রসায়ন • খনিজ সম্পদ: জীবাশ্ম (Mineral Resources: Fossils)
রসায়ন প্রশ্ন
শহরের একটি হার্ডওয়্যার দোকানে সুমন পানির পাইপ হিসেবে মনোমার থেকে তৈরি একটি পলিমারের পাইপ এবং ইথিন থেকে তৈরি পলিমারের তৈরি পাতলা ব্যাগ বিক্রি হতে দেখল। দোকানদার বললেন, ব্যবহার শেষে ব্যাগগুলো মানুষ যেখানে-সেখানে ফেলে দেয়, ফলে ড্রেন আটকে যায়। কেউ কেউ পুরোনো প্লাস্টিক পুড়িয়ে ফেলে অথবা গলিয়ে নতুন জিনিস বানায়।
- ক)(1)
মনোমার কাকে বলে?
- খ)(2)
ইথিন থেকে পলিথিন তৈরিকে সংযোজন পলিমারকরণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের পাইপ তৈরির পলিমারটি কীভাবে প্রস্তুত করা হয়? সমীকরণসহ লেখো এবং ব্যাগ তৈরির পলিমারের তুলনায় পাইপের পলিমারের ধর্মের পার্থক্য উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিবেশগত সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে এগুলো কমানোর উপায়গুলো যুক্তিসহ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় যে ছোট অণুগুলো অংশগ্রহণ করে তাদের প্রত্যেকটিকে মনোমার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পলিথিন তৈরিতে ইথিনের মনোমার অণুগুলো সরাসরি একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকলবিশিষ্ট পলিমার গঠন করে। এ সময় কোনো ক্ষুদ্র অণু, যেমন পানি বা অপসারিত হয় না। যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় মনোমারগুলো এভাবে সরাসরি যুক্ত হয়, তাকে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। তাই ইথিন থেকে পলিথিন তৈরি একটি সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাইপের পলিমারটি পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC)। ভিনাইল ক্লোরাইডকে জৈব পার-অক্সাইডের উপস্থিতিতে উচ্চ চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পিভিসি উৎপন্ন হয়।
ধর্মের পার্থক্য: ব্যাগ তৈরির পলিথিন সহজে কাটা যায় না, টেকসই ও নমনীয়। পিভিসি তুলনায় শক্ত, কঠিন ও কম নমনীয়, তাই পানির পাইপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থ তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমস্যা: প্রকৃতিতে সাধারণ জিনিস ব্যাকটেরিয়া, বায়ুর অক্সিজেন বা অন্য পদার্থের বিক্রিয়ায় ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। কিন্তু প্লাস্টিক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না এবং অন্য পদার্থের সাথে বিক্রিয়াও করে না। তাই ফেলে দেওয়া ব্যাগ মাটি বা পানিতে একই রকম থেকে যায়। এতে ড্রেন আটকে যায়, মাটি ও পানির দূষণ ঘটে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। প্লাস্টিক পোড়ালে বা গলালে অনেক রকম বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
সমাধান ও মূল্যায়ন: (১) প্লাস্টিক যেখানে-সেখানে না ফেলে সংরক্ষণ করে প্রক্রিয়াজাত (recycling) করে পুনরায় ব্যবহার করা উচিত। এতে বর্জ্য ও কাঁচামাল দুই-ই কমে। (২) কাঠ, ধাতু ও পাট-তুলার মতো প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার বাড়ানো উচিত, কারণ এগুলো পচনশীল। (৩) বিজ্ঞানীরা পচনশীল প্লাস্টিক তৈরির চেষ্টা করছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। (৪) প্লাস্টিক পুড়িয়ে ফেলা বা গলানো উচিত নয়, কারণ তাতে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়।
প্লাস্টিক হালকা, সস্তা ও টেকসই বলে সম্পূর্ণ বর্জন করা সম্ভব নয়। তাই সঠিকভাবে ব্যবহার, পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও পচনশীল বিকল্প একসাথে অনুসরণ করলেই ক্ষতি সবচেয়ে কম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও