বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
দশম শ্রেণির ছাত্রী সুমি রাসেলের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল একদিন সুমির মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে। এতে সুমির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায় এবং তার দৃষ্টিশক্তি আংশিক নষ্ট হয়। সুমির পরিবার মামলা করে। এলাকার মানুষ বলাবলি করছে, শুধু আইন দিয়ে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা যাবে না।
- ক)(1)
অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন কত সালে প্রণীত হয়?
- খ)(2)
অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন-২০০২ অনুযায়ী উদ্দীপকের রাসেলের কী শাস্তি হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
এলাকার মানুষের মন্তব্য, শুধু আইন দিয়ে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা যাবে না। তুমি কি এ মন্তব্যের সাথে একমত? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ সালে প্রণীত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইনের মাধ্যমে সরকার অ্যাসিডের মজুদ, বহন এবং আনা-নেওয়া ব্যবস্থার ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর উদ্দেশ্য হলো যত্রতত্র অ্যাসিডের সহজলভ্যতা বন্ধ করা, যাতে অ্যাসিডের অপব্যবহার করে কেউ নারীর ক্ষতি করতে না পারে। ২০১০ সালে সংসদ এ আইনের সংশোধন করে আরও কার্যকর করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন-২০০২-এ বলা হয়েছে, কেউ অ্যাসিড দ্বারা অন্য কাউকে এমনভাবে আহত করলে যাতে তার দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নষ্ট হয় অথবা মুখমণ্ডল বিকৃত বা নষ্ট হয়, তাহলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।
উদ্দীপকে রাসেল অ্যাসিড ছুড়ে সুমির মুখমণ্ডল বিকৃত করেছে এবং তার দৃষ্টিশক্তি আংশিক নষ্ট করেছে। এ ক্ষেত্রে আইনের উল্লিখিত বিধান প্রযোজ্য। তাই রাসেলের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমি এলাকার মানুষের মন্তব্যের সাথে একমত।
উদ্দীপকের মতো অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিরোধে অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন-২০০২ ও অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব আইনে কঠোর শাস্তির বিধান থাকায় অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি হয়। তবে কেবল আইন যথেষ্ট নয়, কারণ অপরাধের পেছনে সামাজিক ও মানসিক কারণ রয়েছে। প্রেম বা অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ইত্যাদি কারণে অ্যাসিড নিক্ষেপ ঘটে। নারীকে দুর্বল ও অধীন মনে করার পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় এর মূলে কাজ করে। আইন এ মনোভাব বদলাতে পারে না।
তাই সমাজের অন্যান্য করণীয়ও জরুরি। যেমন
১. নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নের কর্মসূচি গ্রহণ এবং নারী অধিকার ও আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি;
২. পরিবারে ছেলেমেয়ে উভয়কে নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া এবং নারী-পুরুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা;
৩. গ্রাম আদালত, ইউনিয়ন পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করা এবং অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট করা, ক্ষতিপূরণ আদায় করার মতো সামাজিক চাপ প্রয়োগ করা;
৪. ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলা।সুতরাং আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষা ও সামাজিক চাপ একসাথে কাজ করলেই এ ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব। তাই মন্তব্যটি যুক্তিসংগত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও