জীববিজ্ঞান • রেচন প্রক্রিয়া

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

৪০ বছর বয়সী হাবিব সাহেব অতিরিক্ত ওজনের মানুষ এবং কাজের ব্যস্ততায় দিনে খুব অল্প পানি পান করেন। কিছুদিন ধরে তার কোমরের পিছনে তীব্র ব্যথা হচ্ছে, প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাচ্ছে এবং মাঝে মাঝে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে। ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালেন, তার একটি বৃক্কে ছোট আকারের একটি কঠিন পদার্থ জমেছে এবং তা এখন প্রস্রাব নালিতে নেমে এসেছে।

  1. ক)

    বৃক্কের পাথর কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রাথমিক অবস্থায় বৃক্কে পাথর হলে তেমন সমস্যা ধরা পড়ে না, কিন্তু পরে ব্যথা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে হাবিব সাহেবের শারীরিক সমস্যার সম্ভাব্য কারণগুলো চিহ্নিত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    হাবিব সাহেবের বর্তমান সমস্যা সমাধান ও ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে তোমার সুপারিশমালা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষের কিডনিতে ছোট আকারের পাথর জাতীয় পদার্থের সৃষ্টিকে বৃক্ক বা কিডনির পাথর বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাথর বৃক্কের ভেতরে থাকলে সাধারণত প্রস্রাবের পথে বাধা সৃষ্টি করে না, তাই তখন তেমন উপসর্গ বোঝা যায় না। পরে পাথরটি প্রস্রাব নালিতে চলে এলে প্রস্রাবের পথ আটকে যায় এবং প্রস্রাবে বাধা সৃষ্টি হয়। এ সময় কোমরের পিছনে ব্যথা হয়, কখনো প্রস্রাবের সাথে রক্ত যায় এবং কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাবিব সাহেবের সমস্যাটি বৃক্কে পাথর। উদ্দীপক অনুযায়ী এর সম্ভাব্য কারণগুলো হলো:
    ১. কম পানি পান করা: তিনি দিনে খুব অল্প পানি পান করেন, যা বৃক্কে পাথর হওয়ার একটি প্রধান কারণ।
    ২. অতিরিক্ত শারীরিক ওজন: তিনি অতিরিক্ত ওজনের মানুষ, আর অতিরিক্ত ওজন পাথর হওয়ার কারণ হতে পারে।
    ৩. লিঙ্গ: মেয়েদের তুলনায় পুরুষদের পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি। হাবিব সাহেব পুরুষ।
    এছাড়া কিডনির সংক্রমণও একটি কারণ হতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাবিব সাহেবের বৃক্কে পাথর হয়েছে এবং তা প্রস্রাব নালিতে নেমে এসেছে। সমস্যা সমাধান ও প্রতিরোধে আমার সুপারিশ নিচে দেওয়া হলো:
    ১. চিকিৎসা: চিকিৎসা নির্ভর করে পাথরের আকার ও অবস্থানের ওপর। ছোট পাথর হলে অধিক পানি গ্রহণ ও ঔষধ সেবনে তা অপসারণ করা যায়। বড় বা আটকে থাকা পাথরের ক্ষেত্রে ইউরেটারোস্কোপিক বা আল্ট্রাসনিক লিথোট্রিপসি পদ্ধতি অথবা অস্ত্রোপচার করা যায়। তাই দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
    ২. পানি পান: পরিমাণমতো পানি পান করতে হবে, কারণ কম পানি পান পাথরের কারণ।
    ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত শারীরিক ওজন কমিয়ে ফেলতে হবে।
    ৪. সংক্রমণ ও রোগ: কিডনি ও মূত্রনালির সংক্রমণের দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
    ৫. জীবনযাপন: ধূমপান ত্যাগ করা, ব্যথানাশক ঔষধ যথাসম্ভব পরিহার করা এবং নিয়ম মেনে জীবনযাপন করা প্রয়োজন।
    এসব নিয়ম মানলে সমস্যার সমাধান হবে এবং পাথর আবার হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও