সাহিত্য পাঠ • গহন কোন বনের ধারে
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নীলা বন্ধুদের সঙ্গে চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখে, একটি ভালুককে শিকল পরিয়ে দর্শকদের সামনে নাচানো হচ্ছে। চারপাশের লোকজন হাততালি দিলেও ভালুকটির ক্লান্ত চোখ আর হাঁপানো দেখে নীলার মন খারাপ হয়ে যায়। সে বাড়ি ফেরার জন্য জেদ ধরে। বন্ধুরা তাকে বোকা বলে ঠাট্টা করে, কিন্তু নীলা সারা পথ চুপ করে থাকে।
- ক)(1)
বাঘকে ধরার জন্য ফাঁদের ঘরে কী বেঁধে রাখা হয়েছিল?
- খ)(2)
"দৃশ্যটা আমার ভালো লাগলো না।"- লেখকের এ রকম মনে হয়েছিল কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নীলার অনুভূতি 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার কোন অংশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের দর্শকদের মতো 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার বাঘ-শিকারের মেলায় সমবেত মানুষের আচরণেও বন্য প্রাণীর প্রতি মানুষের নির্দয়তা ফুটে উঠেছে।"- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাঘকে লোভ দেখিয়ে ধরার জন্য ফাঁদের ছোট ঘরে ছাগল বেঁধে রাখা হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শোভা বুড়োর সঙ্গে লেখক জ্যান্ত বাঘ দেখতে গিয়ে দেখেন, জাল ও বর্শায় ঘেরা মাঠে ফাঁদে ধরা বাঘটিকে শিকারিরা ঘিরে রেখেছে। বাঘটি লাফিয়ে পড়লে বর্শার ফলা তার পিঠে বিঁধে যায় এবং সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তার মুখ দিয়ে ফেনা ঝরছিল। অসহায় বন্দি প্রাণীর এই যন্ত্রণা লেখকের কোমল শিশুমনকে ব্যথিত করে। তাই দৃশ্যটা তাঁর ভালো লাগেনি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নীলার অনুভূতি রচনার বাঘ দেখতে যাওয়ার অংশে লেখকের অনুভূতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রচনায় পৌষের এক সকালে শোভা বুড়ো লেখক, কপুচে ও রোগাকে নিয়ে ফাঁদে ধরা জ্যান্ত বাঘ দেখতে যায়। সেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে জাল ও বর্শায় ঘেরা মাঠে বাঘটি ক্রুদ্ধ হয়ে লাফিয়ে পড়লে তার পিঠে বর্শার ফলা বিদ্ধ হয়। বাঘটি ক্লান্ত হয়ে মুখে ফেনা নিয়ে ঝোপের আড়ালে পালায়। এই দৃশ্যে লেখকের মায়া হয় এবং তিনি বাড়ি ফেরার বাহানা ধরেন। উদ্দীপকে নীলাও শিকল পরা ক্লান্ত ভালুকের কষ্ট দেখে ব্যথিত হয় এবং বাড়ি ফেরার জেদ ধরে। দুজনের ক্ষেত্রেই অন্যরা যখন বন্য প্রাণীর কষ্টকে বিনোদন হিসেবে দেখছে, তখন তারা প্রাণীর যন্ত্রণায় সহমর্মী হয়েছে। এ কারণেই নীলার অনুভূতি রচনার ওই অংশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে চিড়িয়াখানার দর্শকেরা শিকল পরা ক্লান্ত ভালুককে নাচ করতে দেখে হাততালি দেয় এবং নীলার সহমর্মিতাকে ঠাট্টা করে। প্রাণীর কষ্ট তাদের কাছে বিনোদনের উপকরণ মাত্র। রচনার বাঘ-শিকারের মেলাতেও একই চিত্র দেখা যায়। হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে জাল ঘেরা মাঠে ছাগল দিয়ে ফাঁদে ধরা বাঘটিকে দেখতে এসেছে। শিকারিরা গা ঘেঁষে বর্শা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। বাঘ লাফিয়ে পড়লে বর্শার ফলায় তার পিঠ বিদ্ধ হয়। ক্লান্ত বাঘের মুখে ফেনা ঝরলেও এই আয়োজন থামেনি। শোভা বুড়ো লেখককে বলেছিল, দিন কয়েক খেলিয়ে বাঘটিকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু লেখক পরে জেনেছেন, বাঘটিকে গুলি করে মেরে মাচায় তুলে সবাইকে দেখানো হতো এবং তার ছাল নিয়ে জমিদারদের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধত। অর্থাৎ বন্য প্রাণীর প্রতি নির্দয়তা ও আত্মকেন্দ্রিক উল্লাস উভয় ক্ষেত্রেই এক। তবে উভয় ক্ষেত্রেই সংবেদনশীল ব্যক্তি, নীলা ও লেখক, মানবিক বোধের পরিচয় দিয়েছে। অতএব মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও