সাহিত্য পাঠ • হাড়
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রফিক চাকরি হারায়। ঋণের বোঝা, অসুস্থ বাবা আর সংসারের টানাপোড়েনে তার চারদিক অন্ধকার মনে হয়। সে ভাবে, “এমন অন্ধকার পেরিয়ে আলোর কোনো দেশ কি সত্যিই আছে?” কিছুদিন পর তার পুরোনো সহকর্মীরা মিলে একটি সমবায় কারখানা গড়ে তোলে। রফিক তাতে যোগ দেয় এবং বুঝতে পারে, ঐক্যবদ্ধ হলে নতুন ভোরের পথ খোঁজা সম্ভব।
- ক)(1)
‘হাড়’ কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
- খ)(2)
“নিভলো সহসা মহাশূন্যের লক্ষ তারা”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রফিকের প্রথম দিকের পরিস্থিতি ‘হাড়’ কবিতার কোন অংশের ভাবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং শেষ দিকের পরিস্থিতি কোন অংশের—ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অন্ধকার থেকে আলোর পথে উত্তরণের জন্য রফিক ‘হাড়’ কবিতা থেকে কী শিক্ষা নিতে পারে? যুক্তিসহ লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘হাড়’ কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘মানচিত্র’ (১৯৬১) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “নিভলো সহসা মহাশূন্যের লক্ষ তারা” বলতে পলাশির যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর বাংলার সব আশা-ভরসা হঠাৎ নিঃশেষ হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আকাশের অসংখ্য তারা যেমন পথচারীকে দিক দেখায়, তেমনি স্বাধীনতা ছিল জাতির পথনির্দেশক। মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় সেই আলো হঠাৎ নিভে যায় এবং গোটা দেশ গভীর অন্ধকারে ডুবে যায়। কবি চিত্রকল্পের মাধ্যমে এই আকস্মিক বিপর্যয়ের চিত্র এঁকেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রফিকের প্রথম দিকের পরিস্থিতি ‘হাড়’ কবিতার প্রথমাংশের এবং শেষ দিকের পরিস্থিতি কবিতার শেষাংশের ভাবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কবিতার প্রথমাংশে পলাশির যুদ্ধে স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ঘরের প্রদীপ, পথের বাতি নিভে যায়, সড়কে সড়কে ঝড়-ঝঞ্ঝা সাথি হয়। সেখানে কবি হতাশ হয়ে প্রশ্ন করেন, “সম্মুখে কোথাও এমন সে দেশ আছে কি ভাই / যেখানে আলোর সম্ভারে হাসে বসুন্ধরা?” উদ্দীপকের রফিকও চাকরি হারিয়ে চারদিকে অন্ধকার দেখে একই রকম প্রশ্ন করে—আলোর কোনো দেশ কি আছে? অন্যদিকে কবিতার শেষাংশে দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণ ইস্পাতদৃঢ় হাড়ে বজ্রের শক্তি অর্জন করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। উদ্দীপকেও সহকর্মীদের সঙ্গে সমবায় কারখানা গড়ে রফিক ঐক্যবদ্ধতার শক্তিতে নতুন ভোরের পথ খুঁজে পায়। এভাবে হতাশা থেকে আত্মবিশ্বাসে উত্তরণের গতিপথ উভয় ক্ষেত্রেই সমান্তরাল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অন্ধকার থেকে আলোর পথে উত্তরণের জন্য রফিক ‘হাড়’ কবিতা থেকে হতাশা কাটিয়ে সংঘবদ্ধ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মবিশ্বাসের শিক্ষা নিতে পারে। প্রথমত, কবিতায় দেখা যায়, পলাশির পরাজয়ের পর বাংলার মানুষ গভীর অন্ধকারে পড়েছিল, কিন্তু তারা ভেঙে পড়েনি। ব্রিটিশ শোষণ, বর্গীর অত্যাচারের মধ্যেও তারা বারবার লড়াই করেছে—বাঁশের কেল্লা গড়েছে, ফাঁসির মঞ্চে রক্ত ঝরিয়েছে। রফিকও চাকরি হারানোর পর হাল ছেড়ে না দিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে সমবায় কারখানা গড়ার পথে হেঁটেছে, যা প্রতিকূলতা মোকাবিলার এই সংগ্রামী মনোভাবেরই প্রকাশ। দ্বিতীয়ত, কবিতায় দীর্ঘ সংগ্রামের অভিজ্ঞতা জাতিকে ইস্পাতদৃঢ় করেছে; ব্যর্থতা থেকেও শক্তি জন্মেছে। রফিকের উচিত তার সাময়িক ব্যর্থতাকে অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়া। তৃতীয়ত, কবিতায় ব্যক্তি নয়, সমগ্র জনগণের সম্মিলিত শক্তিই বিদেশি দস্যুকে ঠেকিয়েছে। রফিকের জন্যও সহকর্মীদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ। সর্বোপরি, কবিতার মূল বার্তা হলো আশাবাদ—অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়, দৃঢ় সংকল্প ও ঐক্যই নতুন সূর্যোদয় আনে। এসব শিক্ষা গ্রহণ করলে রফিক অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যেতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও