কী পরিণতি হতে পারে? সুস্থ মানুষের সাথে বৃক্কের প্রতিক্রিয়ার পার্থক্য দেখিয়ে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেহের অন্তঃ ও বহিঃপরিবেশের মধ্যে পানি, লবণ ও আয়নের সাম্য রক্ষার মাধ্যমে অভিস্রবণিক চাপের সমতা বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে অবস্থিত বিশেষ ধরনের স্নায়ুকোষকে অসমোরিসেপ্টর বলে। এরা দেহ তরলের অভিস্রবণিক চাপের পরিবর্তন শনাক্ত করে এবং তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হাইপোথ্যালামাসের কিছু স্নায়ুকোষ ADH ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এভাবে দেহতরলের ঘনত্ব স্বাভাবিক রাখতে এরা ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফারহানের হাইপোথ্যালামাসের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ADH (অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন বা ভ্যাসোপ্রেসিন) ক্ষরণ কমে গেছে। হাইপোথ্যালামাসে ADH তৈরি হয়ে পশ্চাৎ পিটুইটারি গ্রন্থির মাধ্যমে রক্তে মুক্ত হয়। সাধারণত ADH দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা ও সংগ্রাহী নালিতে পানি পুনঃশোষণে সাহায্য করে। রক্তে ADH-এর পরিমাণ কমে গেলে বৃক্কের পানি শোষণের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে ফিল্ট্রেটের অধিকাংশ পানি রক্তে ফিরে না গিয়ে মূত্ররূপে বের হয়ে যায়। এ কারণে মূত্রের পরিমাণ মিনিটে 15 ml পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা এ অবস্থায় সর্বোচ্চ মাত্রা 16 ml-এর কাছাকাছি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুস্থ মানুষের দেহে পানির পরিমাণ কমে গেলে রক্তে ADH-এর পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে বৃক্ক বেশি পানি পুনঃশোষণ করে এবং মিনিটে মাত্র প্রায় 0.5 ml মূত্র তৈরি করে। এভাবে দেহতরলের আয়তন ও অভিস্রবণিক চাপ স্বাভাবিক থাকে।
কিন্তু ফারহানের ADH ক্ষরণ কম বলে পানির ঘাটতি হলেও বৃক্ক পানি ধরে রাখতে পারে না। ফলে—
১. সে প্রতি মিনিটে প্রায় 15 ml হারে মূত্র ত্যাগ করে চলবে (দিনে প্রায় ml বা 21.6 লিটার), অথচ পানি গ্রহণ কম হলে দেহে পানির ঘাটতি দ্রুত বাড়বে।
২. দেহতরল ঘন হয়ে অভিস্রবণিক চাপ বেড়ে যাবে, যা বিপাক ও কোষের কাজে বিঘ্ন ঘটাবে।
৩. পানির সমতা ও রক্তের আয়তন কমে রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং তীব্র পানিশূন্যতা দেখা দেবে।
৪. দীর্ঘ সময় এমন চললে বৃক্কে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে বৃক্ক বিকলের ঝুঁকি তৈরি হবে।সুতরাং ফারহানকে ADH-জনিত চিকিৎসার পাশাপাশি যথেষ্ট পানি ও তরল গ্রহণ করতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও