বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
ভোটের আগের রাতে একজন প্রার্থীর সমর্থক কিছু ভোটারকে টাকা দিয়ে ভোট কিনেছে। ভোটের দিন রিপন তার মৃত প্রতিবেশী রহিমের নাম বলে ভোট দিতে গিয়ে ধরা পড়ে। অন্যদিকে কিছু যুবক একটি ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলে। নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাও অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
- ক)(1)
কোন আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ ও এর দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে?
- খ)(2)
নির্বাচনি অপরাধ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাগুলো নির্বাচনি অপরাধের কোন কোন ধরনের অন্তর্ভুক্ত? চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অপরাধীদের কী শাস্তি হতে পারে এবং নির্বাচনি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ ও এর দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি বাছাই করে। ঘুষ, জাল ভোট বা জবরদস্তির মতো অপরাধ এই প্রক্রিয়াকে কলুষিত করে। ফলে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটে না। অযোগ্য ব্যক্তি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায় এবং নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। তাই নির্বাচনি অপরাধ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তিনটি ঘটনা নির্বাচনি অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। প্রথমত, টাকা দিয়ে ভোটারদের ভোট কেনা ঘুষ গ্রহণ ও প্রদানের অপরাধ। দ্বিতীয়ত, রিপনের মৃত রহিমের নামে ভোট দিতে যাওয়া জাল বা ছদ্মনামে ভোট দেওয়ার অপরাধ। তৃতীয়ত, ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলা গুরুতর নির্বাচনি অপরাধ, যার মধ্যে ভোটকেন্দ্র দখল এবং ব্যালট বাক্স কেন্দ্র থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজ ভোটপ্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী ঘুষ, জাল ভোট, ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট বাক্স নষ্ট বা স্থানান্তরের মতো অপরাধের জন্য জরিমানাসহ ক্ষেত্রবিশেষে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং কমপক্ষে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। সুতরাং উদ্দীপকের ভোট ক্রয়কারী সমর্থক, রিপন এবং কেন্দ্র দখলকারী যুবকরা এই দণ্ডের আওতায় পড়বেন। এসব অপরাধের জন্য উপযুক্ত আদালতে মামলা করা যায়।
তবে নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নিয়ম ভিন্ন। নির্বাচন কমিশনের লিখিত অনুমোদন ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা যায় না। তাই অভিযোগকারীকে আগে নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং কমিশন অনুমোদন দিলে তবেই মামলা করা সম্ভব।
এভাবে কঠোর শাস্তির বিধান ও কমিশনের তদারকির মাধ্যমে নির্বাচনি অপরাধ কমিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও