ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমী খিলাফত (৯০৯-১১৭১ খ্রি.)
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
'খ' দেশে দীর্ঘ কুশাসনের ফলে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। মাসের পর মাস সেনাদের বেতন বাকি পড়ায় দেশের প্রতিরক্ষা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যায়। এ অবস্থায় দেশটির গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রতিবেশী 'ক' দেশের রাজা জনাব রফিককে দেশ দখল করে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। রফিক তাঁর অভিজ্ঞ সেনাপতি জনাব আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি বিশাল বাহিনী পাঠান। আনোয়ার দেশটি জয় করে একটি নতুন নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেটিকে রাজধানী ঘোষণা করেন। পরে তাঁর অনুরোধে রফিক নিজে সেখানে গিয়ে জনগণের উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন।
- ক)(1)
আল-মুইজ কত খ্রিষ্টাব্দে মিশরে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন?
- খ)(2)
আল-মুইজের মিশর বিজয়ের প্রাক্কালে মিশরের প্রতিরক্ষা দুর্বল ছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আনোয়ারের ভূমিকার সাথে আল-মুইজের কোন সেনাপতির ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উদ্দীপকের 'খ' দেশের মতো মিশরের তৎকালীন অবস্থাই আল-মুইজের মিশর বিজয়কে সম্ভব করেছিল' - তুমি কি একমত? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আল-মুইজ ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি জওহরের নেতৃত্বে মিশরে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আল-মুইজের মিশর বিজয়ের প্রাক্কালে ইখশিদ বংশীয় শাসক কাফুর মিশর শাসন করছিলেন। তাঁর বিশ বছরের কুশাসনে মিশর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শাসকবর্গ বহুদিন ধরে সেনাবাহিনীর বেতন ও ভাতা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়ে। ফলে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিশয় দুর্বল হয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আনোয়ারের ভূমিকার সাথে আল-মুইজের সুযোগ্য সেনাপতি জওহরের ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে।
জওহর ছিলেন আল-মুইজের প্রখ্যাত সেনাপতি। ৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে মরক্কো অভিযানে তিনি সামান্য বাধার মুখে মরক্কোকে ফাতেমীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। এরপর ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আহ্বানে আল-মুইজ তাঁর নেতৃত্বেই মিশরে বিশাল সৈন্যবাহিনী পাঠান। মিশর জয়ের পর জওহর 'আল-কাহিরা' নামে একটি নতুন নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেটিকে মিশরের রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত করেন, যা বর্তমানে কায়রো নগরী। তাঁর অনুরোধে আল-মুইজ ৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে মিশরে গমন করে প্রাণঢালা সংবর্ধনা লাভ করেন।
উদ্দীপকের আনোয়ারও বিশাল বাহিনী নিয়ে দেশ জয় করেন, নতুন নগরী প্রতিষ্ঠা করে রাজধানী ঘোষণা করেন এবং তাঁর অনুরোধে রাজা এসে সংবর্ধনা পান। এ কারণে আনোয়ারের ভূমিকা সেনাপতি জওহরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'খ' দেশের কুশাসন ও দুর্বল প্রতিরক্ষা যেমন 'ক' দেশের বিজয়ের সুযোগ তৈরি করেছিল, মিশরের তৎকালীন অবস্থাও আল-মুইজের বিজয়ের অনুকূল ছিল। তবে আমার মতে, শুধু পরিস্থিতি নয়, আল-মুইজের দূরদর্শিতা, সামরিক প্রস্তুতি ও সুযোগ্য নেতৃত্বও এ বিজয়ের সমান গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। তাই বক্তব্যটির সাথে আংশিক একমত।
পরিস্থিতির ভূমিকা: মিশরে ইখশিদ বংশীয় কাফুরের বিশ বছরের কুশাসনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় মিশরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিজেরাই আল-মুইজকে মিশর দখল করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। ফলে বিজয়ের জন্য রাজনৈতিক ও জনসমর্থনের ক্ষেত্র আগে থেকেই তৈরি ছিল।
আল-মুইজের নিজস্ব ভূমিকা: (ক) আল-মুইজ পূর্বসূরিদের চেয়ে অধিক রাজ্যবিজয়ের আশা পোষণ করতেন; তাঁর পিতা ও পিতামহের একমাত্র স্বপ্ন ছিল মিশর বিজয়, যা বাস্তবায়নের জন্য তিনি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। (খ) তিনি নৌ ও সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠন করে শক্তিশালী করেছিলেন। (গ) মরক্কো বিজয়ে সাফল্যের মাধ্যমে তিনি আগেই সেনাপতি জওহরের যোগ্যতা প্রমাণ করেছিলেন এবং তাঁর ওপরই মিশর অভিযানের দায়িত্ব দেন। (ঘ) বিজয়ের পর তিনি নিজে মিশরে গিয়ে মহামারি ও দুর্ভিক্ষে ক্লিষ্ট জনগণের দুঃখ লাঘবের ব্যবস্থা নেন, ফলে বিজয় স্থায়ী হয়।
উপসংহার: কাফুরের কুশাসন বিজয়ের সুযোগ এনে দিলেও সেই সুযোগকে কাজে লাগানোর মতো সামরিক প্রস্তুতি ও নেতৃত্ব আল-মুইজের ছিল বলেই মিশর ফাতেমীয় সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। তাই পরিস্থিতি ও আল-মুইজের যোগ্যতা - দুটির সমন্বয়েই এ বিজয় সম্ভব হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও