বাংলা ১ম পত্র • অন্ধবধূ
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বৃদ্ধ ইব্রাহিম মাস্টার দুই বছর আগে দৃষ্টি হারিয়েছেন। ছেলেমেয়েরা চায় তিনি ঘরের ভেতরেই থাকুন। কিন্তু প্রতিদিন বিকেলে তিনি নাতনির হাত ধরে নদীর ঘাটে যান। জলের কলকল শব্দ শোনেন, ঠান্ডা হাওয়া গায়ে মাখেন আর পুরোনো দিনের গল্প বলেন। তিনি বলেন, “ঘরের চার দেয়ালে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। এখানে এলে মনে হয়, কেউ যেন স্নেহের হাতে আমার কপাল ছুঁয়ে দিচ্ছে।”
- ক)(1)
‘অন্ধবধূ’ কবিতার কবি কোন গ্রামের মানুষ ছিলেন?
- খ)(2)
“পরশ তাহার মায়ের স্নেহের মতো”—চরণটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
“টানিস কেন? কিসের তাড়াতাড়ি—সেই তো ফিরে যাব আবার বাড়ি”—অন্ধবধূর এই মনোভাবের কারণ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ পায়নি, কেবল একটি অংশ প্রকাশ পেয়েছে।”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জন্ম নদীয়া জেলার জামশেদপুর গ্রামে। তাঁর রচনায় গ্রামবাংলার রূপ ফুটে উঠেছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এখানে ‘তাহার’ বলতে দিঘির স্নিগ্ধ শীতল জলকে বোঝানো হয়েছে। অন্ধবধূর কাছে জলের স্পর্শ মায়ের স্নেহের মতো কোমল ও সান্ত্বনাদায়ক মনে হয়। ঘাটে বসে জলের স্পর্শ ও ননদের সঙ্গে আলাপে সে মনের ব্যথা কিছুক্ষণের জন্য ভুলতে পারে। এতে প্রকৃতির প্রতি তার নির্ভরতা ও মানসিক শান্তির সন্ধান প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অন্ধবধূর এই মনোভাবের কারণ ঘরে ফিরলে তাকে আবার একলা-থাকা গৃহকোণের নিঃসঙ্গতায় বন্দি থাকতে হবে। ঘাটে স্নিগ্ধ জলের ধারে ননদের সঙ্গে সে মন খুলে কথা বলতে পারে, জলের স্পর্শে শান্তি পায়; তাই ফিরে যেতে তার তাড়া নেই। উদ্দীপকে ইব্রাহিম মাস্টারও দৃষ্টি হারানোর পর ঘরের চার দেয়ালে দম বন্ধ হওয়ার কথা বলেন। নদীর ঘাটে জলের শব্দ ও হাওয়ার স্পর্শে তিনি স্নেহের পরশ অনুভব করেন। অর্থাৎ বদ্ধ ঘরের একাকিত্ব এড়িয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সান্ত্বনা পাওয়াই দুজনের মনোভাবের কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় দৃষ্টিহীন বধূর প্রকৃতির প্রতি অনুভব, অন্ধত্বের বেদনা, স্বামীর আবার বিয়ে নিয়ে অভিমান, কাঁদার সুখ হারানোর কষ্ট এবং প্রকৃতির স্নেহস্পর্শে সান্ত্বনা—সবকিছু মিলে এক সমগ্র ভাব গড়ে উঠেছে। উদ্দীপকে এর কেবল একটি অংশ ধরা পড়েছে। ১. প্রকাশিত অংশ: উদ্দীপকে ইব্রাহিম মাস্টার ঘরের বদ্ধ পরিবেশ ছেড়ে নদীর ঘাটে গিয়ে জলের শব্দ ও হাওয়ার স্পর্শে স্নেহের পরশ অনুভব করেন। কবিতায়ও বধূ জলের পরশে মায়ের স্নেহ খুঁজে পায় ও একাকিত্ব ভোলে। ২. অপ্রকাশিত অংশ: কবিতায় আছে ঝরা-বকুল ও কোকিলের ডাকে ঋতু চেনার অনুভব, পিছল সিঁড়িতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা, স্বামীর পুনর্বিবাহের ভাবনা ও ‘চোখ গেল’ পাখির প্রসঙ্গে কান্নার না-পাওয়া—যার কোনোটিই উদ্দীপকে নেই। ৩. পার্থক্য: ইব্রাহিমের ভাবনা বার্ধক্যে দৃষ্টি হারানোর আক্ষেপ ও নিঃসঙ্গতাকেন্দ্রিক; বধূর বেদনা জন্মান্ধতা ও দাম্পত্য জীবনের অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং উদ্দীপকে কবিতার আংশিক ভাব মাত্র প্রতিফলিত হয়েছে, সমগ্র ভাব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও