সাহিত্য পাঠ • পদ্মা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

বন্যার পানি নেমে গেছে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী রিনা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখে, ভেজা মাটিতে কৃষকেরা আবার বীজ বুনছে, কেউ ভাঙা ঘরের খুঁটি পুঁতছে, কাদামাখা পথে শিশুরা খেলছে। রিনা ডায়েরিতে লেখে, “নদী সব নিয়ে গেছে, তবু মানুষ থেমে থাকেনি; সব হারিয়েও এরা নতুন করে বাঁচতে জানে।”

  1. ক)

    ফররুখ আহমদের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “সবুজের সমারোহে জীবনের পেয়েছে সম্বল”—বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রিনার ডায়েরির বক্তব্য ‘পদ্মা’ কবিতার কোন চরণের ভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “কবির দৃষ্টিতে পদ্মা কেবল ধ্বংসের নয়, জাগরণেরও প্রতীক।”—উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতার আলোকে যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফররুখ আহমদের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পদ্মার উর্বর চরে ফলানো ফসলের মাধ্যমে মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন পাওয়ার কথা বোঝানো হয়েছে। ‘সমারোহ’ অর্থ আড়ম্বর বা জাঁকজমক এবং ‘সম্বল’ অর্থ পাথেয় বা অবলম্বন। নদীর দুই তীরের সংগ্রামী মানুষ কঠিন শ্রমে জমিতে সবুজ ফসলের প্রাচুর্য সৃষ্টি করে। সেই ফসলই তাদের জীবনধারণের ভরসা হয়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রিনার ডায়েরির বক্তব্য ‘পদ্মা’ কবিতার “হে নদী! জেগেছে তবু পরিপূর্ণ আহ্বান” চরণটির ভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ। কবিতায় বলা হয়েছে, বর্ষার স্রোতে সাজানো বাগান ও অসংখ্য জীবন এবং জীবনের অজস্র সম্ভার ভেসে গেছে। তবু ধ্বংসের মধ্য থেকেই মানুষের মধ্যে নতুন করে বাঁচার ডাক জেগে উঠেছে। উদ্দীপকে বন্যায় সর্বস্ব হারিয়েও কৃষকেরা আবার বীজ বুনছে এবং ভাঙা ঘরের খুঁটি পুঁতছে। রিনার উক্তি “সব হারিয়েও এরা নতুন করে বাঁচতে জানে” কবিতার এই আহ্বানেরই প্রতিধ্বনি। দুটি ক্ষেত্রেই বিপর্যয়ের পরও জীবনের জয়ের সুর প্রধান হয়ে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। ‘পদ্মা’ কবিতায় কবি পদ্মার ধ্বংসাত্মক রূপ যেমন এঁকেছেন, তেমনি তার ভেতর জাগরণের শক্তিকেও দেখিয়েছেন। তৃতীয় স্তবকে বর্ষার স্রোতে সাজানো বাগান ও অসংখ্য জীবন ভেসে যাওয়ার করুণ চিত্র আছে। কিন্তু শেষ অংশে কবি বলেছেন, নদীর সুতীব্র গতি এবং প্রদীপ্ত স্রোতধারা ‘মৃত জড়তার বুকে’ মুক্তির স্বর্ণদ্বার খুলে দিয়েছে। অর্থাৎ নদীর তীব্র গতিই মানুষের স্তব্ধ জীবনপ্রবাহে নতুন স্পন্দন আনে। উদ্দীপকে বন্যায় সবকিছু হারানোর পরও কৃষকেরা নতুন বীজ বোনে, ঘর তোলে, শিশুরা খেলায় মাতে। এই দৃশ্য ধ্বংসের পর নতুন জীবনের জেগে ওঠাকেই নির্দেশ করে। রিনার উপলব্ধিও একই—নদী নিয়ে গেলেও মানুষ থেমে থাকে না। তাই কবিতার মতো উদ্দীপকেও নদী একদিকে ক্ষতির কারণ, অন্যদিকে নবজাগরণের প্রেরণা। এ কারণে পদ্মাকে শুধু ধ্বংসের নয়, জাগরণেরও প্রতীক বলা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও