জীববিজ্ঞান • দৃঢ়তা প্রদান ও চলন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে জহিরের পায়ের গোড়ালির পেছনের পেশিপ্রান্তের রজ্জুর মতো শক্ত অংশটি ছিঁড়ে যায়। চিকিৎসক বললেন, এটি সহজে জোড়া লাগবে না। একই ম্যাচে তপুর গোড়ালি মচকে যায় এবং সন্ধিস্থলে দুটি হাড়কে আটকে রাখা পাতলা কাপড়ের মতো কোমল অথচ স্থিতিস্থাপক বন্ধনীতে টান পড়ে। কিছুদিন বিশ্রামের পর সে সুস্থ হয়।

  1. ক)

    লিগামেন্ট কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    টেন্ডন কীভাবে পেশিকে অস্থির সাথে যুক্ত রাখে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তপুর আঘাতপ্রাপ্ত অংশটির গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জহির ও তপুর আঘাতপ্রাপ্ত অংশ দুটির মধ্যে কোনটির নিরাময় বেশি কঠিন? গঠন ও স্থিতিস্থাপকতার আলোকে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাতলা কাপড়ের মতো কোমল অথচ দৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক যে বন্ধনী দিয়ে অস্থিগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে অস্থিবন্ধনী বা লিগামেন্ট বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাংসপেশির প্রান্তভাগ দড়ির মতো শক্ত হয়ে অস্থির গায়ের সাথে সংযুক্ত হয়, এই শক্ত প্রান্তকে টেন্ডন বলে। পেশি ও টেন্ডনের সংযোগস্থলে টেন্ডন তন্তুগুলো পেশিতন্তুর সারকোলেমায় যুক্ত হয়। টেন্ডনের আঁটিগুচ্ছ বেষ্টনকারী অ্যারিওলার টিস্যু পেশির আঁটির আবরক টিস্যুর সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত থাকায় এই সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়। এভাবে টেন্ডন পেশিকে অস্থির সাথে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তপুর আঘাতপ্রাপ্ত অংশটি হলো লিগামেন্ট বা অস্থিবন্ধনী। গঠন: লিগামেন্ট শ্বেততন্তু ও পীততন্তু এই দুই ধরনের ইলাস্টিক তন্তু দিয়ে গঠিত, যার মধ্যে পীতবর্ণের স্থিতিস্থাপক তন্তুর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে সরু, শাখা-প্রশাখাযুক্ত তন্তুগুলো জালের মতো বিন্যস্ত থাকে এবং গুচ্ছাকারে না থেকে আলাদাভাবে অবস্থান করে। ইলাস্টিক তন্তুগুলো ইলাস্টিন নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। কাজ: লিগামেন্ট এক অস্থিকে অন্য অস্থির সাথে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখে, ফলে অস্থিগুলো স্থানচ্যুত বা বিচ্যুত হয় না। কব্জা যেমন পাল্লাকে কাঠামোর সাথে আটকে রাখে, লিগামেন্টও তেমনি অস্থিকে ধরে রাখে এবং অঙ্গটি সহজে নাড়াচাড়া করতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জহিরের আঘাতপ্রাপ্ত অংশটি টেন্ডন এবং তপুরটি লিগামেন্ট। এদের মধ্যে জহিরের টেন্ডনের নিরাময় বেশি কঠিন। যুক্তি নিচে দেওয়া হলো: ১. গঠন: টেন্ডন ঘন, শ্বেত তন্তুময় যোজক টিস্যু দিয়ে গঠিত। এর শাখা-প্রশাখাবিহীন শ্বেততন্তু গুচ্ছাকারে ও সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে। লিগামেন্টে শ্বেততন্তুর পাশাপাশি পীততন্তু বেশি থাকে এবং তন্তুগুলো গুচ্ছাকারে না থেকে জালের মতো আলাদাভাবে থাকে। ২. স্থিতিস্থাপকতা: টেন্ডনের স্থিতিস্থাপকতা তুলনামূলকভাবে কম, তাই টান পড়লে তা কমই প্রসারিত হয়। লিগামেন্টের স্থিতিস্থাপকতা বেশি, তাই টান সামলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তপুর লিগামেন্টে টান পড়লেও এর স্থিতিস্থাপকতার কারণে সে কিছুদিন বিশ্রামে সুস্থ হয়েছে। ৩. নিরাময়: টেন্ডন অস্থি বা পেশির তুলনায় সহজে ছেঁড়ে না, কিন্তু একবার ছিঁড়ে গেলে সহজে জোড়া লাগে না। জহিরের ক্ষেত্রে এটিই ঘটেছে। সুতরাং টেন্ডনের কম স্থিতিস্থাপকতা এবং ছিঁড়ে গেলে সহজে জোড়া না লাগার বৈশিষ্ট্যের কারণে জহিরের টেন্ডনের ক্ষত নিরাময় তপুর লিগামেন্টের তুলনায় অধিক কঠিন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও