বাংলা ১ম পত্র • অভাগীর স্বর্গ
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মায়ের মৃত্যুর পরদিন থেকেই আত্মীয়রা সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নবম শ্রেণির ছাত্র রাকিব কারো দিকে না তাকিয়ে মায়ের ব্যবহৃত চশমাটা হাতে নিয়ে উঠানের এক কোণে চুপচাপ বসে থাকে আর আকাশের দিকে চেয়ে থাকে। কেউ তার কান্না থামাতে বা কাছে বসতে এগিয়ে আসে না। দু-দিনেই তাকে আগের চেয়ে অনেক গম্ভীর ও বড় মনে হয়।
- ক)(1)
অভাগীকে মাটি দেওয়ার আগে কাঙালীর হাতে কী জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল?
- খ)(2)
“এই ঘণ্টা-দুয়েকের অভিজ্ঞতায় সংসারে সে যেন একেবারে বুড়ো হইয়া গিয়াছিল”— কেন বলা হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাকিবের নিঃসঙ্গতা ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর কোন অবস্থাকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সবাই সকল কাজে ব্যস্ত,—শুধু সেই পোড়া খড়ের আঁটি হইতে যে স্বল্প ধুঁয়াটুকু… কাঙালী ঊর্ধ্বদৃষ্টে স্তব্ধ হইয়া চাহিয়া রহিল”— উদ্দীপকের আলোকে গল্পের এই শেষ দৃশ্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অভাগীকে মাটি দেওয়ার আগে কাঙালীর হাতে একটি খড়ের আঁটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মায়ের মৃত্যুর পর সৎকারের কাঠের জন্য কাঙালী জমিদারের কাছারি, মুখুয্যে-বাড়ি ও অন্যদের কাছে গিয়েছিল। সর্বত্র সে অপমান, গলাধাক্কা ও প্রত্যাখ্যান পেয়েছে। এই অল্প সময়ে সমাজের নির্মম রূপ ও জাতিভেদের কঠিন বাস্তবতা সে চিনতে পেরেছে। তাই বয়সে বালক হলেও অভিজ্ঞতার ভারে সে বৃদ্ধের মতো পরিণত হয়ে গিয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রাকিবের নিঃসঙ্গতা গল্পের কাঙালীর মাতৃহারা ও সহায়হীন অবস্থাকে মনে করিয়ে দেয়। গল্পে মায়ের মৃত্যুর পর কাঙালী সৎকারের কাঠের জন্য সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহায়তা পায়নি। মুখুয্যে-বাড়ি, জমিদারের কাছারি—কেউ তাকে সহানুভূতি দেখায়নি। সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিল। শেষে সে নিঃশব্দে মায়ের কাছে ফিরে আসে। উদ্দীপকেও মায়ের মৃত্যুর পর আত্মীয়রা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, কেউ রাকিবের শোকে পাশে দাঁড়ায় না। ফলে সেও একা হয়ে পড়ে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গল্পের শেষ দৃশ্যটি অভাগীর স্বপ্নভঙ্গ, কাঙালীর শোক ও সমাজের নির্মমতার প্রতীকী প্রকাশ।
১. স্বপ্নের অপূর্ণতা: অভাগী বিশ্বাস করত, ছেলের হাতের আগুনের ধোঁয়া স্বর্গের রথ হয়ে দেখা দেবে। কিন্তু সে পায় কেবল খড়ের আঁটির সামান্য আগুন। কাঙালীর ঊর্ধ্বদৃষ্টি সেই ধোঁয়ার মধ্যে মায়ের স্বর্গযাত্রার চিহ্ন খুঁজছে, যা মায়ের আকাঙ্ক্ষা ও তার অপূর্ণতাকে প্রকাশ করে।
২. কাঙালীর নিঃসঙ্গ শোক: উদ্দীপকে রাকিব মায়ের চশমা হাতে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে এবং কেউ কাছে আসে না। গল্পেও সবাই নিজেদের কাজে ব্যস্ত, শুধু কাঙালী একা নিস্তব্ধ হয়ে ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। দুজনের শোকই নীরব ও নিঃসঙ্গ।
৩. সমাজের উদাসীনতা: ‘সবাই সকল কাজে ব্যস্ত’ কথাটি সমাজের সংবেদনহীনতাকে তুলে ধরে। উদ্দীপকের আত্মীয়দের সম্পত্তি-ব্যস্ততার মতো গল্পের মানুষও এক দরিদ্র বালকের শোকের প্রতি উদাসীন।
৪. পার্থক্য: রাকিবের শোক কেবল ব্যক্তিগত হলেও কাঙালীর শোকের সঙ্গে জাতিভেদ ও শ্রেণিবৈষম্যের বেদনা জড়িয়ে আছে।
তাই এই দৃশ্য গল্পের ট্র্যাজেডিকে চরম রূপ দিয়েছে এবং পাঠকের হৃদয়ে গভীর বেদনা জাগায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও