ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • দিল্লি সালতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬ খ্রি.)
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
‘সোনালী টেক্সটাইল’-এর প্রতিষ্ঠাতা এমডি চল্লিশজন বিশ্বস্ত ম্যানেজারকে নিয়ে একটি শক্তিশালী পরিচালনা দল গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় তাঁরা অনুগত থাকলেও পরবর্তী দুর্বল এমডিদের আমলে তাঁরা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সব পদ দখল করে নেন। নতুন এমডি জনাব রাহাত সাহসী ও আড়ম্বরহীন হলেও ঐ দলের এক প্রভাবশালী ম্যানেজারকে বদলির আদেশ দিয়েছিলেন। সে আদেশ অমান্য করায় রাহাত তাঁকে বরখাস্ত ও আটক করালে অন্য ম্যানেজাররা ভীত হয়ে এমডির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ঠিক সে সময় বাইরের এক প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের চাপে একটি শাখা সংকটে পড়লে সেখানে সাহায্য পাঠাতেও ব্যর্থ হন রাহাত।
- ক)(1)
‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ কী?
- খ)(2)
ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জনাব রাহাতের সাথে দিল্লি সালতানাতের কোন সুলতানের শাসনামলের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে সুলতান মুইজউদ্দিন বাহরামের পতনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইলতুৎমিশের আমলের চল্লিশজন প্রভাবশালী তুর্কি আমির ও মালিকের সংঘ ইতিহাসে ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ বা চল্লিশ চক্র নামে পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইলতুৎমিশের জীবদ্দশায় চল্লিশ চক্রের আমিরগণ তাঁর আনুগত্যে ছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর সুলতান। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর একের পর এক দুর্বল শাসক সিংহাসনে বসেন। এই সুযোগে চল্লিশ চক্র শাসনব্যবস্থার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে নেয়। দুর্বল সুলতানরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় আমির ও মালিকদের শক্তি অত্যধিক বৃদ্ধি পায় এবং তারা স্বার্থদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জনাব রাহাতের সাথে দিল্লি সালতানাতের সুলতান মুইজউদ্দিন বাহরামের (১২৪০–১২৪২ খ্রি.) শাসনামলের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, দুর্বল এমডিদের আমলে ম্যানেজারদের দলটি সব গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে এবং সাহসী রাহাত ক্ষমতায় এসে তাদের একজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে বাকিরা ষড়যন্ত্র শুরু করে। সুলতান বাহরামও ছিলেন সাহসী, প্রবলপরাক্রম ও আড়ম্বরহীন। তাঁর সময়ে চল্লিশ চক্রের আমিরগণ অত্যন্ত শক্তিশালী ছিলেন। বাহরাম তাঁর গৃহাধ্যক্ষ বকরউদ্দিনকে বদাউনের শাসনকর্তা করে দিল্লির বাইরে পাঠালে তিনি আদেশ অমান্য করেন। তখন সুলতানের আদেশে তাঁকে বন্দি ও হত্যা করা হয়। এতে অন্য আমিরগণ ভীত হয়ে সুলতানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনার সাথে বাহরামের শাসনামলের পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে জনাব রাহাতের সংকটের পেছনে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও বহিঃসংকট—এই দুই কারণ প্রধান হয়ে উঠেছে। সুলতান মুইজউদ্দিন বাহরামের পতনও এই কারণগুলোর সমন্বয়েই ঘটেছিল। প্রথমত, চল্লিশ চক্রের অত্যধিক ক্ষমতা। ইলতুৎমিশ-পরবর্তী দুর্বল শাসকদের আমলে এই চক্র শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দখল করে নেয়, ফলে সুলতানের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, আমির-মালিকদের স্বার্থদ্বন্দ্ব ও ষড়যন্ত্র। বাহরামের গৃহাধ্যক্ষ বকরউদ্দিন ও উজির নিজাম-উল-মুলকের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বকরউদ্দিন সুলতানকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করলে নিজাম-উল-মুলকের পরামর্শে তাঁকে বদাউনে পাঠানো হয়, কিন্তু তিনি আদেশ অমান্য করায় বন্দি ও নিহত হন। চল্লিশ চক্রের এই শক্তিশালী আমিরের হত্যায় অন্য আমিররা ভীত হয়ে সুলতানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আরও জোরদার করেন। তৃতীয়ত, মোঙ্গল আক্রমণ। ১২৪১ খ্রিষ্টাব্দে হালাকু খানের অনুচর বাহাদুর তৈর-এর নেতৃত্বে মোঙ্গলরা পাঞ্জাবে প্রবেশ করে লাহোর দখল করে। বাহরাম লাহোরের শাসনকর্তার সাহায্যে সৈন্য পাঠালেও নিজাম-উল-মুলকের ষড়যন্ত্রে সেনারা কিছুদূর গিয়ে ফিরে আসে এবং দিল্লি আক্রমণ করে। চতুর্থত, অবশেষে বাহরাম সাদা কেল্লা থেকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরাজিত ও বন্দি হন এবং কিছুদিন পর আমির-ওমরাহগণ তাঁকে হত্যা করেন। উদ্দীপকের রাহাতের মতোই বাহরাম বাইরের সংকটে ভেতর থেকে কোনো সমর্থন পাননি। সুতরাং বলা যায়, চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা, আমিরদের ষড়যন্ত্র ও মোঙ্গল আক্রমণের সম্মিলিত চাপেই সুলতান বাহরামের পতন ঘটে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও