ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমী খিলাফত (৯০৯-১১৭১ খ্রি.)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

মিলনপুর গ্রামের মাতব্বর জনাব আব্দুস সালাম মৃত্যুর পূর্বে তাঁর বড় ছেলে জামালকে নিজের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। কিন্তু জামাল পিতার জীবদ্দশাতেই মারা যান। তখন আব্দুস সালাম দ্বিতীয় ছেলে কামালকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন। গ্রামের একদল লোক কামালকে নেতা হিসেবে মেনে নেয়। অন্য দল দাবি করে, মৃত জামালের পুত্র রাহাতই আসল নেতা। ফলে গ্রামটি দুই দলে ভাগ হয়ে যায়।

  1. ক)

    শিয়াদের ষষ্ঠ ইমাম কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ইসমাইলীয়দের 'বাতেনী শিয়া' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শিয়া ইমামতের কোন ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে? উদ্দীপকের চরিত্রগুলোর সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দুই পক্ষের মতো শিয়াদের দ্বাদশ ইমামপন্থী ও ইসমাইলীয় দলের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিয়াদের ষষ্ঠ ইমাম ছিলেন জাফর আস-সালেক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ষষ্ঠ ইমাম জাফর আস-সালেকের জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাইল পিতার জীবদ্দশায় মারা যান। ইসমাইলীয়দের মতে, ইসমাইলের মৃত্যুর পর থেকে 'যাহেরী ইমাম' তথা প্রকাশ্য ইমামের ধারা শেষ হয়ে যায় এবং ইসমাইলের পুত্র মুহাম্মদ আল-মাকতুম থেকে 'বাতেনী ইমাম' তথা গুপ্ত ইমামের ধারা শুরু হয়। এ গুপ্ত ইমামে বিশ্বাসের কারণেই সা'বিয়া বা ইসমাইলীয়দের 'বাতেনী শিয়া' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ষষ্ঠ ইমাম জাফর আস-সালেকের উত্তরাধিকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিয়া সম্প্রদায়ের বিভক্ত হওয়ার ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে।

    ইমাম জাফর আস-সালেক তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাইলকে ইমামতের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু ইসমাইল পিতার আগেই ইন্তেকাল করেন। ফলে ৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর সময় জাফর আস-সালেক দ্বিতীয় পুত্র মুসা আল-কাজিমকে উত্তরাধিকারী মনোনয়ন দেন। একদল শিয়া মুসা আল-কাজিমকে ইমাম বলে মেনে নেয়, যারা দ্বাদশ ইমামপন্থী। অপর দল ইসমাইলের পুত্র মুহাম্মদ আল-মাকতুমকে ইমাম মনে করে, যারা ইসমাইলের নামানুসারে ইসমাইলীয় নামে পরিচিত।

    উদ্দীপকের আব্দুস সালাম হলেন জাফর আস-সালেক, জামাল ইসমাইল, কামাল মুসা আল-কাজিম এবং জামালের পুত্র রাহাত মুহাম্মদ আল-মাকতুম। উদ্দীপকের গ্রামের দুই দলের মতো শিয়ারাও দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাফর আস-সালেকের পর শিয়ারা প্রধানত দ্বাদশ ইমামপন্থী (ইবনে আসারিয়া) ও ইসমাইলীয় (সা'বিয়া) - এ দুই দলে বিভক্ত হয়। উদ্দীপকের গ্রামের দুই দলের মতোই তাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য ছিল। পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ইমামের সংখ্যা: দ্বাদশ ইমামপন্থীরা মোট বারোজন ইমামে বিশ্বাস করে, আর ইসমাইলীয়রা সাতজন ইমামে বিশ্বাস করে বলে তাদের 'সাত ইমামপন্থী'ও বলা হয়।

    ২. সপ্তম ইমাম: দ্বাদশ ইমামপন্থীরা জাফর আস-সালেকের পর তাঁর পুত্র মুসা আল-কাজিমকে সপ্তম ইমাম মানে। ইসমাইলীয়রা তাঁকে ইমাম বলে স্বীকার করে না; তারা ইসমাইল ও তাঁর পুত্র মুহাম্মদ আল-মাকতুমের ইমামতে বিশ্বাসী।

    ৩. ইমামতের ধারা: দ্বাদশ ইমামপন্থীদের ইমামতের ধারা মুসা আল-কাজিম, আলী আল-রেজা, মুহাম্মদ আল-জাওয়াদ, আলী আল-হাদী, হাসান আল-আস্কারী হয়ে দ্বাদশ ইমাম মুহাম্মদ আল-মুনতাজার পর্যন্ত চলে, যিনি ৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে সামাররাহ থেকে অন্তর্ধান হন। ইসমাইলীয়দের মতে ইসমাইলের মৃত্যুর পর যাহেরী (প্রকাশ্য) ইমামের ধারা শেষ হয়ে বাতেনী (গুপ্ত) ইমামের ধারা শুরু হয়, তাই তারা বাতেনী শিয়া নামেও পরিচিত।

    ৪. রাজনৈতিক সাফল্য: ইসমাইলীয়রাই সংগঠিত প্রচারের মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে।

    তাই মূল পার্থক্য ছিল উত্তরাধিকারী ইমামের স্বীকৃতি ও ইমামতের ধারা নিয়ে, যা একই মূল থেকে উদ্ভূত দুটি স্বতন্ত্র ধারার জন্ম দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও