বাংলা ১ম পত্র • নিরীহ বাঙালি

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

সোহেলের দোকানে ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়ে চকচকে নকল গয়না, প্রসিদ্ধ ব্র্যান্ডের নামের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি সস্তা প্রসাধনী আর নানা রকম সাজের জিনিস। চাল-ডাল বা প্রয়োজনীয় পণ্য সে রাখে না। কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে, “ওসব বেচতে অনেক খাটুনি, এই জিনিসগুলোতে লাভও বেশি, ঝামেলাও কম।”

  1. ক)

    কুন্তলীন ও কেশলীন কী?

    (1)
  2. খ)

    “আমরা খাঁটি সোনা রূপা বা হীরা জওয়াহেরাত রাখি না, কারণ টাকার অভাব।”— লেখিকা কেন একথা বলেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সোহেলের দোকানের পণ্যসামগ্রী ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বর্ণিত বাঙালির দোকানের সঙ্গে কীভাবে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “সোহেলের মতো ব্যবসায়ীদের কারণে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”— ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কুন্তলীন ও কেশলীন লেখকের আমলে জনপ্রিয় চুলে দেওয়ার তেলের নাম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখিকা এখানে বাঙালির ব্যবসায়ের দুর্বলতাকে ব্যঙ্গ করেছেন। খাঁটি সোনা-রূপা বা হীরা রাখতে হলে প্রচুর পুঁজি ও পরিশ্রম লাগে। বাঙালি ব্যবসায়ীরা সেই কষ্ট স্বীকার করতে চায় না। তাই তারা টাকার অভাবের অজুহাত দিয়ে নকল হীরার আংটি, রাঙা পিতলের অলংকার প্রভৃতি রাখে এবং এতেই সন্তুষ্ট থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সোহেলের দোকানের পণ্যসামগ্রী প্রবন্ধে বর্ণিত বাঙালির দোকানের সঙ্গে প্রায় হুবহু সংগতিপূর্ণ।

    প্রবন্ধে লেখিকা বলেছেন, বাঙালির দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস থাকে না। সেখানে থাকে কেবল বিলাসদ্রব্য, রাঙা পিতলের অলংকার, নকল হীরার আংটি, নানা রকম কেশতৈল ইত্যাদি। কেউ কষ্ট করে ভালো তেল তৈরি করলে বাঙালি তার নকল বাজারে ছাড়ে। যেমন ‘কুন্তলীনের’ সঙ্গে ‘কেশলীন’। এর কারণ হলো এসব ব্যবসায়ে কায়িক পরিশ্রম নেই।

    উদ্দীপকে সোহেলের দোকানেও নকল গয়না, ব্র্যান্ডের নকল প্রসাধনী ও সাজের জিনিস রয়েছে। সে চাল-ডালের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য রাখে না, কারণ তাতে পরিশ্রম বেশি। সুতরাং এ দিক থেকে উদ্দীপক ও প্রবন্ধ সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।

    ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে লেখিকা ব্যঙ্গের ছলে দেখিয়েছেন, পরিশ্রম এড়াতে গিয়ে বাঙালি ব্যবসায়ীরা নকল ও অপ্রয়োজনীয় পণ্যে ডুবে আছে। এর ফল জাতির জন্য ক্ষতিকর।

    ১. প্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব: সোহেল চাল-ডালের মতো দরকারি জিনিস বেচে না। প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, ধান-চালের ব্যবসায়ে পরিশ্রম লাগে বলে বাঙালি তা করে না। ফলে সমাজে মৌলিক চাহিদা মেটানোর পথ সংকুচিত হয়।

    ২. ক্রেতার ক্ষতি: নকল প্রসাধনী ও গয়না ক্রেতাকে প্রতারিত করে এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতিও করতে পারে। প্রবন্ধে ‘রোগবর্ধক ঔষধ’ ও ‘মস্তিষ্ক উষ্ণকারী’ দ্রব্যের কথা বলে লেখিকা সেই ঝুঁকির প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    ৩. উদ্ভাবনের অভাব: যে একজন পরিশ্রম করে ভালো কিছু তৈরি করে, অন্যরা তার নকল বের করে। এতে সৎ উদ্যোক্তা নিরুৎসাহিত হয় এবং জাতির অর্থনৈতিক অগ্রগতি থেমে যায়।

    সুতরাং সোহেলের মতো ব্যবসায়ীদের এই মনোভাব ব্যক্তি ও জাতি উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও