বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

পনেরো বছরের রাফি ঢাকার একটি বস্তিতে থাকে। বাবা রিকশা চালান, মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। সারাদিন বাবা-মা বাইরে থাকায় রাফির দেখাশোনা করার কেউ নেই। বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হওয়ার পর সে খারাপ বন্ধুদের সঙ্গে মিশে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। একদিন পুলিশ তাকে ধরে শিশু আদালতে হাজির করে।

  1. ক)

    বাংলাদেশের শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কত বছর বয়স পর্যন্ত ব্যক্তিকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    কিশোর অপরাধের বিচার ব্যবস্থায় সাজা দেওয়ার চেয়ে সংশোধনকে গুরুত্ব দেওয়া হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রাফির অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে কী কী কারণ কাজ করেছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাফির মতো কিশোরদের জন্য শিশু আইনে নির্ধারিত বিচার ও সংশোধন ব্যবস্থা কতটা যুক্তিযুক্ত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অনূর্ধ্ব ১৮ (আঠারো) বছর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তি শিশু হিসেবে গণ্য হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কিশোররা অনেক ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার অভাব, দুঃসাহসিক মনোভাব ও খারাপ সঙ্গের কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই তাদের কঠোর শাস্তি দিলে তারা আরও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে। কিশোর অপরাধের বিচার ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো তাদের সাজা দেওয়া নয়, বরং তারা যেন নিজেদের ভুল উপলব্ধি করে সংশোধিত হওয়ার সুযোগ পায়। এজন্য শিশু আদালত, পৃথক হাজত ও শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এভাবে একজন কিশোরকে ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রাফির অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত কিশোর অপরাধের একাধিক কারণ কাজ করেছে।

    প্রথমত, রাফি শহরের বস্তিতে বাস করে। পারিবারিক অভাব-অনটন এবং বস্তির পরিবেশের কারণে বস্তিবাসী কিশোররা অপরাধমূলক কাজে বেশি জড়িয়ে পড়ে।

    দ্বিতীয়ত, বাবা-মা সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকায় রাফির ওপর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণের অভাব কিশোরদের বিপথগামী করে।

    তৃতীয়ত, রাফি শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিদ্যালয়ে না যাওয়ায় সে নৈতিক শিক্ষা ও গঠনমূলক পরিবেশ পায়নি।

    চতুর্থত, সে খারাপ বন্ধুদের সঙ্গে মিশেছে। খারাপ সঙ্গ কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।

    সুতরাং অভাব, নিয়ন্ত্রণের অভাব, শিক্ষা থেকে বঞ্চনা ও খারাপ সঙ্গই রাফির অপরাধী হয়ে ওঠার কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাফির মতো কিশোরদের জন্য শিশু আইনে যে বিচার ও সংশোধন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি।

    শিশু আইনে প্রত্যেক জেলা সদরে শিশু আদালত গঠনের কথা বলা হয়েছে, ফলে রাফিকে সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের সঙ্গে বিচার করা হবে না। তাকে রাখার জন্য পৃথক হাজত বা আবাসনের ব্যবস্থা থাকায় সে অন্য কুখ্যাত অপরাধীদের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে।

    বিচারের সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা রাফির চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এবং অভিভাবকদের তথ্য নিয়ে অপরাধের কারণ খুঁজে বের করেন ও আদালতে প্রতিবেদন দেন। এতে বোঝা যায় রাফির দারিদ্র্য, অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণের অভাব ও শিক্ষা থেকে বঞ্চনাই মূল কারণ। ফলে তাকে শুধু শাস্তি না দিয়ে কারণ দূর করার সুযোগ থাকে।

    আইন অনুযায়ী যাদের আনুষ্ঠানিক সংশোধন প্রয়োজন তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে রাফি নৈতিক শিক্ষা, শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেয়ে নিজের ভুল উপলব্ধি করতে পারবে।

    কিশোর অপরাধের বিচারের উদ্দেশ্য সাজা দেওয়া নয়, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। এই ব্যবস্থায় রাফি সুপথে ফিরে সমাজের সম্পদে পরিণত হতে পারবে। অতএব আইনের এই ব্যবস্থা যুক্তিযুক্ত ও কার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও