বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
নয়নপুর গ্রামে আগে বড়দের দেখলে সবাই সালাম দিত, অতিথি এলে যত্ন করে আপ্যায়ন করা হতো। এখন সেখানকার একদল তরুণ বড়দের অসম্মান করে, দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে এবং ছিনতাই করে বেড়ায়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে থানায় মামলা হয় না, আর হলেও অপরাধীরা শাস্তি পায় না। ফলে গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
- ক)(1)
সামাজিক সমস্যা কী?
- খ)(2)
সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে সামাজিক নৈরাজ্যের কোন কোন লক্ষণ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সমাজজীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়বে বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সামাজিক সমস্যা হলো সমাজজীবনের এমন একটি অবাঞ্ছিত অবস্থা, যা সমাজের বৃহৎ অংশকে প্রভাবিত করে এবং যার প্রতিকারের জন্য সমাজবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগ নেয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেকোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব ও অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। যেসব ধ্যানধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য ও সংকল্প মানুষের আচার-আচরণ ও কার্যাবলিকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোর সমষ্টিই সামাজিক মূল্যবোধ। যেমন বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, অতিথির প্রতি সম্মান এবং ছোটদের প্রতি স্নেহ। এগুলো সমাজে শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরম রূপকে সামাজিক নৈরাজ্য বলে। রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্র যখন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন সমাজে নৈরাজ্য দেখা দেয়।
উদ্দীপকে নয়নপুর গ্রামের একদল তরুণ চাঁদাবাজি ও ছিনতাই করছে। পাঠ্যবইয়ে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইকে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীদের ভয়ে মামলা না হওয়া এবং মামলা হলেও অপরাধীদের শাস্তি না পাওয়া থেকে বোঝা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থা অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এটিও নৈরাজ্যের একটি স্পষ্ট লক্ষণ। অতএব উদ্দীপকে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও বিচারহীনতার মাধ্যমে সামাজিক নৈরাজ্যের লক্ষণ ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বড়দের প্রতি অশ্রদ্ধা ও অতিথিকে সম্মান না করার মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও বিচারহীনতার মধ্যে সামাজিক নৈরাজ্য প্রকাশ পেয়েছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে সমাজজীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।
প্রথমত, মানুষের অধিকারের বঞ্চনা বেড়ে যাবে। ভয়ে কেউ আইনের আশ্রয় নিতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বাড়বে, কারণ বেশিরভাগ অপরাধী শাস্তি পাবে না। এতে নতুন নতুন তরুণ অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। তৃতীয়ত, সমাজজীবনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে; নয়নপুরের মানুষ যেমন আতঙ্কে আছে, তেমনি স্বাভাবিক চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেখাপড়া ব্যাহত হবে। চতুর্থত, ঘুষ ও দুর্নীতিতে সমাজ অচল হয়ে পড়বে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব সেবা খাতের মান নিম্নগামী হবে। পঞ্চমত, নৈতিক অবনতি ব্যাপক আকার ধারণ করলে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভাঙন শুরু হবে এবং আরও নানা সামাজিক সমস্যা বেড়ে যাবে।
সুতরাং ব্যাপক সচেতনতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি দ্রুত রোধ না করলে সমাজ গভীর সংকটে পড়বে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও