সাহিত্য পাঠ • গহন কোন বনের ধারে
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার সাহেব প্রতিদিন ভোরে বাড়ির বাগানে পাখিদের জন্য দানা ছড়িয়ে দেন। রাস্তা থেকে একটি অসুস্থ কুকুরছানাকে তিনি ঘরে এনে সেবা করে সুস্থ করেছেন। গ্রীষ্মের খরায় নিজ হাতে গাছের গোড়ায় জল দেন। প্রতিবেশীরা হাসাহাসি করলে তিনি বলেন, 'এই পৃথিবীতে সবারই অংশ আছে; ভালোবাসলে তবেই তাদের চেনা যায়।' তাঁর ভালোবাসা কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
- ক)(1)
'গহন কোন বনের ধারে' রচনাটি দ্বিজেন শর্মার কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- খ)(2)
"ভালো না বাসলে তো কাউকেই জানা যায় না"- কথাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব ও 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার শোভা বুড়োর মধ্যে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"মানুষে মানুষে সৃষ্ট সম্পর্কই কেবল নয়, প্রকৃতিজগতের সকলের সঙ্গে পারস্পরিক ভালোবাসার সম্পর্ক নির্মাণই প্রকৃত মানবিকতা"- উদ্দীপক ও 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'গহন কোন বনের ধারে' রচনাটি দ্বিজেন শর্মার একই নামের গ্রন্থ 'গহন কোন বনের ধারে' থেকে সংক্ষিপ্তাকারে সংকলিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটির মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন, কাউকে গভীরভাবে জানতে হলে আগে তাকে ভালোবাসতে হয়। শিশুকালে শোভা বুড়োর সান্নিধ্যে লেখক বনের গাছ, পাখি, ফুল ও প্রাণীদের ভালোবাসতে শিখেছিলেন। সেই ভালোবাসা থেকেই তিনি প্রকৃতির নানা রূপ, গন্ধ ও স্পন্দন চিনতে ও জানতে পেরেছিলেন। ভালোবাসাহীন কৌতূহল কেবল ওপরের পরিচয় দেয়, কিন্তু আন্তরিক ভালোবাসাই গভীর উপলব্ধির পথ খুলে দেয়। তাই লেখকের কাছে প্রকৃতিকে জানার পূর্বশর্ত তাকে ভালোবাসা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব ও রচনার শোভা বুড়োর মধ্যে প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসায় সাদৃশ্য এবং জীবনযাপন ও প্রকাশভঙ্গিতে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। সাদৃশ্যের দিক থেকে উভয়েই মানুষের গণ্ডির বাইরে গাছ, পাখি ও পশুর প্রতি মমতা অনুভব করেন। আনোয়ার সাহেব পাখিকে দানা দেন, অসুস্থ কুকুরছানার সেবা করেন, গাছে জল দেন। শোভা বুড়োও পাখির সঙ্গে মিতালি করে, শিস দিয়ে বুনো পাখিকে মাথায় ও হাতে বসায়, বনকে জীবজন্তুর রাজ্য মনে করে সেখানে শ্রদ্ধা নিয়ে চলে। বৈসাদৃশ্যের দিক হলো, আনোয়ার সাহেব লোকালয়ে বাগান ও গৃহ ঘিরে তাঁর ভালোবাসা প্রকাশ করেন। অপরদিকে শোভা বুড়ো বনের ভেতরে প্রকৃতির সন্তান হয়ে বাস করে এবং গাছ জড়িয়ে ধরে ও মাটিতে মিশে গিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার শিক্ষা দেয়। শোভা বুড়ো একসময় শিকার করত, পরে মন্ত্র নিয়ে শিকার ছেড়ে দেয়; উদ্দীপকে আনোয়ার সাহেবের এমন কোনো পরিবর্তন নেই।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার মর্মবাণীকে যথাযথভাবে ধারণ করে এবং উদ্দীপকেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। রচনায় লেখক শৈশবে শোভা বুড়োর কাছ থেকে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে ও জানতে শিখেছিলেন। শোভা বুড়ো বন্য প্রাণীকে নিজের মতো করে সম্মান করেছে, সাপকে দেবতা মেনেছে, গাছের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে এবং বড়দার জঙ্গল পোড়ানোর কাজ অপছন্দ করেছে। লেখক বুঝেছেন, মানুষ প্রকৃতির বাইরের কোনো সত্তা নয়, সে প্রকৃতির অংশ; তাই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ মানবিকতারই অংশ। উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব পাখিকে খাবার দেন, কুকুরছানার সেবা করেন, গাছের যত্ন নেন এবং বলেন, ভালোবাসলে তবেই চেনা যায়। এতে মানুষের সীমা পেরিয়ে সকল প্রাণ ও উদ্ভিদের প্রতি তাঁর মমতার প্রকাশ ঘটেছে। সুতরাং উদ্দীপকের ভাবনা এবং উক্তিটি উভয়ই রচনার মর্মবাণীর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও