সাহিত্য পাঠ • কারবালা-প্রান্তর
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
পাড়ার মাদকবিরোধী অভিযানে সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা রফিক একা এক চক্রের আস্তানায় ঢুকে পড়লে চক্রের সদস্যরা ভয়ে পালিয়ে জঙ্গলে লুকাল। চক্রের নেতা শহরে নিরাপদে বসে থেকে নিজ লোকজনকে অভিযানে পাঠিয়েছিল। রফিক তা জেনে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। পরে ক্লান্ত রফিক যখন একা দাঁড়িয়ে ছিলেন, লুকিয়ে থাকা কয়েকজন একযোগে পেছন থেকে তাঁর ওপর হামলা চালাল।
- ক)(1)
এজিদ নিজে কোথায় থাকত?
- খ)(2)
“এজিদপক্ষীয় সৈন্যগণ চমকিত হইল” — কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চক্রের নেতা ও সদস্যদের আচরণ ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশের এজিদ-বাহিনীর কোন কোন আচরণকে মনে করিয়ে দেয়? বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের চক্রনেতা ও এজিদ উভয়েই কাপুরুষ হলেও এজিদের অপরাধ গুরুতর।” — ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশের আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এজিদ নিজে দামেশ্কে (দামেশ্যে) থাকত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কারবালার প্রান্তরে মহাবীর ইমাম হোসেন স্বয়ং অশ্বারোহণে যুদ্ধক্ষেত্রে এলে তাঁর অশ্বের পদধ্বনি শুনে এজিদের সৈন্যরা চমকে ওঠে। হোসেনের বীরত্ব, শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের কথা তাদের জানা ছিল। তিনি উচ্চস্বরে এজিদকে ডেকে তাদের অর্থলোভী ও পিশাচ বলে ধিক্কার দেন। এ কারণে সকলের অন্তর কেঁপে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের চক্রের নেতা নিজে নিরাপদে থেকে অন্যদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে পাঠিয়েছে। এটি ‘কারবালা-প্রান্তর’-এর এজিদের আচরণকে মনে করিয়ে দেয়, যে নিজে দামেশ্কে থেকে নিরীহ সৈন্যদের রণস্থলে পাঠিয়েছিল। হোসেন এ জন্য তাকে ধিক্কার দিয়েছিলেন। আবার উদ্দীপকে চক্রের সদস্যরা ভয়ে জঙ্গলে লুকিয়েছে ও পরে একযোগে পেছন থেকে হামলা চালিয়েছে। গদ্যাংশেও ওমর, সীমার, জেয়াদরা হোসেনের ভয়ে বনের মধ্যে লুকিয়েছিল। পরে হোসেন জল ফেলে দিলে তারা ধনুর্বাণ হাতে তাঁকে ঘিরে ফেলে, আর জেয়াদ পেছন থেকে লৌহশর ছোড়ে। অতএব নেতৃত্বের কাপুরুষতা, ভীরুতা ও পেছন থেকে আক্রমণের সুযোগসন্ধানী মানসিকতা উভয় ক্ষেত্রেই এক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত। চক্রনেতা ও এজিদ দুজনেই নিজেরা নিরাপদ থেকে অন্যকে সামনে ঠেলে দিয়েছে, তাই দুজনই কাপুরুষ। উদ্দীপকের নেতার অপরাধ মাদকচক্র পরিচালনা ও একজন কর্মকর্তাকে আক্রমণে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ‘কারবালা-প্রান্তর’-এর বর্ণনা ও পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এজিদ ক্ষমতার লোভে ষড়যন্ত্র করে হোসেনের ভাই হাসান, হাসানের পুত্র কাসেমসহ পরিবারের অনেক সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তার বাহিনী ফোরাতকূল দ্বিগুণ সেনা দিয়ে ঘিরে রেখে হোসেনের পরিবারকে দিনের পর দিন জল থেকে বঞ্চিত করেছে, ফলে শিশুসহ অনেকে পিপাসায় মারা গেছে। এজিদ নিরীহ সৈন্যদের অর্থের লোভ দেখিয়ে ধর্মভয় ভুলিয়ে যুদ্ধে নামিয়েছিল। তার সৈন্যরা নিরস্ত্র হোসেনকে পেছন থেকে তির ছুড়ে হত্যা করেছে, যা চরম অন্যায় ও যুদ্ধনীতিবিরোধী। এসব বিবেচনায় এজিদের অপরাধের ব্যাপ্তি, নৃশংসতা ও পরিণতি উদ্দীপকের চক্রনেতার তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও