ভূগোল ১ম পত্র • জীবমণ্ডল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

শহরের একটি হাসপাতালের পাশের সড়কে প্রতিদিন ডিজেলচালিত বাস, ট্রাক চলে এবং চালকেরা উচ্চ তীব্রতার বৈদ্যুতিক হর্ন বাজায়। সড়কের অপর পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রায়ই বিয়ের অনুষ্ঠানে মাইক বাজে ও আতশবাজি পোড়ানো হয়। হাসপাতালের পেছনে একটি ছাপাখানা আছে, যেখানে ছাপার মেশিন চলে প্রায় 100 dB শব্দ তুলে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব শব্দে অতিষ্ঠ।

  1. ক)

    শব্দদূষণের প্রধান কারণ কী?

    (1)
  2. খ)

    স্বাভাবিক কথোপকথনে শব্দদূষণ হয় না, কিন্তু উচ্চস্বরে কথা বললে হয় — ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শব্দদূষণের কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনসম্মত, প্রযুক্তিগত ও ব্যক্তিগত উপায়গুলোর মধ্যে কোনটি তোমার মতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষের অদূরদর্শী ক্রিয়াকলাপই শব্দদূষণের প্রধান কারণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্বাভাবিক স্বরে মানুষের কথোপকথনের শব্দের মাত্রা প্রায় 60 dB, যা শব্দদূষণ সৃষ্টি করে না। কিন্তু কোনো জমায়েত স্থলে, অফিসে, রেস্টুরেন্টে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চস্বরে কথা বললে শব্দের মাত্রা প্রায় 85 dB-এ পৌঁছায়। এ মাত্রা যন্ত্রণাদায়ক হয় এবং শব্দদূষণ সৃষ্টি করে। তাই মাত্রার তারতম্যের কারণে স্বাভাবিক কথায় দূষণ হয় না, উচ্চস্বরে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শব্দদূষণের তিনটি প্রধান উৎস দেখা যায়: ১. পরিবহন: শব্দদূষণের প্রধান উৎস পরিবহন। ডিজেল ইঞ্জিনযুক্ত বাস, ট্রাকের চলাচল এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে উচ্চ তীব্রতার বৈদ্যুতিক হর্ন ব্যবহারের ফলে হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কে শব্দদূষণ হয়। ২. সামাজিক কারণ: বিবাহ অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত মাইকের উচ্চ শব্দ এবং আতশবাজি পোড়ানোর অনিয়মিত ও তীব্র শব্দ সমাজের শব্দদূষণের কারণ। ৩. শিল্প প্রক্রিয়া: ছাপাখানায় যান্ত্রিক ক্রিয়ার ফলে প্রায় 100 dB শব্দ উৎপন্ন হয়, যা কর্মরত শ্রমিক ও পাশের জনগোষ্ঠীর ওপর দূষণজনিত প্রভাব ফেলে। এসব কারণেই উদ্দীপকের এলাকায় শব্দদূষণ ঘটছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে তিন ধরনের উপায়ই প্রয়োগ করা যায়: আইনসম্মত: হাসপাতাল, স্কুল, আদালত সংলগ্ন এলাকায় হর্ন ও লাউডস্পিকারের শব্দ নিষিদ্ধ করা, আতশবাজি নিষিদ্ধ করা এবং মাইক ব্যবহারের সময় ও তীব্রতা নির্দিষ্ট করা। ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় শব্দ উৎপাদনকারী কারখানা স্থাপন নিষিদ্ধ করা। বাস, ট্রাকে সাইলেন্সার বাধ্যতামূলক করা। আইন ভঙ্গকারীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা। প্রযুক্তিগত: ছাপাখানায় কম শব্দ উৎপাদনকারী উন্নত মেশিন স্থাপন, মেশিনকে শব্দ অপরিবাহী আচ্ছাদনে ঢেকে দেওয়া এবং শ্রমিকদের ইয়ার মাফ বা ইয়ার প্লাগের মতো শব্দ প্রতিরোধক ডিভাইস ব্যবহারে উৎসাহিত করা। ব্যক্তিগত: নিজ উদ্যোগে মাইক ও রেডিও-টিভির শব্দ কমানো, অকারণে হর্ন না বাজানো এবং নগর বনায়ন করা। আমার মতে সবচেয়ে কার্যকর হলো আইনসম্মত উপায়। কারণ আইন সবার জন্য বাধ্যতামূলক এবং কঠোর শাস্তির ভয়ে একসাথে পরিবহন, সামাজিক অনুষ্ঠান ও শিল্প সব উৎসেই শব্দ নিয়ন্ত্রিত হয়, যা শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতায় সম্ভব নয়। তবে আইনের প্রয়োগ ঠিক থাকলেই এটি ফলপ্রসূ হবে, তাই প্রযুক্তিগত ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ পাশাপাশি চালালে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও