সাহিত্য পাঠ • ফুল্লরার বারোমাস্যা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
কবি আলাউল হোসেন তাঁর কাব্যে নায়িকার বিরহ ও দুঃখের কথা বছরের বারো মাসের প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে বর্ণনা করেছেন। বৈশাখের কালবৈশাখী থেকে শুরু করে চৈত্রের খরতাপ পর্যন্ত প্রতিটি মাসে নায়িকার মনের অবস্থা ভিন্ন ভিন্নভাবে ফুটে উঠেছে। কবি সমাজের সাধারণ মানুষের জীবনের ছবি এঁকেছেন নিখুঁত পর্যবেক্ষণে। তাঁর কাব্য পড়ে পাঠক সেই সময়ের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।
- ক)(1)
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে কে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধি দিয়েছিলেন?
- খ)(2)
‘বারোমাসী’ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কাব্যরীতির সঙ্গে ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র কোন দিকটির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের কবির পর্যবেক্ষণশক্তি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর পর্যবেক্ষণশক্তির সঙ্গে তুলনীয়।”— ‘ফুল্লরার বারোমাসী’ কবিতা অবলম্বনে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে জমিদার রঘুনাথ রায় ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধি দিয়েছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে ‘বারোমাসী’ একটি বিশেষ কাব্যরীতি। এতে বারো মাসের প্রকৃতির পরিবর্তনের পটভূমিতে কোনো চরিত্রের জীবনযাপন বা নারীর বিরহের বিবরণ দেওয়া হতো। প্রতিটি মাসে ঋতুর রূপ বদলের সঙ্গে চরিত্রের সুখ বা দুঃখের অনুভূতিও বদলে যায়। ‘ফুল্লরার বারোমাসী’তে এ রীতিতে ফুল্লরার অভাব ও দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কাব্যরীতির সঙ্গে ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র বারোমাসী কাব্যরীতির মিল রয়েছে। উদ্দীপকে কবি বছরের বারো মাসের প্রকৃতির বদলের সঙ্গে মিলিয়ে নায়িকার দুঃখ ও মনের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। ‘ফুল্লরার বারোমাসী’তেও মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বৈশাখ থেকে চৈত্র পর্যন্ত প্রতিটি মাসের প্রকৃতির রূপের সঙ্গে ফুল্লরার অভাব-অনটনের বিবরণ দিয়েছেন। বৈশাখে ঝড়ে ভাঙা কুঁড়েঘর, জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড রোদ ও উপবাস, শ্রাবণ-ভাদ্রের বর্ষণ, কার্তিক-পউষের শীত এবং চৈত্রের খরা— সবই এই রীতির অন্তর্গত। মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যে বারোমাসী ছিল এমনই একটি রীতি, যেখানে ঋতুচক্রের সঙ্গে মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ একসূত্রে গাঁথা হতো। তাই উভয় ক্ষেত্রেই বারো মাসের প্রেক্ষাপটে চরিত্রের দুঃখ প্রকাশের কাব্যরীতিটি সমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কবির পর্যবেক্ষণশক্তি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর পর্যবেক্ষণশক্তির সঙ্গে তুলনীয়— মন্তব্যটি যথার্থ। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর পর্যবেক্ষণশক্তি ছিল অসাধারণ। মঙ্গলকাব্যের প্রথাগত সীমার মধ্যে থেকেও তিনি সাধারণ বাঙালির বাস্তব জীবনচিত্র নিখুঁতভাবে এঁকেছেন। ‘ফুল্লরার বারোমাসী’তে ঝড়ে ভাঙা পাতার ছাউনির কুঁড়েঘর, জ্যৈষ্ঠে বেঙচেরে ফল খেয়ে উপবাস, আষাঢ়ে খুদ-কুড়া জুটলেও পেট না ভরা, কার্তিকে হরিণের ছাল পরে শীত নিবারণ, চৈত্রে চাল পাওয়ার জন্য মাটির পাত্র বন্ধক রাখা— এসব বর্ণনায় তাঁর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট। উদ্দীপকের কবিও বারো মাসের প্রকৃতির পরিবর্তন ও সাধারণ মানুষের জীবন নিখুঁতভাবে লক্ষ করে কাব্যে তুলে ধরেছেন, যা পাঠককে সময়ের জীবনযাত্রার স্পষ্ট ছবি দেয়। দুজনের মধ্যে মিল এখানেই যে, উভয়েই কল্পনার চেয়ে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে মুকুন্দরাম আরও এগিয়ে গিয়ে নাট্যগুণ ও উপন্যাসের বর্ণনা-নৈপুণ্য একত্র করেছেন বলে তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ঔপন্যাসিকদের অগ্রদূত বলা হয়। সুতরাং পর্যবেক্ষণশক্তির দিক থেকে উদ্দীপকের কবির সঙ্গে মুকুন্দরামের তুলনা যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও