সাহিত্য পাঠ • বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
ব্লগার সুমন ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এলাকার এক শিক্ষককে নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করে। তাতে প্রমাণহীন নানা অভিযোগ ও অপবাদ ছিল। সে লেখাটি যাচাই না করেই ছেড়ে দেয়। কিছুদিন পর অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে এলাকার মানুষ সুমনকে ধিক্কার দেয় এবং তার ব্লগের পাঠক কমে যায়।
- ক)(1)
‘বাংলার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
“প্রবন্ধটির রয়েছে সর্বকালীন বৈশ্বিক আবেদন”— বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
সুমনের লেখায় ‘বাংলার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন কোন নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ”— সুমনের পরিণতির আলোকে উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রচনাটি প্রথম ‘প্রচার’ পত্রিকায় (১৮৮৫ সালে) প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বঙ্কিমচন্দ্র এই প্রবন্ধে লেখকদের আদর্শ কী হওয়া উচিত তা বলেছেন। সত্যনিষ্ঠা, সংযম, সরলতা, অনুকরণবর্জন ও কল্যাণের উদ্দেশ্য- এসব নীতি কোনো বিশেষ কাল বা দেশের জন্য নয়। যেকোনো যুগের ও যেকোনো দেশের লেখকের জন্য এগুলো সমান প্রযোজ্য। তাই প্রবন্ধটির আবেদন সর্বকালীন ও বৈশ্বিক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুমনের লেখায় প্রধানত দুটি নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রথমত, বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, পরনিন্দা বা পরপীড়ন যে লেখার উদ্দেশ্য, সেই লেখা কখনো হিতকর হতে পারে না, তা পরিহার্য। সুমন ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে শিক্ষককে আঘাত করার জন্য লিখেছে। দ্বিতীয়ত, প্রাবন্ধিক নির্দেশ দিয়েছেন, যে কথার প্রমাণ দিতে পারা যাবে না তা লেখা উচিত নয়। সুমনের অভিযোগগুলো ছিল প্রমাণহীন এবং পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এভাবে সত্যনিষ্ঠার নীতিও সে ভঙ্গ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। বঙ্কিমচন্দ্র মনে করেন, অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা বা স্বার্থসাধনের লেখা কখনো হিতকর হয় না, তাই সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। সুমন ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়েছে। এতে একজন নির্দোষ মানুষের সম্মানহানি হয়েছে এবং সমাজের ক্ষতি হয়েছে। এটি প্রাবন্ধিকের ভাষায় লেখনীর অপব্যবহার বা মহাপাপ। পরিণামে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, সুমন সামাজিকভাবে ধিক্কৃত হয়েছে এবং তার ব্লগও পাঠক হারিয়েছে। অন্যদিকে সত্যনির্ভর ও কল্যাণকামী লেখা পাঠকের আস্থা অর্জন করে। সুমনের এই পরিণতি প্রমাণ করে যে সত্য ও কল্যাণ থেকে সরে গেলে লেখক নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং লেখার মর্যাদাও হারায়। তাই প্রাবন্ধিকের উক্তি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও