সাহিত্য পাঠ • সোনার তরী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

নদীপাড়ের কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া একদিন দেখে, ভাঙনে নদীর মাঝের ছোট চরটি একটু একটু করে তলিয়ে যাচ্ছে। চরের কৃষকেরা ফসল তুলে নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, কেবল ভাঙা মাটি আর ঘূর্ণি জল পড়ে আছে। বাংলার শিক্ষক বলেন, “নদী যেমন তীর ভাঙে, সময়ও তেমনি মানুষের জীবন-যৌবন গ্রাস করে। তবু মানুষের কর্মের ফসল সময়ের স্রোতে হারায় না।”

  1. ক)

    ‘ভারা’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা”— চরণটিতে কী ইঙ্গিত রয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ভাঙনরত নদী ও ‘সোনার তরী’ কবিতার ‘বাঁকা জল’-এর প্রতীকী তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘সোনার তরী’ কবিতার মাঝি ও সোনার তরীর ভূমিকা অনুপস্থিত”— এই অনুপস্থিতি কবিতার ভাবগত পূর্ণতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ভারা’ অর্থ ধান রাখার পাত্র; ‘ভারা ভারা’ বলতে এমন পাত্রের সমষ্টি, অর্থাৎ রাশি রাশি ধান বোঝানো হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর চরণটিতে ধানখেতটিকে নদীর বাঁকা জলস্রোতে বেষ্টিত ছোট দ্বীপের মতো দেখানো হয়েছে। চারদিকের ঘূর্ণায়মান জল খেতটির আশু বিলীন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ‘বাঁকা জল’ এখানে অনন্ত কালস্রোতের প্রতীক। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনপরিধির সংকীর্ণতা ও ক্ষণস্থায়িত্ব এবং মহাকালের অমোঘ আগ্রাসন প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সোনার তরী’ কবিতায় ‘বাঁকা জল’ ছোট খেতটিকে ঘিরে থাকা ঘূর্ণায়মান স্রোত, যা অনন্ত কালস্রোতের প্রতীক। এই কালস্রোত ধীরে ধীরে মানুষের জীবনপরিধিকে গ্রাস করে ফেলে। উদ্দীপকে নদী ভাঙনের মাধ্যমে চরটিকে একটু একটু করে তলিয়ে দিচ্ছে, যা কবিতার বাঁকা জল দ্বারা ছোট খেতের বিলীন হওয়ার সম্ভাবনারই অনুরূপ। শিক্ষকের বক্তব্যেও নদীর তীর ভাঙাকে সময়ের জীবন-যৌবন গ্রাস করার সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপকের নদী কেবল প্রাকৃতিক শক্তি নয়, সময়ের নিষ্ঠুর ক্ষয়িষ্ণুতার প্রতীক, যেমন কবিতার বাঁকা জল মহাকালের প্রতীক। এভাবে দুই ক্ষেত্রেই জল মানুষের ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বের উপর কালের প্রভাব নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ভাঙনরত নদী, তলিয়ে যাওয়া চর এবং সময়ের গ্রাসের কথা আছে, কিন্তু কবিতার মাঝি ও সোনার তরীর মতো কোনো উপাদান নেই। ‘সোনার তরী’ কবিতায় মাঝি নির্মম ও নিরাসক্ত মহাকালের প্রতীক এবং সোনার তরী সেই চিরায়ত শিল্পলোকের বাহন, যেখানে মহৎ সৃষ্টি স্থান পায়। কৃষক তাঁর সোনার ধান তুলে দেয় এবং ফসলটুকুই তরীতে আশ্রয় পায়, কৃষক নিজে নয়। এই কারণে কবিতাটি কেবল ধ্বংসের ছবি নয়, সৃষ্টির অমরত্বের ঘোষণাও। উদ্দীপকে এই উপাদান না থাকায় ক্ষয়ের দিকটি স্পষ্ট হলেও রক্ষা পাওয়ার দিকটি অস্পষ্ট থাকে। শিক্ষকের শেষ বাক্যে ‘কর্মের ফসল হারায় না’ বলে ইঙ্গিত থাকলেও সেই ফসল কোথায় আশ্রয় পায় তার কোনো রূপক চিত্র নেই। ফলে উদ্দীপক কবিতার অর্ধেক ভাব, অর্থাৎ ক্ষয় ও বিলয়, প্রকাশ করে; আর সৃষ্টির চিরস্থায়িত্ব ও স্রষ্টার নিঃসঙ্গতার জটিল দ্বৈততা প্রকাশ পায় না। তাই মাঝি ও তরীর অনুপস্থিতি উদ্দীপকের ভাবগত পূর্ণতাকে সীমিত করে এবং কবিতার সার্বিক জীবনদর্শন থেকে একে বিচ্ছিন্ন রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও