ভূগোল ১ম পত্র • বারিমণ্ডল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
তামিম একটি মহাসাগর সম্পর্কে পড়তে গিয়ে জানল, এর তিন দিকে স্থলভাগ বেষ্টিত এবং এর উত্তর সীমা প্রায় ২২° উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এ মহাসাগরের তলদেশে ভারতের কুমারিকা অন্তরীপ থেকে দক্ষিণে এন্টার্কটিকা পর্যন্ত একটি দীর্ঘ শৈলশিরা রয়েছে। তার বন্ধু সাদিয়া বলল, ‘এ মহাসাগরের তলদেশ প্রশান্ত মহাসাগরের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ নয়।’
- ক)(1)
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কী?
- খ)(2)
ভারত মহাসাগরে সাগর ও উপসাগরের সংখ্যা কম কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শৈলশিরাটির বিভিন্ন অংশের পরিচয় দাও।
- ঘ)(4)
‘এ মহাসাগরের তলদেশ প্রশান্ত মহাসাগরের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ নয়’ — সাদিয়ার উক্তিটি কতটা যথার্থ? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড হলো বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার দক্ষিণে মধ্য বঙ্গোপসাগরের তলদেশে অবস্থিত একটি গভীর খাত, যা গঙ্গা খাত নামেও পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভারত মহাসাগরের মহীসোপান অতি সামান্য এবং সংকীর্ণ। মহীসোপান অগভীর ও প্রশস্ত হলেই সাধারণত উপকূলে অনেক সাগর ও উপসাগর গড়ে ওঠে। এ মহাসাগরের উপকূলরেখাও তুলনামূলকভাবে কম খণ্ডিত। এ কারণে আরব সাগর, মোজাম্বিক সাগর, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগর ছাড়া এখানে উল্লেখযোগ্য সাগর ও উপসাগর কম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত শৈলশিরাটি ভারত মহাসাগরের মধ্যভাগে অবস্থান করে এর তলদেশকে পূর্ব ও পশ্চিম এ দুটি অংশে বিভক্ত করেছে। এ দীর্ঘতম শৈলশিরার বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন নামে পরিচিত।
১. দক্ষিণ অংশ: এ অংশ সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত। এর নাম আমস্টারডাম সেন্টপল মালভূমি।
২. মধ্যভাগ: এ অংশ অনেকটা সরু, যাকে সেন্টপল শৈলশিরা বলা হয়।
৩. উত্তরের অংশ: এ অংশ কিছুটা অধিক চওড়া। একে চাগোস শৈলশিরা বা লাক্ষাদ্বীপ বলা হয়।
এছাড়া সকোত্রা-চাগোস ও সিশিলিস শৈলশিরা এ প্রধান শৈলশিরার সাথে যুক্ত হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মহাসাগরটি হলো ভারত মহাসাগর। আমার মতে সাদিয়ার উক্তিটি যথার্থ। এর স্বপক্ষে যুক্তি নিচে তুলে ধরা হলো।
১. গভীর সমভূমির প্রাধান্য: ভারত মহাসাগরের তলদেশের অধিকাংশ অঞ্চল গভীর সমুদ্রের সমভূমি নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরেও গভীর সমভূমি বেশি হলেও সেখানে মালভূমি, শৈলশিরা, অসংখ্য দ্বীপ ও খাতের বিপুল সমাবেশ রয়েছে।
২. গভীর খাতের স্বল্পতা: ভারত মহাসাগরে গভীর খাত নেই বললেই চলে। কেবল জাভার দক্ষিণে সুন্দা খাত (প্রায় ৭,৩১৫ মিটার) উল্লেখযোগ্য। কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরে মারিয়ানা, জাপান, মিন্দানাও, কারমাডেক, টোঙ্গা প্রভৃতি বহু গভীর খাত রয়েছে এবং মারিয়ানা খাতের গভীরতা ১০.৮৬ কিলোমিটার।
৩. দ্বীপের স্বল্পতা: ভারত মহাসাগরের পূর্বাংশ প্রায় দ্বীপবর্জিত, কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরে পঁচিশ হাজারের বেশি দ্বীপ রয়েছে।
৪. গভীরতার পার্থক্য: ভারত মহাসাগরের সর্বাধিক গভীরতা ৭,৪৫০ মিটার, যা প্রশান্ত মহাসাগরের ১০.৮৬ কিলোমিটারের চেয়ে অনেক কম।
তবে ভারত মহাসাগরের তলদেশে শৈলশিরা, মালভূমি, প্রবাল ও আগ্নেয় দ্বীপ রয়েছে। কিন্তু তা প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় সীমিত। তাই সাদিয়ার বক্তব্য যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও