বাংলা ১ম পত্র • অন্ধবধূ

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারানোর পর কামরুল প্রথম প্রথম ভাবত, “আমার বেঁচে থেকে লাভ কী? সবার বোঝা হয়ে আছি।” কিন্তু একদিন তার ছোটো বোন বলে, “ভাইয়া, তুমি না থাকলে আমি কার কাছে গল্প শুনব?” সেদিন থেকে কামরুল নিজের ভাবনা বদলায়। এখন সে বাড়িতে বসে শিশুদের পড়ায় এবং বলে, “জীবনটা অনেক সুন্দর।”

  1. ক)

    ‘চোখ গেল’ কী?

    (1)
  2. খ)

    “মন্দ নেহাত হয় না কিন্তু তায়— অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যায়!”—কথাটি বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কামরুলের প্রথম দিকের ভাবনার সঙ্গে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বধূর কোন ভাবনার মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “অন্ধবধূ নৈরাশ্যবাদী নয়, জীবনের প্রতি তার গভীর মমত্ব আছে।”—উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘চোখ গেল’ একটি পাখির নাম। এই পাখির ডাক ‘চোখ গেল’ শব্দের মতো শোনায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শ্যাওলা-পিছল সিঁড়িতে পা পিছলে দিঘির জলে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলতে গিয়ে অন্ধবধূ এ কথা বলেছে। সে ভেবেছে, ডুবে গেলে তার অন্ধত্বের কষ্ট আর থাকবে না। অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির এই ভাবনা তার গভীর বেদনা থেকে এসেছে। তবে এটি জীবনের প্রতি পুরোপুরি বিতৃষ্ণা নয়, কেবল ক্ষণিক আক্ষেপ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কামরুলের প্রথম দিকের ভাবনার সঙ্গে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বধূর অন্ধত্বের কষ্টে নিজেকে বোঝা মনে করে মৃত্যুচিন্তার ক্ষণিক আক্ষেপের মিল আছে। কবিতায় বধূ বলে, পিছল ঘাটে পা পিছলে তলিয়ে গেলে ‘অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব’ চুকে যাবে। সে এও বলে, অন্ধ চলে গেলে তেমন ক্ষতি নেই, কারণ বোন ও অন্যরা বেঁচে থাকবে। উদ্দীপকে কামরুলও দুর্ঘটনার পর ভাবে, বেঁচে থেকে লাভ নেই, সে সবার বোঝা হয়ে আছে। দুজনের ভাবনাতেই প্রতিবন্ধকতাজনিত অসহায়ত্ব ও আত্মগ্লানি ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় বধূ একবার মৃত্যুর কথা ভাবলেও সে হতাশায় ডুবে যায়নি; তার মধ্যে জীবনের প্রতি গভীর টান রয়েছে। ১. প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ: সে জ্যৈষ্ঠ আসতে কত দেরি, আমের গায়ে রং ধরেছে কি না তা জানতে চায়। কোকিলের ডাক ও দখিনা হাওয়ার কথা মনে রাখে। এ আগ্রহ জীবনপ্রেমের প্রমাণ। ২. সম্পর্কের মমতা: সে ননদের সঙ্গে প্রাণের কথা বলে, বোনদের বেঁচে থাকার কথা ভাবে এবং তাদের সান্নিধ্যে স্বস্তি পায়। ৩. উদ্দীপকের সঙ্গে মিল: উদ্দীপকে কামরুল প্রথমে হতাশ থাকলেও বোনের কথায় ভাবনা বদলায়, শিশুদের পড়ায় এবং বলে জীবন সুন্দর। অন্ধবধূর মধ্যেও সম্পর্কের টান ও প্রকৃতির আকর্ষণ তাকে জীবনের সঙ্গে বেঁধে রাখে। অতএব, অন্ধবধূর ক্ষণিক আক্ষেপ সত্ত্বেও সে নৈরাশ্যবাদী নয়; তার জীবনের প্রতি মমত্ববোধই কবিতার মূল সুর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও