তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
রুমানা সিলেটের একটি গ্রামে বাস করেন। তাঁর ছেলে কানাডায় পড়াশোনা করে। আগে চিঠি পৌঁছাতে মাসখানেক লাগত, এখন ছেলের সাথে প্রতিদিন ভিডিও কলে কথা হয়। গ্রামের হাটের ব্যবসায়ীরা মোবাইল ফোনে আন্তর্জাতিক বাজারদর জেনে নেন। একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
গ্লোবাল ভিলেজ কী?
- খ)(2)
বিশ্বগ্রাম ধারণার প্রধান উপাদান হিসেবে যোগাযোগকে বিবেচনা করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রুমানার ছেলের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বগ্রামের কোন উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ ঘটনাটি বিশ্বগ্রাম ধারণার কোন দিকটি নির্দেশ করে? বিশ্বগ্রামের ইতিবাচক দিকগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এর গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হলো এমন একটি পরিবেশ ও সমাজ, যেখানে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পরস্পরের সাথে যোগাযোগ ও সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আগে যোগাযোগ বলতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত বোঝানো হতো। বিশ্বগ্রামের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ বলতে এখন তথ্যের আদান-প্রদান বা ভাব বিনিময়কেও বোঝায়। ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্সিং, সামাজিক নেটওয়ার্কিং ইত্যাদির মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ করা যায়। এই যোগাযোগের কারণেই ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচে যাচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে গ্রামের মতো নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠছে। তাই যোগাযোগ বিশ্বগ্রাম ধারণার প্রধান উপাদান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রুমানা প্রতিদিন কানাডায় থাকা ছেলের সাথে ভিডিও কলে কথা বলেন। এখানে বিশ্বগ্রামের যোগাযোগ উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে।
যোগাযোগ উপাদান অনুযায়ী কথন, লিখন বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে তথ্যের আদান-প্রদানই যোগাযোগ। তারবিহীন মোবাইল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের পরিষেবা, যেমন- ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, গুগল মিট ইত্যাদির মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ সম্ভব। আগে যেখানে চিঠি পৌঁছাতে মাসখানেক লাগত, এখন ভিডিও কলে মা ও ছেলে সামনাসামনি কথা বলতে পারছেন। এতে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও তাঁরা একই গ্রামের মানুষের মতো নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখতে পারছেন।
অতএব, উদ্দীপকের ঘটনায় বিশ্বগ্রামের যোগাযোগ উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়িয়ে গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এটি বিশ্বগ্রাম ধারণার নেতিবাচক দিক নির্দেশ করে।
বিশ্বগ্রামে তথ্য উন্মুক্ত ও সহজলভ্য হওয়ায় ক্ষতিকারক ও অসত্য তথ্য অনুপ্রবেশের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। এর ফলে সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় অনৈতিক হস্তক্ষেপ, সাইবার আক্রমণ ও প্রযুক্তি বৈষম্য দেখা দেয়। উদ্দীপকের ভুয়া খবরের ঘটনা এ ধরনের বিশৃঙ্খলারই উদাহরণ।
তবে বিশ্বগ্রামের ইতিবাচক দিকও অনেক। এর ফলে জীবনযাত্রার মান ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে এবং দূরশিক্ষণ ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকের রুমানা ভিডিও কলে ছেলের সাথে যোগাযোগ করছেন এবং হাটের ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারদর জেনে লাভবান হচ্ছেন, যা এই ইতিবাচক দিকেরই প্রতিফলন।
নেতিবাচক দিকগুলো সচেতনতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, কিন্তু ইতিবাচক সুবিধাগুলো অপরিসীম। তাই সচেতনতার সাথে ব্যবহার করলে বিশ্বগ্রাম ধারণা সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য ও কল্যাণকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও