জীববিজ্ঞান • জীবনীশক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির তার মোবাইল ফোনের রিচার্জেবল ব্যাটারি বিদ্যুতের সংযোগে চার্জ দিয়ে ব্যবহার করে। চার্জ শেষ হয়ে গেলে সে আবার চার্জ দেয়। জীববিজ্ঞান শিক্ষক বললেন, আমাদের কোষেও এমন একটি যৌগ আছে যা খাদ্য থেকে পাওয়া শক্তি জমা রাখে এবং প্রয়োজনের সময় তা ছেড়ে দিয়ে আবার শক্তি গ্রহণ করে। কোষের দুটি অঙ্গাণু ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে শক্তি সংগ্রহ করে এই যৌগটি তৈরি করে দেয়।

  1. ক)

    ফসফোরাইলেশন কী?

    (1)
  2. খ)

    ATP-কে জৈবমুদ্রা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ব্যাটারি চার্জ ও ডিসচার্জের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোষীয় বিক্রিয়া দুটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের অঙ্গাণু দুটি ভিন্ন উৎস থেকে শক্তি সংগ্রহ করে 'চার্জারের' ভূমিকা পালন করে— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ADP বা AMP-এর সাথে বাইরে থেকে শক্তি দিয়ে ফসফেট গ্রুপ যুক্ত করার প্রক্রিয়াকে ফসফোরাইলেশন (phosphorylation) বলে। এর মাধ্যমে ATP তৈরি হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুদ্রা যেমন বিভিন্ন জিনিস কেনার মাধ্যম, ATP তেমনি কোষের বিভিন্ন কাজের জন্য শক্তি সরবরাহের মাধ্যম। খাদ্য জারণে নির্গত শক্তি দিয়ে ATP তৈরি হয় এবং এর প্রান্তীয় ফসফেট বন্ধনে শক্তি জমা থাকে। মাংসপেশির সংকোচন, বৃদ্ধি, প্রজনন ইত্যাদি সব জৈবনিক কাজের শক্তি এই ATP ভেঙেই পাওয়া যায়। শক্তি জমা রাখা ও প্রয়োজনমতো বিনিময় করার এই বৈশিষ্ট্যের জন্য ATP-কে জৈবমুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ব্যাটারি চার্জ ও ডিসচার্জের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোষীয় বিক্রিয়া দুটি হলো ফসফোরাইলেশন ও ডিফসফোরাইলেশন।
    ১. ফসফোরাইলেশন (চার্জ হওয়ার মতো): অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট (ADP)-এর সাথে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরি হয়। এ জন্য বাইরে থেকে শক্তি দিতে হয়। খাদ্যের জারণ থেকে পাওয়া শক্তি এখানে ব্যবহৃত হয়। ফলে ATP-এর প্রান্তীয় ফসফেট বন্ধনে শক্তি জমা হয়। প্রতিমোল ATP-তে প্রায় 7.3 কিলোক্যালরি শক্তি জমা থাকতে পারে।
    ২. ডিফসফোরাইলেশন (ডিসচার্জ হওয়ার মতো): কোষে শক্তির প্রয়োজন হলে ATP থেকে একটি ফসফেট গ্রুপ বিচ্ছিন্ন হয়ে ADP ও Pi তৈরি হয়। তখন জমা থাকা শক্তি নির্গত হয় এবং কোষ তা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে।
    এই দুটি বিক্রিয়া কোষে চক্রাকারে চলতে থাকে, ঠিক রিচার্জেবল ব্যাটারির মতো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অঙ্গাণু দুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট (প্লাস্টিড)। দুটিই ADP-কে ATP-তে রূপান্তর করে চার্জারের মতো কাজ করে, কিন্তু তাদের শক্তির উৎস ভিন্ন। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. মাইটোকন্ড্রিয়া: এর শক্তি-উৎস হলো পুষ্টি উপাদান (যেমন গ্লুকোজ) বা অন্তর্বর্তী অণু (যেমন NADH₂)। খাদ্যের জারণে নির্গত শক্তি ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ATP-এর ফসফেট বন্ধনে জমা হয়।
    ২. ক্লোরোপ্লাস্ট: এর শক্তি-উৎস হলো সূর্যালোক বা আলোর ফোটন। ক্লোরোফিল ফোটন শোষণ করে এবং আলোকশক্তি ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের মাধ্যমে ফটোফসফোরাইলেশনে ATP-তে সঞ্চিত হয়।
    ৩. সাদৃশ্য: দুটি অঙ্গাণুতেই ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম নামক বিশেষ জৈব অণুর সেট আছে, যা বাহ্যিক শক্তিকে ATP-এর ফসফেট গ্রুপের শক্তিতে রূপান্তর করে।
    ৪. গুরুত্ব: এভাবে তৈরি ATP ভেঙে কোষ তার সব জৈবনিক কাজ চালায়।
    অতএব, উৎস ভিন্ন হলেও কাজের ধরন অভিন্ন; তাই দুটি অঙ্গাণুই কোষের চার্জারের ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও