জীববিজ্ঞান • জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

বিজ্ঞানীদের অনুমান অনুযায়ী কোনো এক সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রচুর মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড, জলীয় বাষ্প, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ছিল, কিন্তু অক্সিজেন ছিল না। তখন প্রায়ই অগ্ন্যুৎপাত ও বজ্রপাত হতো এবং অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে পড়ত।

  1. ক)

    রাসায়নিক অভিব্যক্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভাইরাসকে জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পরিবেশে কীভাবে জীবনের মৌলিক অণুগুলো সৃষ্টি হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের পরিবেশ থেকে অক্সিজেননির্ভর জীবের উদ্ভব পর্যন্ত ধাপগুলো ক্রমানুসারে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পৃথিবীর উৎপত্তি এবং তার ধারাবাহিকতায় জীবনের উৎপত্তির ঘটনাপ্রবাহকে রাসায়নিক অভিব্যক্তি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নিউক্লিওপ্রোটিন থেকে প্রথমে প্রোটোভাইরাস এবং তা থেকে ভাইরাসের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ভাইরাস এমন একটি অবস্থা নির্দেশ করে, যার মধ্যে জড় ও জীব উভয়ের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই ভাইরাসকে জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বর্ণনায় আদিম পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড, জলীয় বাষ্প, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ছিল, কিন্তু অক্সিজেন ছিল না। অহরহ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তাপমাত্রা বাড়ত এবং বজ্রপাত ও অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে এই গ্যাসীয় যৌগগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও নিউক্লিক অ্যাসিড উৎপন্ন করত। পরে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও নিউক্লিক অ্যাসিড মিলিত হয়ে নিউক্লিওপ্রোটিন অণু সৃষ্টি করে। এই নিউক্লিওপ্রোটিন নিজের প্রতিরূপ গঠনের ক্ষমতা অর্জন করে এবং এভাবে জীবনের সূত্রপাত ঘটায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অক্সিজেনবিহীন পরিবেশ থেকে অক্সিজেননির্ভর জীবের উদ্ভব নিম্নোক্ত ধাপে ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়:
    ১. নিউক্লিওপ্রোটিন থেকে প্রোটোভাইরাস এবং তা থেকে ভাইরাসের সৃষ্টি হয়, যা জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা।
    ২. এরপর সম্ভবত ব্যাকটেরিয়ার উদ্ভব হয়। এদের নিউক্লিয়াস আদি প্রকৃতির, তাই এরা আদি কোষ।
    ৩. পরে প্রোটোজোয়ার সৃষ্টি হয়, যাদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস দেখা যায়।
    ৪. কিছু এককোষী জীবদেহে ক্লোরোফিল সৃষ্টি হয়। ফলে খাদ্য সংশ্লেষ সম্ভব হয় এবং এর উপজাত হিসেবে অক্সিজেন উৎপন্ন হতে থাকে। এভাবে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন যুক্ত হয়।
    ৫. অক্সিজেন থাকায় সবাত শ্বসনকারী জীবদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
    ৬. এরপর এককোষী থেকে বহুকোষী জীবের উদ্ভব হয় এবং ক্রমে জটিলতর জীবের অভিব্যক্তি শুরু হয়।
    জৈব অভিব্যক্তি সরলরেখায় ঘটে না, বহু শাখা-প্রশাখায় একই সাথে চলে। তাই অক্সিজেন তৈরির সক্ষমতাই পরবর্তী জীববৈচিত্র্যের মূল ভিত্তি ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও