ইতিহাস ২য় পত্র • বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
‘আলফা’ রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ সরকারের বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে জনপ্রিয় নেতা রহমান দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবন্দি ছিলেন। সরকার সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়ার শর্তে তাঁকে মুক্তির প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর আন্তর্জাতিক চাপ ও অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে নতুন প্রেসিডেন্ট তাঁকে মুক্তি দেন এবং নিষিদ্ধ দলগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। পরবর্তী সময়ে সকল নাগরিকের ভোটে নির্বাচন হলে রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য তিনি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট যৌথভাবে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান।
- ক)(1)
ম্যান্ডেলা কত খ্রিস্টাব্দে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান?
- খ)(2)
‘রিভোনিয়া ট্রায়াল’ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রহমান চরিত্রটি ম্যান্ডেলার জীবনের কোন দিকটি তুলে ধরে? মুক্তির পটভূমিসহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘ম্যান্ডেলা ও ডি ক্লার্ক—উভয়েই নোবেল পুরস্কারের যোগ্য ছিলেন’—উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে ফ্রেডারিক উইলিয়াম দ্য ক্লার্কের সাথে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এএনসি অহিংস পথ ছেড়ে সহিংস আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিলে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ৫ আগস্ট সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলার অভিযোগে ম্যান্ডেলাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে যে বহুল আলোচিত মামলা পরিচালিত হয়, তা-ই ‘রিভোনিয়া ট্রায়াল’ নামে পরিচিত। এই মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে রোবেন দ্বীপের কারাগারে প্রেরিত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহমান চরিত্রটি ম্যান্ডেলার দীর্ঘ কারাজীবন, আপসহীন মনোভাব ও মুক্তির পর রাষ্ট্রপতি হওয়ার দিকটি তুলে ধরে।
ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবন্দি ছিলেন, যার ১৮ বছর কেটেছে রোবেন দ্বীপে। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে বোথা সরকার সশস্ত্র সংগ্রাম পরিত্যাগের শর্তে মুক্তির প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হননি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট (সিনিয়র) বুশ ঘোষণা দেন, ছয় মাসের মধ্যে ম্যান্ডেলাকে মুক্তি না দিলে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ বাড়ানো হবে। এই চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট ডি ক্লার্ক ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি ম্যান্ডেলাকে মুক্তি এবং এএনসিসহ ৩৩টি দল ও সংস্থার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তি পান। পরে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচনে এএনসি জয়ী হলে ১০ মে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
উদ্দীপকের রহমানের কারাবাস, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, আন্তর্জাতিক চাপে মুক্তি ও রাষ্ট্রপতি হওয়ার ঘটনাগুলো ম্যান্ডেলার জীবনের এই দিকগুলোরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমি মনে করি উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে রহমান ও সাবেক প্রেসিডেন্টের যৌথভাবে পুরস্কার পাওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা ম্যান্ডেলা ও ডি ক্লার্কের ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের যৌথ নোবেল শান্তি পুরস্কারের কথা মনে করিয়ে দেয়। উভয়ের অবদান নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
ম্যান্ডেলার অবদান:
১. তিনি এএনসির যুবদল গঠন করে বর্ণবিদ্বেষী আইনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেন এবং প্রথমে গান্ধীর আদর্শে অহিংস আন্দোলন করেন।
২. ২৭ বছর কারাবাস সত্ত্বেও তিনি আপস করেননি এবং কারাগারে থেকেও আইনের উচ্চতর ডিগ্রি নেন।
৩. মুক্তির পর আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রেখে তিনি ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে সকল বর্ণের মানুষের ভোটে রাষ্ট্রপতি হন এবং ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।ডি ক্লার্কের অবদান:
১. শ্বেতাঙ্গ শাসনের সমর্থক ন্যাশনাল পার্টির নেতা হয়েও তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে বর্ণবৈষম্যহীন দেশ গড়ার ঘোষণা দেন।
২. ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এএনসি ও কমিউনিস্ট পার্টির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন এবং ম্যান্ডেলাসহ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেন।
৩. নতুন সংবিধানের জন্য আলোচনার দ্বার খুলে দেন এবং ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে গণভোটের মাধ্যমে বর্ণবৈষম্যের অবসান ঘটান।একজন সংগ্রামের মাধ্যমে ও অন্যজন ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রক্তপাতহীন রূপান্তর সম্ভব করেছিলেন। তাই উভয়ের যৌথ নোবেল পুরস্কার যথার্থ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও