ভূগোল ১ম পত্র • জীবমণ্ডল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
জাহিদ ও রিমন দুটি এলাকায় বাস করে। জাহিদের এলাকা 'X' একটি শিল্পনগরী, যেখানে প্রচুর কলকারখানা ও যানবাহনে কয়লা ও পেট্রোল পোড়ানো হয় এবং বনভূমি কেটে বসতি গড়া হয়েছে। রিমনের এলাকা 'Y' একটি গ্রাম, যেখানে বিস্তীর্ণ বনভূমি, নদী-খাল ও পুকুর রয়েছে। সেখানকার বাতাসে CO₂ এর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।
- ক)(1)
কার্বন চক্র কাকে বলে?
- খ)(2)
কার্বন চক্রে সবুজ উদ্ভিদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'Y' এলাকার বাতাসে CO₂ এর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'X' এলাকায় কার্বন চক্রের কী ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে এবং তা পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে প্রক্রিয়ায় কার্বন CO₂ গ্যাসরূপে পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে আবর্তিত হয়ে প্রকৃতিতে কার্বন সমতা বজায় রাখে, তাকে কার্বন চক্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্থলজ ও জলজ সবুজ উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল ও পানিতে মিশে থাকা CO₂ গ্যাস গ্রহণ করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পাতার মধ্যে এই CO₂ থেকে গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) জাতীয় কার্বন সমন্বিত যৌগ তৈরি হয়। প্রাণীরা এই যৌগকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে কার্বন সংগ্রহ করে। এভাবে সবুজ উদ্ভিদ বায়ুর CO₂ কমিয়ে কার্বনকে জীবজগতে প্রবেশ করায় এবং প্রকৃতিতে কার্বনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'Y' এলাকায় প্রচুর বনভূমি ও জলাশয় রয়েছে। এখানে কার্বন চক্রের মাধ্যমে CO₂ এর পরিমাণ স্বাভাবিক (প্রায় ০.০৩%) থাকে। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
১. CO₂ গ্রহণ: বনের গাছপালা ও জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে বায়ু ও পানির CO₂ গ্রহণ করে গ্লুকোজ তৈরি করে। প্রাণীরা উদ্ভিদ খেয়ে কার্বন সংগ্রহ করে।
২. CO₂ নির্গমন: উদ্ভিদ ও প্রাণী শ্বসনের সময় গ্লুকোজ জারিত হয়ে CO₂ উৎপন্ন করে, যা বায়ুতে ফিরে যায়। মাটির ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকও শ্বসনে CO₂ ছাড়ে।
৩. বিয়োজন ও দহন: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যুর পর বিয়োজকদের কার্যে এবং কাঠ, কয়লা, পেট্রোল ইত্যাদির দহনে CO₂ প্রকৃতিতে মুক্ত হয়।
৪. বারিমণ্ডলের ভূমিকা: বায়ুর তুলনায় ৫০ গুণ বেশি কার্বন সমুদ্রের পানিতে বাইকার্বনেট রূপে থাকে এবং বায়ু ও পানির মধ্যে CO₂ এর আদান-প্রদান ঘটে।
এভাবে CO₂ গ্রহণ ও নির্গমনের মধ্যে সমতা থাকায় 'Y' এলাকায় CO₂ এর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'X' শিল্পনগরীতে কয়লা ও পেট্রোল পোড়ানোর কারণে প্রচুর CO₂ বায়ুতে মুক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বনভূমি কেটে ফেলায় সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে CO₂ গ্রহণের ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে সেখানে কার্বন চক্রে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব নিম্নরূপ:
১. CO₂ এর পরিমাণ বৃদ্ধি: নির্গমন বেশি এবং গ্রহণ কম হওয়ায় বায়ুমণ্ডলে CO₂ এর পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার (০.০৩%) চেয়ে বেড়ে যাবে।
২. তাপমাত্রা বৃদ্ধি: বায়ুমণ্ডলের CO₂ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত রশ্মির কিছু অংশ আটকে রাখে। CO₂ অতিরিক্ত হলে বেশি তাপ আটকা পড়ে, ফলে পরিবেশ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয় ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ে।
৩. জীবজগতের ক্ষতি: তাপমাত্রা ও জলবায়ুর পরিবর্তনে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়।
প্রতিকার হিসেবে 'X' এলাকায় বনায়ন বৃদ্ধি, জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত। এতে CO₂ গ্রহণ ও নির্গমনের ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং কার্বন চক্র স্বাভাবিক থাকবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও