বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

নওগাঁর কৃষক জব্বার মিয়া তার দাদার কাছে শুনেছেন, স্বাধীনতার পর তাদের গ্রামে প্রতি বিঘা জমিতে যে পরিমাণ ধান হতো, উন্নত বীজ ও আধুনিক চাষপদ্ধতির কারণে এখন তার চেয়ে অনেক বেশি ফলন হয়। অথচ গত কয়েক বছরে গ্রামের আশপাশে বাড়িঘর, কলকারখানা ও রাস্তাঘাট নির্মাণের কারণে চাষের জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। জব্বার মিয়ার আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে একদিন বড় সংকট দেখা দেবে।

  1. ক)

    বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের মাটিকে কেন গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জব্বার মিয়ার গ্রামে জমির পরিমাণ কমা সত্ত্বেও কীভাবে অধিক ফলন সম্ভব হচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জব্বার মিয়ার আশঙ্কা কেন যৌক্তিক? ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হলো মাটি বা ভূমি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই মাটিতে ফসল ফলাতে বেশি পুঁজির প্রয়োজন পড়ে না। মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ফসল, ফল, শাকসবজি ও বনজসম্পদের প্রসার ঘটানো যায়। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর, খাদ্যনিরাপত্তা বিধান এবং মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়। এসব কারণে মাটিকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে জমি কমলেও জব্বার মিয়ার গ্রামে ফলন বেড়েছে। এর কারণ হলো উন্নত প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং চাষাবাদের নিয়মকানুন মেনে চলা।
    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও খাদ্য উৎপাদন তিন গুণ বাড়াতে পেরেছে। উন্নত প্রযুক্তি ও বীজ ব্যবহারে একই জমিতে বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বছরে একাধিকবার ফসল ফলানোর সুযোগ থাকায় উর্বর মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে। তাই চাষের জমি কমলেও খাদ্য সংকট তেমন দেখা দেয়নি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জব্বার মিয়ার আশঙ্কা যৌক্তিক। কারণ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাড়িঘর, কলকারখানা, পুল, রাস্তাঘাট ও শহর-উপশহর নির্মাণে বাংলাদেশের উর্বর কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। জমি কমতে থাকলে প্রযুক্তি দিয়েও একসময় বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য জোগানো কঠিন হবে। পাশাপাশি পানিদূষণ ও দুষ্প্রাপ্যতাও খাদ্যোৎপাদনকে ব্যাহত করতে পারে।
    ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা: ভূমি আমাদের খাদ্য, শাকসবজি, ফল ও বনজসম্পদের প্রধান উৎস। পরিকল্পিতভাবে ভূমি ব্যবহার না করলে জাতীয় জীবনে বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। তাই কৃষিজমি, বসতি, শিল্প ও রাস্তাঘাটের জন্য আলাদা এলাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং উর্বর জমিতে অকৃষি স্থাপনা নিরুৎসাহিত করতে হবে।
    মতামত: খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধরে রাখতে ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার অপরিহার্য। এর ফলে একদিকে উন্নয়ন চলবে, অন্যদিকে কৃষিজমি রক্ষা পাবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও