ভূগোল ১ম পত্র • ব্যবহারিক: মানচিত্র ও স্কেল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি পৌরসভার জরিপ দলের সদস্য নাহিদ নগরের একটি এলাকার মানচিত্র আঁকছে। সে দেখল, সরল মাপনীতে কিলোমিটার ও শত মিটার পর্যন্ত মাপা গেলেও দূরত্বের ছোট অংশ, অর্থাৎ ১০ মিটার পর্যন্ত নিখুঁত মাপ পাওয়া যাচ্ছে না। তার সহকর্মী পরামর্শ দিল, সরল মাপনীর গৌণ বিভাগগুলোকে আবার ভাগ করে একটি উন্নত মাপনী আঁকতে, যেখানে ৫ সেমি = ১ কিমি ধরা হবে।

  1. ক)

    কর্ণীয় স্কেল বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    কীভাবে কর্ণীয় স্কেলের সাহায্যে নিখুঁত মানচিত্র আঁকা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রয়োজন অনুযায়ী ৫ সেমি = ১ কিমি স্কেলে কর্ণীয় মাপনী অঙ্কনের ধাপগুলো বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নাহিদ শুধু সরল মাপনী ব্যবহার করলে এবং কর্ণীয় মাপনী ব্যবহার করলে পৌরসভার মানচিত্র অঙ্কনে কী পার্থক্য হবে? ৩.৪৬ কিমি দূরত্ব পাঠের উদাহরণসহ তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরল মাপনীর গৌণ বিভাগগুলোকে পুনরায় ভাগ করার পদ্ধতিতে অঙ্কিত মাপনীকে কর্ণীয় স্কেল বা কর্ণীয় মাপনী বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরল মাপনী মুখ্য ও গৌণ এ দুটি অংশে বিভক্ত। কর্ণীয় মাপনীতে গৌণ বিভাগগুলোকে আরও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা হয়। এই ক্ষুদ্র ভাগগুলো মাপনীর ওপরের দিকে থাকে। এর সাহায্যে দশমিক বা একই জাতীয় দুই বা তিন প্রকার এককের (যেমন গজ, ফুট, ইঞ্চি) মাপ সহজেই নেওয়া যায়। ফলে সরল মাপনীর চেয়ে সূক্ষ্ম মাপ পাওয়া যায় এবং মানচিত্র নিখুঁতভাবে আঁকা সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রয়োজন মেটাতে ৫ সেমি = ১ কিমি স্কেলে একটি কর্ণীয় মাপনী আঁকা হবে, যাতে কিমি, শত মিটার ও ১০ মিটার পর্যন্ত মাপা যায়। ধাপগুলো নিম্নরূপ:
    ১. একটি সরলরেখা টেনে তাকে ৫ সেমি করে সমান কয়েকটি মুখ্য ভাগে ভাগ করতে হবে (যেমন ৪টি, প্রতিটি ১ কিমি নির্দেশক)। শূন্য (০) দাগের ডান দিকে মুখ্য বিভাগগুলো আঁকতে হবে।
    ২. শূন্য দাগের বাম দিকে একটি মুখ্য ভাগকে (৫ সেমি) ১০টি সমান গৌণ ভাগে ভাগ করতে হবে; প্রতিটি গৌণ ভাগ (৫ মিমি) ১০০ মিটার নির্দেশ করবে।
    ৩. রেখাটির ওপর একটি আয়তক্ষেত্র আঁকতে হবে এবং তার উচ্চতাকে ১০টি সমান ভাগে ভাগ করে সমান্তরাল রেখা টানতে হবে।
    ৪. প্রতিটি ভাগবিন্দু থেকে উল্লম্ব রেখা টেনে এবং শূন্যের বামের গৌণ ভাগের নিচের বিন্দুকে তির্যকভাবে (কর্ণ) পরের গৌণ ভাগের ওপরের বিন্দুর সাথে যুক্ত করে কর্ণ রেখাগুলো আঁকতে হবে। এতে ১০০ মিটারের প্রতিটি ভাগ আবার ১০ ভাগে ভাগ হবে, যার প্রতিটি ১০ মিটার নির্দেশ করে।
    ৫. সবশেষে মুখ্য, গৌণ ও কর্ণের ভাগগুলোতে যথাক্রমে কিমি, শত মিটার ও ১০ মিটার লিখে দিতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরল মাপনীতে শুধু মুখ্য ও গৌণ বিভাগ থাকে। ৫ সেমি = ১ কিমি স্কেলে এটি দিয়ে ৩ কিমি ও ৪টি শত মিটার (৩.৪ কিমি) পর্যন্ত পাঠ নেওয়া যায়, কিন্তু অবশিষ্ট ৬০ মিটার অনুমানে ধরতে হয়। এতে মাপে ত্রুটি থাকে।
    কর্ণীয় মাপনীতে গৌণ বিভাগকে আরও ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করা হয় বলে ৩.৪৬ কিমি পাঠ নেওয়ার পদ্ধতি হবে: ডান দিকের ৩ নম্বর মুখ্য দাগ থেকে শুরু করে বামের গৌণ বিভাগে ৪টি (৪০০ মিটার) ধরা হবে। তারপর কর্ণ রেখা বরাবর ওপরের দিকে ৬টি আনুভূমিক রেখা (৬০ মিটার) পর্যন্ত ওঠা হবে। এভাবে ৩ কিমি + ৪০০ মিটার + ৬০ মিটার = ৩.৪৬ কিমি সরাসরি পাওয়া যায়।
    পার্থক্য: কর্ণীয় মাপনীতে মাপের সূক্ষ্মতা বেশি, অনুমানের প্রয়োজন হয় না এবং মানচিত্রে দালান, রাস্তা, পুকুরের মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিখুঁত দূরত্বে আঁকা যায়। তবে অঙ্কন কিছুটা জটিল ও সতর্কতাসাপেক্ষ।
    মতামত: পৌরসভার মতো বৃহৎ স্কেলে নিখুঁত জরিপের কাজে কর্ণীয় মাপনীই অধিক উপযোগী, কারণ এতে ১০ মিটার পর্যন্ত নির্ভুল মাপ পাওয়া যায়, যা সরল মাপনীতে সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও