সহপাঠ • শব্দার্থ ও টীকা
সহপাঠ প্রশ্ন
হাওর অঞ্চলের কাঞ্চনপুর গ্রামের শহিদ ও রফিক বর্ষার এক সন্ধ্যায় মাছ ধরতে বের হয়। রফিক নৌকার পেছনে বসে এত সাবধানে বৈঠা ফেলে যে একটুও শব্দ হয় না। নৌকার সামনে কোঁচ হাতে দাঁড়িয়ে শহিদ পানিতে ডুবে থাকা ধানের কয়েকটি শিষ নড়তে দেখে মাছের অবস্থান আন্দাজ করে। আশপাশের নৌকার লোকেরা রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে থাকে, আর শহিদ নিমেষে কোঁচ ছুড়ে মারে।
- ক)(1)
কোঁচ কী?
- খ)(2)
'দাঁড় বাইছে, ...পানি নয়, তুলো' – কথাটি দিয়ে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শহিদের মাছ শিকারের পদ্ধতিতে 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত তাহেরের শিকারের কোন বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'শিকারির মতো তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুযোগের অপেক্ষাই মজিদের মহব্বতনগরে প্রবেশের কৌশল' – উদ্দীপক ও উপন্যাসের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোঁচ হলো মাছ ধরার জন্য নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র; এটি তীক্ষ্ণ শলাকাগুচ্ছযুক্ত বর্শাবিশেষ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কাদের নৌকার পেছনে বসে দাঁড় বাইছে, আর সামনে তাহের শিকারের জন্য প্রস্তুত। পানিতে বা নৌকায় সামান্য শব্দ হলেও মাছ পালিয়ে যাবে, তাই কাদের অত্যন্ত সতর্ক ও নিঃশব্দে নৌকা চালাচ্ছে। এই নিঃশব্দ ও কোমল গতি বোঝাতে লেখক পানিকে তুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ নৌকাটি যেন পানির ওপর দিয়ে নয়, তুলোর ওপর দিয়ে নিঃশব্দে এগিয়ে চলছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শহিদের মাছ শিকারে 'লালসালু' উপন্যাসের তাহেরের শিকারের নিঃশব্দ সতর্কতা, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও চরম মুহূর্তের দ্রুত আঘাত – এই বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে।
উপন্যাসে কাদের এমন সন্তর্পণে নৌকা চালায় যে মনে হয় নৌকা পানিতে নয়, তুলোর ওপর দিয়ে চলছে। উদ্দীপকেও রফিক এমনভাবে বৈঠা ফেলে যে কোনো শব্দ হয় না।
উপন্যাসে তাহেরের চোখে 'শিকারির সুচাগ্র একাগ্রতা'; পানিতে ডুবে থাকা ক-টা শিষ নড়ছে দেখে সে বুঝে নেয় মাছ কোথায় আছে। শিষ নড়া দেখে মাছের অবস্থান আন্দাজ করার এই ক্ষমতা উদ্দীপকের শহিদের মধ্যেও রয়েছে।
সবশেষে উপন্যাসে তাহের নিঃশ্বাসরুদ্ধ করা মুহূর্তে শরীরকে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে দ্রুত ও জোরালোভাবে কোঁচ নিক্ষেপ করে; উদ্দীপকে শহিদও রুদ্ধশ্বাস দর্শকের সামনে নিমেষে কোঁচ ছুড়ে মারে।
অতএব নৈঃশব্দ্য, একাগ্র দৃষ্টি ও নিখুঁত আঘাতে শহিদ ও তাহেরের শিকারের পদ্ধতি একসূত্রে গাঁথা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শহিদ প্রথমে নিঃশব্দে লক্ষ করে, শিষ নড়া দেখে মাছের অবস্থান বোঝে, তারপর ঠিক সময়ে আঘাত হানে। মজিদের মহব্বতনগরে প্রবেশের কৌশলেও এই শিকারি-সুলভ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
অচেনা গ্রামে ঢুকেই মজিদ বুঝে নেয়, গ্রামের মানুষগুলো 'জাহেল', 'বে এলেম' বা অশিক্ষিত হলেও নতুন মানুষ দেখে ভীষণ কৌতূহলী। শহিদ যেমন শিষ নড়া দেখে সুযোগ চেনে, মজিদও গ্রামবাসীর কৌতূহল ও অজ্ঞতাকে সুযোগ হিসেবে চিনে নেয়।
এরপর সে আঘাত হানে – ঠিক শহিদের কোঁচ ছোড়ার মতো। কোটরাগত চোখে আগুন জ্বালিয়ে, অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে সে ক্রোধ ছড়িয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে এবং মোদাচ্ছের পিরের মাজার অবহেলার অভিযোগে গ্রামবাসীকে ভর্ৎসনা করে। তাদের মুখ লজ্জায় নিচু হয়ে যায় এবং মজিদের মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে।
তবে পার্থক্যও আছে। শহিদের শিকার পরিশ্রম ও দক্ষতার সৎ উপায়, কিন্তু মজিদের কৌশল প্রতারণা ও মিথ্যার ওপর দাঁড়ানো; লেখক তার প্রবেশকে 'নাটক' বলে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
সুতরাং পর্যবেক্ষণ ও সুযোগ বুঝে আঘাতের কৌশলে মজিদ ও শহিদের মিল থাকায় উক্তিটি যুক্তিসংগত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও