জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রহিম সাহেবের দেহে নতুন কিডনির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দেয়। চিকিৎসক জানালেন, দেহের এক ধরনের লিম্ফোসাইট প্রতিস্থাপিত টিস্যুকে ধ্বংস করতে পারে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অন্য এক ধরনের লিম্ফোসাইট রূপান্তরিত হয়ে রক্তে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ছেড়ে দিচ্ছে।
- ক)(1)
প্লাজমা কোষ কী?
- খ)(2)
হেল্পার-১ ও হেল্পার-২ T-কোষের কাজের পার্থক্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রহিম সাহেবের স্ত্রীর দেহে লিম্ফোসাইটের রূপান্তর ও রক্তে প্রোটিন নিঃসরণের প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রহিম সাহেবের কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ গড়ে ওঠার আশঙ্কার জন্য কোন লিম্ফোসাইট দায়ী এবং কেন তাঁর স্ত্রীর ক্ষেত্রে কাজ করা লিম্ফোসাইট এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে না—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আকারে বড় হয়ে ওঠা B-কোষকে প্লাজমা কোষ বলে, যা অ্যান্টিবডি উৎপাদনের কারখানা হিসেবে কাজ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হেল্পার-১ T-কোষ () মনোনিউক্লিয়ার ফ্যাগোসাইটের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে এবং অন্তর্নিহিত অ্যান্টিজেন ধ্বংসে ফ্যাগোসাইট কোষকে সাহায্য করে। অন্যদিকে হেল্পার-২ T-কোষ () B-কোষের সংযোগ রক্ষা করে B-কোষকে বিভাজিত হতে ও অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিম সাহেবের স্ত্রীর দেহে কাজ করছে B-কোষ। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ: ১. অস্থিমজ্জায় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত প্রতিটি B-কোষ নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি উৎপাদনের জন্য নিয়োজিত থাকে। ২. ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে এলে B-কোষ বিভাজিত হয়ে ক্লোন তৈরি করে, যাতে প্লাজমা কোষ ও মেমোরি B-কোষ থাকে। ৩. B-কোষ অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কাজ করতে প্রস্তুত হলে আকারে অনেক বড় হয়ে প্লাজমা কোষে পরিণত হয়। ৪. প্লাজমা কোষ অ্যান্টিবডি তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করে, একটি প্লাজমা কোষ থেকে লক্ষ লক্ষ অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়ে রক্তে মিশে যায়। ৫. এই অ্যান্টিবডি রক্তে প্রবাহিত অ্যান্টিজেনকে ঘিরে ফেলে ও ধ্বংস করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রতিস্থাপিত কিডনির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠার জন্য দায়ী লিম্ফোসাইট হলো T-কোষ। এ কোষ থাইমাস গ্রন্থিতে পরিণতি লাভ করে এবং কোষ-নির্ভর ইমিউনিটি সৃষ্টি করে। তাঁর স্ত্রীর ক্ষেত্রে কাজ করা লিম্ফোসাইট হলো B-কোষ, যা রস-নির্ভর ইমিউনিটি সৃষ্টি করে। পার্থক্য ও যুক্তি: ১. কাজের পদ্ধতি: T-কোষ সরাসরি জীবাণু বা অ্যান্টিজেনকে নিয়ন্ত্রণ করে; সাইটোটক্সিক T-কোষ () সংক্রমিত বা বিজাতীয় কোষকে সরাসরি ধ্বংস করে। B-কোষ নিজে সরাসরি ধ্বংস করে না, প্লাজমা কোষ সৃষ্ট অ্যান্টিবডি দিয়ে অ্যান্টিজেনকে নিয়ন্ত্রণ করে। ২. টিস্যু ধ্বংস: T-কোষ ক্যান্সার কোষ ও প্রতিস্থাপিত টিস্যু কোষ ধ্বংস করতে পারে; B-কোষ তা পারে না। ৩. নিয়ন্ত্রণ: T-কোষের সাপ্রেসর T-কোষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অবদমন করতে পারে, যা B-কোষের নেই। তাই কিডনি গ্রহণকারীর ক্ষেত্রে সাইটোটক্সিক T-কোষের ধ্বংসাত্মক আক্রমণ থেকে রক্ষায় চিকিৎসকেরা T-কোষের কার্যকারিতা অবদমনের ব্যবস্থা নেন। সিদ্ধান্ত: প্রতিস্থাপিত টিস্যু নষ্ট করার সামর্থ্য কেবল T-কোষের থাকায় B-কোষ এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও