ইতিহাস ২য় পত্র • বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
‘বিটা’ দেশের ধর্মযাজক ফাদার ডেভিড কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে থাকেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে সতর্ক করেন যে পরিস্থিতি বারুদের মতো, যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে; কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। এক দাঙ্গার সময় তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের পাশে দাঁড়ান এবং বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধের পক্ষে জনমত গড়েন। এতে দেশের মুদ্রার দাম পড়ে যায় ও অনেক শ্রমিক চাকরি হারায়। তবু তিনি অহিংস পথ ছাড়েননি। পরে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।
- ক)(1)
ডেসমন্ড টুটু কত খ্রিস্টাব্দে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন?
- খ)(2)
ডেসমন্ড টুটু শিক্ষকতা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ফাদার ডেভিডের গৃহীত পদক্ষেপের ফলাফল ডেসমন্ড টুটুর কোন ঘটনার ফলাফলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘ডেসমন্ড টুটু শুধু বর্ণবাদবিরোধী নেতা নন, একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মীও’—উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডেসমন্ড টুটু ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ডেসমন্ড টুটু স্কুলশিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সে সময় বাণ্টু শিক্ষা আইন কার্যকর ছিল, যার ফলে কৃষ্ণাঙ্গদের মানসম্মত লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না। এই আইনকে তিনি কালো আইন হিসেবে দেখতেন এবং এর প্রতিবাদে শিক্ষকতার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি ধর্মবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরে ধর্মযাজক হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ফাদার ডেভিডের গৃহীত পদক্ষেপের ফলাফল ডেসমন্ড টুটুর বিদেশি বিনিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের ঘটনার ফলাফলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে সুয়েটোতে দাঙ্গা হলে টুটু কৃষ্ণাঙ্গদের সমর্থন দেন এবং জনগণকে বিদেশি বিনিয়োগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করেন। এর ফলে আমেরিকার রিগান সরকার ও ব্রিটিশ সরকার দক্ষিণ আফ্রিকায় বিনিয়োগ বন্ধ করে দেয়। এতে আফ্রিকার মুদ্রার প্রায় ৩৫% দরপতন হয় এবং বহু কৃষ্ণাঙ্গ চাকরি হারায়। শ্রমিকদের কষ্ট কমাতে টুটু তাদের বোঝান যে এটি একটি মহৎ কষ্ট, কারণ একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলন করা হচ্ছে।
উদ্দীপকেও ফাদার ডেভিড দাঙ্গার সময় কৃষ্ণাঙ্গদের পাশে দাঁড়ান ও বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধের পক্ষে জনমত গড়েন, যার ফলে মুদ্রার দাম পড়ে যায় এবং শ্রমিকরা চাকরি হারায়। তাই উভয় ঘটনার ফলাফলে মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকের ফাদার ডেভিড যেমন অহিংস থেকে নিপীড়িতদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, টুটুও তেমনি কেবল বর্ণবাদ নয়, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করেছেন। তাঁর বহুমুখী ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রাম: তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণবাদবিরোধী লেকচার দেন, প্রধানমন্ত্রী ভোস্টারকে সতর্ক করে চিঠি লেখেন এবং ১৯৭৬-৭৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ধর্মযাজকদের মহাসচিব হিসেবে লড়াই চালিয়ে যান। তিনি সবসময় অহিংস ছিলেন এবং এএনসির সশস্ত্র পন্থা সমর্থন করেননি। ১৯৮৩ সালে নতুন সংবিধানে অ্যান্টি-অ্যাপার্থাইড বিষয়টি যুক্ত হওয়া তাঁর বড় বিজয় ছিল। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, যিনি কেপটাউনের ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালন করেন।
২. সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্র: তিনি এইডস, দারিদ্র্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং নারী অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন।
৩. শিক্ষা বিস্তার: ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে তিনি জেক গারওয়েটের সাথে মিলে টুটুর নামে একটি শিক্ষা ট্রাস্ট গঠন করেন।
৪. পরিবেশ ও শান্তি: বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী হিসেবেও নিজের অবস্থান সুসংহত করেন এবং নিরস্ত্রীকরণে ভূমিকা রাখেন।
৫. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।অতএব, বর্ণবাদের অবসানের পরও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তাঁর কাজ অব্যাহত থাকায় তাঁকে একজন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী বলা যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও