সাহিত্য পাঠ • প্রত্যাবর্তনের লজ্জা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

রিয়াদ একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি পরীক্ষা দিতে সে ভোরের বাসে রওনা হয়েছিল। কিন্তু পথে যানজটে আটকে যাওয়ায় সে পৌঁছাতে পারেনি, পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। মন খারাপ করে সে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে। উঠানে পা রাখতেই মা ছুটে এসে তাকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন, ‘যাক, তুই ফিরে এসেছিস, এতেই আমার শান্তি।’ মায়ের বুকে মুখ গুঁজে রিয়াদের সব গ্লানি যেন মুছে গেল।

  1. ক)

    ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি আল মাহমুদের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    “এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম।”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রিয়াদের ফিরে আসার ঘটনাটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কোন দিকটির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার ভাব আংশিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।”—মন্তব্যটি যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি আল মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ট্রেন ধরতে না পারার হতাশা ও ব্যর্থতার গ্লানিতে কবির মানসিক অবসাদকে এখানে বোঝানো হয়েছে। শেষ ট্রেন হারানোর পর কবি যেন অসাড় হয়ে পড়েন। তাঁর ঘুম আসে, কিন্তু সে ঘুমে কোনো স্বপ্ন বা আশা নেই। স্বপ্নহীন সেই নিদ্রাকে কবি মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ‘নিহত’ শব্দটি দ্বারা তাঁর অনুভূতির তীব্রতা প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রিয়াদের ফিরে আসার ঘটনাটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে মায়ের আশ্রয়ে ফিরে আসার দিকটির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    কবিতায় কবি শেষ ট্রেন ধরতে না পেরে পরাজিতের মতো ঘরে ফেরেন। ফেরার পথে তাঁর মনে লজ্জা কাজ করে। কিন্তু মা তাঁকে দেখে হেসে ফেলেন এবং বলেন, ‘ভালোই হলো তোর ফিরে আসা।’ কবি মাকে জড়িয়ে ধরে তাঁর লজ্জা ঘষে ঘষে তুলে ফেলার কথা বলেন।

    উদ্দীপকে রিয়াদও যানজটের কারণে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এবং বিষণ্ণ মনে বাড়ি ফিরেছে। মা তাকে তিরস্কার না করে বুকে টেনে নিয়েছেন, ফলে তার গ্লানি মুছে গেছে। এভাবে ব্যর্থতার পর মায়ের স্নেহময় আশ্রয়ে সান্ত্বনা লাভের দিকটিতে উদ্দীপক ও কবিতা সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে কবিতার মূল ভাবের একটি অংশ প্রতিফলিত হয়েছে, কিন্তু সম্পূর্ণ ভাব নয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রিয়াদ পরীক্ষা দিতে না পেরে লজ্জিত মনে ফিরে এসেছে এবং মায়ের স্নেহে সান্ত্বনা পেয়েছে। এটি কবিতার শেষ অংশের ভাবের সঙ্গে মেলে, যেখানে কবি মাকে জড়িয়ে ধরে প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মুছে ফেলেন।

    কিন্তু ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার পরিধি এর চেয়ে বিস্তৃত। কবিতায় জাহানারা, ফরহাদ, লাইলী ও নাহারার সতর্ক প্রস্তুতির সঙ্গে নিজের অগোছালো স্বভাবের তুলনা আছে। আছে সাত মাইল হেঁটে অজ্ঞাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপার চিত্র, ফেরার পথে নদী, গ্রাম, বকের ঝাঁক ও আটচালার বর্ণনা এবং আব্বার কুরআন তিলাওয়াত। শহরমুখী জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা এবং গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির মাতৃতুল্য আশ্রয়ের ভাবও এতে প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে এসব দিক অনুপস্থিত।

    অতএব, উদ্দীপকে কবিতার মায়ের আশ্রয়ে ফেরার দিকটিই কেবল প্রকাশ পেয়েছে, সম্পূর্ণ ভাব নয়। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও