বাংলা ১ম পত্র • নিরীহ বাঙালি

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

রহিম মিয়া ও করিম মিয়া দুই ভাই। তাদের বাবা রেখে গেছেন পনেরো বিঘা ফসলি জমি। রহিম শহরে একটি অফিসে ফাইল নাড়াচাড়া করে আর বলে, “মাঠে রোদে পুড়ে কাজ করার চেয়ে এ কাজই ভালো।” অন্যদিকে করিম আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শিখে জমিতে ধান ও সবজি ফলিয়েছে। বছর শেষে করিম সংসার চালিয়েও গ্রামের কয়েকটি অভাবী পরিবারকে চাল দিতে পেরেছে। রহিমের জমি অর্ধেকই পতিত পড়ে আছে।

  1. ক)

    ধনবৃদ্ধির উপায় কয়টি ও কী কী?

    (1)
  2. খ)

    “কৃষিবিভাগের কার্য করা অপেক্ষা মস্তিষ্ক উর্বর করা সহজ।”— কথাটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহিমের মনোভাবে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের কোন বক্তব্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের রহিম ও করিমের মধ্যে কে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের লেখিকার কাঙ্ক্ষিত আদর্শের কাছাকাছি? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখিকার মতে ধনবৃদ্ধির উপায় দুটি। যথা: বাণিজ্য ও কৃষি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখিকা এখানে বাঙালির পরিশ্রমবিমুখতাকে ব্যঙ্গ করেছেন। মাঠে কাজ করে ধান ফলানো কষ্টকর, তাই বাঙালি তা এড়িয়ে চলে। তার বদলে তারা মুখস্থ বিদ্যার জোরে ডিগ্রি নিয়ে অর্থ উপার্জনকে সহজ মনে করে। ‘কৃষিবিভাগের কার্য’ বলতে কৃষিকাজ এবং ‘মস্তিষ্ক উর্বর’ বলতে সেই বিদ্যাচর্চাকে বোঝানো হয়েছে, যা শ্রমের চেয়ে সহজ মনে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিমের মনোভাবে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের কৃষিকাজের চেয়ে আরামদায়ক চাকরিকে সহজ মনে করার বক্তব্য ফুটে উঠেছে।

    প্রবন্ধে লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেছেন, বাঙালি কর্কশ ভূমি কর্ষণ করে ধান উৎপাদনের চেয়ে মুখস্থ বিদ্যার জোরে অর্থ উৎপাদনকে সহজ মনে করে। রৌদ্রে কৃষিক্ষেত্র পরিদর্শনের চেয়ে টানাপাখার নিচে বসে থাকাই তাদের পছন্দ।

    উদ্দীপকে রহিম মাঠে রোদে পুড়ে কাজ করার চেয়ে শহরে অফিসের কাজকে ভালো মনে করে। ফলে তার পনেরো বিঘা জমির অর্ধেক পতিত পড়ে আছে। এভাবে তার মনোভাবে প্রবন্ধের শ্রমবিমুখ ও আরামপ্রিয় বাঙালির পরিচয় ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের করিম ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের লেখিকার কাঙ্ক্ষিত আদর্শের কাছাকাছি।

    লেখিকা ব্যঙ্গের মাধ্যমে বাঙালিকে পরিশ্রম, কৃষি ও দেশের মঙ্গলজনক কাজে মনোযোগী হতে চেয়েছেন। তাঁর ব্যঙ্গের লক্ষ্য শ্রমবিমুখতা, কর্মে ফাঁকি ও স্বার্থপরতা।

    ১. শ্রমের প্রতি মনোভাব: রহিম মাঠের কাজ এড়িয়ে অফিসের আরামদায়ক কাজ বেছে নিয়েছে। এটি প্রবন্ধে নিন্দিত আরামপ্রিয়তার উদাহরণ। অন্যদিকে করিম নিজে মাঠে নেমে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করেছে, যা লেখিকার প্রত্যাশিত কর্মনিষ্ঠার পরিচয়।

    ২. ফলাফল: করিম জমিতে ফসল ফলিয়েছে। রহিমের জমি অর্ধেক পতিত। প্রবন্ধে লেখিকা অন্নোৎপাদনের চেষ্টা না করার ফলে ‘অন্নকষ্টের’ যে আশঙ্কা ব্যঙ্গ করে বলেছেন, রহিমের আচরণে সেই পথই দেখা যায়।

    ৩. সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ: প্রবন্ধে বলা হয়েছে, অন্নাভাবে দরিদ্ররা মরলে বাঙালির কিছু আসে-যায় না। করিম সেখানে নিজের সংসার চালিয়েও অভাবী পরিবারকে চাল দিয়েছে। এটি লেখিকার প্রত্যাশিত সামাজিক দায়িত্ববোধ।

    সুতরাং করিমই লেখিকার কাঙ্ক্ষিত আদর্শের কাছাকাছি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও