তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ ও সাইবার নিরাপত্তা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
মাহফুজ সাহেবের অফিসের কম্পিউটারগুলো বছরের পর বছর ধুলাবালি ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে রাখা হতো এবং অপারেটিং সিস্টেম কখনো আপডেট করা হতো না। ফলে প্রায়ই কম্পিউটার ধীর হয়ে যেত ও হ্যাং করত। একদিন একটি কম্পিউটার একেবারে চালুই হলো না, তখন টেকনিশিয়ান ডেকে মেইনবোর্ডের একটি অংশ পাল্টানো হলো। এরপর তিনি নিয়ম করলেন, প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি কম্পিউটারে ভাইরাস স্ক্যান ও ডিস্ক ক্লিন করা হবে এবং ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।
- ক)(1)
কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণ কাকে বলে?
- খ)(2)
কম্পিউটারের কাছে চুম্বক জাতীয় পদার্থ রাখা উচিত নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে টেকনিশিয়ান কর্তৃক মেইনবোর্ডের অংশ পাল্টানো কোন ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মাহফুজ সাহেবের পরবর্তী সময়ে গৃহীত ব্যবস্থাগুলো কম্পিউটার সচল রাখতে কতটা কার্যকর? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে ভালো অবস্থায় রাখার প্রচেষ্টাকে কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে সংবেদনশীল। কাছে চুম্বক বা ধাতব পদার্থ থাকলে চৌম্বকক্ষেত্র ডেটা সংরক্ষণ ও যন্ত্রাংশের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এতে সংরক্ষিত তথ্য নষ্ট হতে বা যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কম্পিউটারের আশেপাশে এ ধরনের পদার্থ রাখা উচিত নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে কম্পিউটার চালু না হওয়ার পর, অর্থাৎ ফল্ট তৈরি হওয়ার পর টেকনিশিয়ান ডেকে মেইনবোর্ডের একটি অংশ পাল্টানো হয়েছে। কম্পিউটারের ফল্ট বা সমস্যা তৈরি হওয়ার পর তা মেরামত বা পরিবর্তন করে কম্পিউটারকে কর্মক্ষম করাকে সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ (Corrective Maintenance) বলে। এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাধারণত কম্পিউটার টেকনিশিয়ানের সাহায্য লাগে। উদ্দীপকে সমস্যা হওয়ার পর মেরামত করা হয়েছে এবং টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। তাই এটি সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাহফুজ সাহেব পরবর্তীতে সাপ্তাহিক ভাইরাস স্ক্যান, ডিস্ক ক্লিন এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়েছেন। এগুলো প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত, কারণ সমস্যা তৈরি হওয়ার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১. ভাইরাস স্ক্যান: নিয়মিত স্ক্যানে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ধরা পড়ে ও সরানো যায়, ফলে সিস্টেমের গতি ও তথ্যের নিরাপত্তা বজায় থাকে। ২. ডিস্ক ক্লিন: অপ্রয়োজনীয় ও অস্থায়ী ফাইল মুছে গেলে ডিস্কের জায়গা খালি হয় এবং কম্পিউটার দ্রুত কাজ করে। ৩. আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ: আর্দ্রতা ও ধুলা যন্ত্রাংশ নষ্ট করে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্ডওয়্যারের আয়ু বাড়ে ও আকস্মিক বিকল হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে অপারেটিং সিস্টেম আপডেটের কথা তিনি বলেননি; এটিও প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হওয়ায় যুক্ত করা উচিত। সুতরাং ব্যবস্থাগুলো যথেষ্ট কার্যকর এবং এতে বারবার বিকল হওয়া ও ব্যয়বহুল মেরামতের প্রয়োজন কমবে, তবে আপডেট যুক্ত করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও